শুক্রবার  ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং  |  ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতাগুচ্ছ

জলবাংলা

মুহম্মদ নূরুল হুদা

 

আকাশ সুনীল ঋষি, অনন্তের কানে কানে মন্ত্র পড়ে যায়;
ঋষির ধ্যানের সুরে ব্রহ্মাণ্ডের বুক জুড়ে বৃষ্টি ঝরে যায়।
ভোরের‌ আলোর সঙ্গে বৃষ্টি আজ সঙ্গোপনে করেছে মিতালি;
মেতেছে মেঘলা ধ্যানে, সূর্য আজ রুমুঝুমু মেঘের আড়ালী।
ধ্যানী সব বাড়িঘর, সরোবর; নদীতীরে খাড়া তরুবর;
বহতা ধ্যানের মন্ত্রে নিত্য সিক্ত, বৃষ্টি শুধু ধুধু ঝরোঝর।
নদীরা প্রমত্ত বেগে ধেয়ে চলে পাল তুলে মোহনার ধ্যানে,
তপস্বিনী তরঙ্গিনী দিকে দিকে সাঁতরায় বাঁকের সন্ধানে।
কালিদাস তন্দ্রাচ্ছন্ন, চণ্ডীদাস কাথা-মুড়ি ঘুমায় বেঘোরে,
শান্তিনিকেতন জুড়ে রবীন্দ্রনাথের চোখে জল-বুলেটেরা ওড়ে।
বজ্র ও বৃষ্টির সন্ধি, গগনে গর্জন-বন্দি, শুধু প্রমুক্ত অতন্ত্র শান্তি,
তিস্তার বিরান বুকে অকস্মাৎ ছলাৎ-ছলাৎ পুষ্ট জলের অমল কান্তি;
পদ্মা আর মহানন্দা মেঘে মেঘে মৈত্রী পাল তুলেছে সমান্তরাল;
সামাল সামাল মাঝি, শক্ত হাতে সামলাও ধর্মবর্ণ সওয়ারীর হাল;
থইথই জলবাংলা, বেনোজলে বুড়ো-আংলা, পড়ো – পাঠ করো,
আজ শুধু বৃষ্টিভাষা, সর্ববঙ্গ জলে ভাসা, পড়ো – জলমন্ত্র পড়ো;
আজ শুধু বৃষ্টিবঙ্গ, আজ শুধু সৃষ্টিবঙ্গ, হে সর্ববঙ্গের কবি পড়ো,
ক্ষমতার পাঠ শেষে মমতার পাঠ নাও, মা-গঙ্গার পাড়খানি ধরো;

মঙ্গলকাব্যের পাঠ, পুথি পাঠ, সুফি পাঠ, বৈষ্ণবের পদাবলি পাঠ,
সকল কালের কবি, ধ্যানী-মানী-জ্ঞানী কবি, মুগ্ধ পদকর্তাদের পাঠ –
জারি-সারি-ধাঁধা পাঠ, কিসসা ও কাহিনী পাঠ, ঘুরে-ঘুরে চর্যাপদ পাঠ,
খনার বচন পাঠ, গুপ্ত-সুপ্ত-লুপ্ত পাঠ, প্রকাশ্যে-সহাস্যে পাঠ, ঘরে-ঘরে পাঠ,
ঋষির ধ্যানের মতো, কৃষির জ্ঞানের মতো, দেহ-মন আর্য-অনার্যের পাঠ, –
আনো বৃষ্টি, আনো সৃষ্টি, বহতা বাঙালি কৃষ্টি : শুরু করো জলডুবি পাঠ;
কবিরা রচনা করো জলবাংলা, আকাশগঙ্গার চরে, নদীদের সজল অক্ষরে;
জলের হরফে লেখো বেনো-বাংলা, বন্যা-বাংলা, সর্বঅঙ্গে নদীর স্বাক্ষরে;
বৃষ্টিবাংলা থেকে সৃষ্টিবাংলা, বহতা মমতা বাংলা, জল-বাংলা থেকে জয়-বাংলা,
মুহূর্তে সজীব হোক লুপ্ত সব বীজধান, মাচাঙের ডালে-ডালে চালি জালি-জাংলা;
বৃষ্টিই চুক্তির শর্ত, – উক্তি ও যুক্তির শর্ত – মাটিবাঙালিরা আজ অন্য শর্তহীন;
ডুবে যাক রাঢ়-বঙ্গ-হরিকেল-সমতটে ঢলবাংলা, – আদিবাংলা সীমানাবিহীন;
অবিরাম বৃষ্টিপাত, শুচি হোক জাতপাত, মন্ত্রমুগ্ধ গাভীদুগ্ধ, ধাবমান সব নদীতীর,
জল-বাংলা জুড়ে পাখপাখালিরা ওড়ে, হট্টিটি দোয়েল টিয়া শালিখ তিতির;
যাও পাখি উড়ে যাও, বাঙালিরা পাখি হও, শঙ্খশালিকের বেশে যাও উড়ে যাও;
বাঙালি মানুষপাখি, মাছরাঙ্গা ডানা মেলে উড়ে-ডুবে জলাঙ্গীর জলে সাঁতরাও

