বুধবার  ৮ই জুলাই, ২০২০ ইং  |  ২৪শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

সূরা আল-হাক্কাহ্ (অবশ্যম্ভাবী ঘটনা) মুহম্মদ নূরুল হুদা

প্রিয় বন্ধুগণ,
সূরা আল-হাক্কাহ্ (অবশ্যম্ভাবী ঘটনা) মক্কায় অবতীর্ণ কোরআন শরীফের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। এখানে কেয়ামতের ভয়াবহ ঘটনাবলি, পাপাচারীদের শাস্তি, মুমিনদের সৌভাগ্য, কোরআন অবতীর্ণ হওয়া সহ নানা সূক্ষ্ম প্রসঙ্গ রয়েছে। হাক্কাহ্ শব্দের একটি অর্থ সত্য। এই সূরায় বর্ণিত সকল বিষয় যে অভ্রান্ত সত্য, এটিও এই অর্থের একটি দ্যোতনা। এই পবিত্রবয়ানের মর্মানুবাদের চেষ্টাও করেছি কেবল স্বশিক্ষার প্রয়োজনে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহতালার। – মু.নূ.হু.]

সূরা আল-হাক্কাহ্
(অবশ্যম্ভাবী ঘটনা)
দয়াময় দয়ালু আল্লাহর নামে


সুনিশ্চিত
ঘটবেই
সেই ঘটনা!

সুনিশ্চিত
ঘটবেই
কোন ঘটনা?

আপনি কিছু
জানেন নাকি
সুনিশ্চিত
সেই ঘটনা
কি?

আদ-গোত্র
আর
সামুদ-গোত্র
দ্বয়,
অস্বীকার
করেছিলো
মহাপ্রলয়।

অতঃপর
সামুদ-গাত্র
ধ্বংস হয়,
এলো যখন
প্রলয়ঙ্কর
বিপর্যয়।

ইতোমধ্যে
আদ-গোত্রও
ধ্বংস
হয়,
যখন প্রবল
ঝঞ্ঝা-বায়ু
বয়।

আট দিন সাত রাত্রি-ভর
অবিরাম আদ-গোত্রের ‘পর
প্রবাহিত ছিল সেই ঝড়;
আপনি যদি থাকতেন, তবে
দেখতেন গোত্র লুটিয়ে ভবে
উপড়ে-পড়া খেজুর-বৃক্ষের
গুঁড়ির মতো কী অসহায়!
পতিত সব, ভূ-লুণ্ঠিত আর মৃত ;
জীবিত কেউ নাই তথায়।

অবশিষ্ট আছে নাকি
কোনো প্রাণ;
আপনি কাউকে কি
দেখতে পান?

তারপরে তো
ফেরাউনও
এসেছিলো;
তার পূর্ববর্তী যারা,
তারাও ছিলো;
কী জঘন্য
পাপাচারে
লিপ্ত ছিল সব!
(কওমে লুতের),
উল্টে-যাওয়া
বস্তিবাসীর
আকুল
আর্তরব।
১০
তারা তাদের
পালনকর্তার
রসুলকে,
অমান্য করেছিলো
একে একে।
তাইতো তিনি
করলেন তাদের
কঠোরভাবে
ঘেরাও;
আর
সকলকেই
পাকড়াও।
১১
(অনেক আগে
নূহের কালে)
আমরা তখন
তোমাদেরকে
দিয়েছিলাম
নৌকায় তুলে,

বানের সময়
পানি যখন
উঠেছিলো
ফুলে ফুলে।
১২
এই ধরনের ঘটনা সব
বানিয়েছি শিক্ষার বিষয়।
রাখুক ধরে শুনছে যে-কান;
এসব তো আর হারাবার নয়।
১৩
তারপর যখন
শুনবে তারা
ফুৎকার,
প্রথমবারের
যেটি প্রথম
ফুৎকার;
১৪
এবং নিক্ষেপ করা হবে উঠিয়ে যখন
পৃথিবী আর পর্বতমালার ভার; তার
এক ধাক্কাতেই বিচূর্ণ সব; চুরমার।
১৫
সেইদিনই দিন ভয়ঙ্কর,
প্রলয়ঙ্কর দুর্ঘটনার।
১৬
ফেটে তখন চৌচির হবে, সর্বনাশ,
ছিন্নভিন্ন পড়বে ফেটে মহাকাশ!
১৭
মহাকাশের প্রতি প্রান্তে, সব প্রান্তে
থাকবে সেদিন সারি সারি দণ্ডায়মান
সব ফেরেশ্তা। তাদের ভেতর আটজন
মাথার ওপর প্রভুর আরশ করবে ধারণ।
১৮
সেদিন হাজির করা হবে
তোমাদেরকে জনে জন,,
থাকবে না আর কোনো কিছু
কারো কাছে সংগোপন।
১৯
ডান হাতেই দেয়া হবে
যাকে তখন কিতাব তার,
বলবে সে-ও, “পড়ে দেখো
এই কিতাবটি ঠিক আমার।
২০
আমি কিন্তু বিশ্বাস করতাম,
অবশেষে
আমার হিসাব দিতেই হবে
আমাকে এসে।”
২১
জীবনটা তার হাসিখুশি ,
সন্তুষ্টিতে ভরে যায়।
২২
অবস্থান তার জান্নাতেরই
মর্যাদাবান বাগিচায়।
২৩
তার নাগালের মধ্যে এসে
ফলমূল সব নুয়ে কাছে।
২৪
বলা হবে, খাও-দাও, আর পান
করো তৃপ্তি-মতো; সব তো আছে।
এ-সব কিছুই প্রতিদান ঢের
ইহলোকের কর্মফলের।
২৫
কিতাব যাকে দেয়া হবে যার
বাম হাতে, বলবে সে, ”হায়রে
সর্বনাশ আমার! আমাকে যদি
দেয়া না হতো কিতাব আমার!