মুহম্মদ নূরুল হুদার সমকালীন কবিতা

অনন্তের সঙ্গে গোল্লাছুট

যে জানে না তার কোনো ভয় নেই,

যে জেনে গেছে ভয় শুধু তার;

অনন্তের সঙ্গে আড়ি দিয়ে কী লাভ?

বরং অনন্তকে বন্ধু করো তোমার আমার।

অনন্তকে বলি,

এসো, আবার আমরা গোল্লাছুট খেলি;

এসো, আবার আমরা খেলতে শুরু করি ডাংগুলি;

দোল-পূর্ণিমার রাতে জোছনার ডানায় চড়ে

এসো, আরেকবার ঘুরে আসি পরানের গহীন ভিতর;

আমাদের চারপাশে নেবুলার হল্লা,

শাদাবিবর ও কালোবিবরের দাড়িয়াবান্দা,

বাঘবন্দি তারকাপুঞ্জ এক্কা-দোক্কা খেলছে

আপন আপন কক্ষপথে;

আর সেই শৈশব থেকে

আমরাও চড়ে বসেছি আপন আপন রথে;

যেতে যেতে যেখানে থমকে যাই,

সেখানে বদল করি সারথি, সেখানেই ডিগবাজি;

জাদুকরের হাতে আমরা জাদুর রুমাল হতে রাজি।

শুধু রাজি নই কোথাও থেমে যেতে।

অনন্তবাংলার পথে বহমান এক অনন্ত-ব্রহ্মপুত্র;

সেই তো এক প্রমিত বাঙালির জন্ম ও পুনর্জন্মের সূত্র।

বাংলার কবিপুত্র তুমি, তুমি পদ্মা যমুনা মেঘনার বহমানতা,

তুমি কর্ণফুলীর মাঝির বুকে দুলে-ওঠা সাম্পানের বৈঠা,

তুমি সুন্দরবনের রাজব্যাঘ্রের ডোরাকাটা চোখের দৃষ্টি,

তুমি শালতমালের বনে বনে জয়দেবের মুষল-বৃষ্টি;

না, কখনো শেষ হয় না কোনো কাহ্নু-পার সৃষ্টি।

তুমি সেই ভুসুকু, তুমি সেই কাহ্নু, তুমি সেই বাউল বাঙালির হাঁটাপথ :

এই ধানকাউনের দেশে তুমি নতুন কবির বুকে কবিতার নতুন শপথ।

আলোর ডানায় চড়ে উড়াল আঁকার আগে বলো, বারবার বলো,

‘আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি কবি : চলো, পরানের গহীন ভিতরে চলো’।

নীলনবঘনে

কবিতা, মানবিকতা ও সুন্দর

কখনো কখনো

পাল্টে নেয় আপনার ঘর।

সৃষ্টি-সুন্দরের পর সংহার-সুন্দর,

মানুষের প্রয়োজনে

কেউ নয় কারো পর।

না সংহার না আহার না সৃষ্টি

কাউকে বাতিল করে এগোয়নি

কোনোকালে মানবিক কৃষ্টি।

এই মরলোকে

ব্যক্তি মরসত্তা, সমষ্টি অমর :

ধর্ম-বর্ণ-জাতি-জ্ঞাতি নির্বিশেষে

চিরনমস্য শুদ্ধ মানুষের বিশুদ্ধ অন্তর।

ব্যক্তি, তুমি নমিত হও

সমষ্টির প্রয়োজনে :

শান্তির প্রপাত ধারা

নীলনবঘনে।

তুমি আজো তোমার বাকল

তাহলে সরাতে শেখো হালের নেকাব

তাহলে পড়তে শেখো কালের কেতাব।

মনে করো,

তোমার ভেতরে তুমি,

নও শুধু সুফিকবি রুমী;

মনে করো,

তোমার ভেতরে তুমি

নও শুধু আনত আভূমি;

মনে করো,

তোমার ভেতরে তুমি

নও শুধু জলস্থল অগ্নি ও বায়ু;

মনে করো,

তোমার ভেতরে তুমি

কাল থেকে মহাকালে

নও শুধু

চ্ছলোচ্ছল আয়ু-পরমায়ু;

মনে করো,

তোমার ভেতরে তুমি

নও শুধু সবাক চার্বাক;

মনে করো,

দহনে দহনে শুদ্ধ,

নও শুধু জ্বলে পুড়ে খাক;

মনে করো,

তোমার ভেতরে তুমি

নও তবু অনঙ্গ অতনু;

মনে করো,

তোমার ভেতরে তুমি

না-আদম না-হাওয়া

না-অণু, মনু।

তবে কি ফেলবে খুলে

ত্বক-বস্ত্র, অস্ত্রশস্ত্র

অন্তর্লীন সকল আদল?