২৬
হায়! আমি যদি
না জানতাম আর
হিসাব-নিকাশ
এ-সব আমার!
২৭
হায়! মৃত্যুই যদি
শেষ মীমাংসা
হতো আমার!
২৮
কাজে এলো না ধনজন,
কাজ দিলো না হাঁকডাক।
২৯
আমার সকল ক্ষমতা-দাপট,
হয়েছে আজ সব হালাক।“
৩০
ফেরেশ্তাদের বলা হবে,
“করো তাকে পাকড়াও;
গলায় তার বেড়ি লাগাও।
৩১
তারপর তাকে নিক্ষেপ করো
জাহান্নামে; যাও, নিয়ে যাও।
৩২
অতঃপর সুদীর্ঘ সত্তর হাত
শিকল দিয়েই তাকে বাঁধো।”
৩৩
আনেনি সে আল্লাহতালার
ওপর ঈমান (যতই সাধো) ।
৩৪
উৎসাহ সে দেয়নি আর
মিসকিনদের দিতে আহার।
৩৫
তাইতো আজকে তারই জন্যে
সহমর্মী এখানে নেই;
৩৬
ক্ষতের গলিত পুঁজ ব্যতীত
অন্য কোনো খাবার নেই;
৩৭
কেবল অপরাধী ব্যতীত
এই আহার কেউ করার নেই।
৩৮
কসম আমি করছি সবের,
যে-সব তোমরা দেখতে পাও;
৩৯
কসম আমি করছি তারও,
অদেখা তোমার রয়েছে যা-ও;
৪০
নিশ্চিতই এই কোরআন
মহান আল্লাহর বার্তা জানি,
যিনি সম্মানিত বার্তাবাহক
এনেছেন তিনি এই বাণী।

৪১
না, এটি তো নয় কোনো কবির
বিরচিত কোনো প্রাণিত কবিতা;
তবে তোমরা খুব সামান্য
বিশ্বাস করো সেই কথা;

৪২
না, এটি নয় কোনো গণকের
গণনা-জাত কল্প-কথা;
যদিও তোমরা খুব সামান্য
বুঝতে পারো সেই বারতা।
৪৩
মহান বিশ্বপ্রতিপালকের
নাজেলকৃত মহান দান
মহাগ্রন্থ এই কোরআন ।
৪৪-৪৬
রসুল আমার নামে যদি কোনো কথা
বানিয়ে বলার চেষ্টা করতো অযথা,
তবে ধরে ফেলতাম তার ডান হাত অমনি,
আর কেটে ফেলতাম তার জীবন-ধমনী।

৪৭
তোমাদের মধ্যে এমন তো আর কেউ নেই,
যে কিনা তখন রক্ষা করতে পারতো তাকেই।
৪৮
সতর্ক মুত্তাকি যাঁরা, অবশ্যই (মানী, জ্ঞানী),
এই কোরআন তাঁদের জন্য উপদেশ-বাণী।
৪৯
তোমাদেরই মধ্যে
আছে কত মিথ্যাবাদী,
কত অমান্যকারী;
সব আমরা জানি।
৫০
অবশ্যই এই কোরআন
যারা করে প্রত্যাখ্যান,
তাদের সকলেরই আছে
অনুতাপের কারণ!
৫১
নিশ্চয়ই এই কোরআন সর্বক্ষণ
বাস্তব সত্যের করে চূড়ান্ত ধারণ।
৫২
সুতরাং, মহান প্রভুর নামে
শুধু তসবীহ করো অগণন,
অনন্ত তাঁর গুণাবলির
করো অনন্ত উচ্চারণ।
২৮.০৪.২০২০-০২.০৫.২০২০

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com