নগ্ন তুমি মগ্ন তুমি,

পরতে পরতে তুমি,

তুমি আজো তোমার বাকল।

শরতে পালক পঙ্ক্তি

শ্রাবণের মেঘে মেঘে

শ্রাবণের মেঘে মেঘে উড়ে গেছে

শরতের রোদসী আকাশ।

গুটিয়ে নিয়েছে ডানা সাগর ঈগল।

বেনোজলে ভাসে রাজহাঁস।

নদীতীর ছেড়ে গেছে বাবুই বাটান;

এ ভাদ্রেও অকস্মাৎ বেহুলা ভাসান;

থেমে গেছে শিকারির ডানা,

খোঁজে না সাপের ডিম, ইঁদুরের ছানা।

ভুবন চিলেরা আর শাখায় শাখায়

বুকে মুখে করে না ক‚জন :

শরতে অঝোর বৃষ্টি, ভাসে ত্রিভুবন।

কাদাখোঁচা জলচর পাখি

বাদমি রঙের পাখি, ওড়ে নিজ ছকে,

ছিট-ছোপ, দাগ, উল্কি ডানার পালকে;

হলুদ-বাদমি ঠোঁট, পা-জোড়া হলুদ

গাঢ় জলপাই রঙে শরীরটা বুঁদ;

কাদাখোঁচা জলচর পাখি,

ঘাসের ভেতরে বাসা, ক্ষিপ্র দুই আঁখি।

ঝাঁকে ঝাঁকে যায় উড়ে যায়;

অকস্মাৎ থেমে যায়, যদি

ফুসন্ত জলের বাধা পায় অবেলায়।

রাজঘুঘু

কালো ঠোঁট, পা দুটো গোলাপি,

শাদাটে শরীরে তার বালুরঙ ঝাঁপি।

কৃষ্ণবর্ণ অর্ধবৃত্ত ঘাড়ের ওপর।

ছোট ডাল, গাছের শিকড়

এই নিয়ে গড়ে নিজ ঘর।

ঘাসপাতা, শস্যবীজ খুঁজে খুঁজে

শরতেও ওড়ে রাজঘুঘু;

দুপুরে নির্ঘুম পাখি

ডেকে ওঠে সহজ সবুজে।

বিরল বিপন্ন পাখি

কাঠময়ূরের দেখা মেলে না শরতে।

বৃষ্টির পালকে জাগে পরতে পরতে।

ঘুরে ঘুরে ওড়ে মন-বন :

বেগুনি-সবুজ চক্র দেহে অগণন,

ডানা, লেজ, চোখে ও অধরে।

ধূসর রঙের পাখি, সহজ নজরে।

বিরল বিপন্ন পাখি হে কাঠময়ূর,

ঋতুর হৃদয়ে তুমি নিত্য হুহুপুর।

ডাহুকের বুক

লালচে লেজের তলা,

শাদা তার মুখ-বুক-গলা;

খুঁটে খায় জলজ ঘাসের ডগা,

প্রতিবেশী ধ্যানী কানি বগা;

খুঁটে খায় কচি ধান, পাতা;

চকিতে সন্ত্রস্ত যদি,

তোলে ক্ষিপ্র মাথা।

শরতেও ঘুরছে ডাহুক

শরতেও উড়ছে ডাহুক;

ঋতুর বদল হয়,

বদল হয় না শুধু

ডাহুকের বুক।

দুধশাদা চরণ

ভোরে

টুল জুড়ে বসে পড়ে

বর্তমান, ভবিষ্যৎ,

আমাদের বহতা অতীত।

কাঠের খড়ম পায়ে

ঘরে ঢোকে

কবিতার রবীন্দ্রপণ্ডিত।

জল পড়ে পাতা নড়ে;

কবিতার বেত নড়েচড়ে;

স্মিত হাসি প্রবীণ অধরে।

তারও আগে

জেগে ওঠে কবিতা-দপ্তরী।

চোখে তার সূর্যঘড়ি।

বারান্দায়,

পেতলের ঘণ্টাটাকে

বেদম পেটায়।

নাম তার অনন্তমোহন দাশ।

শুরু হয় কবিতার ক্লাস।

হাজিরা খাতায়

আজ তুমি নেই।

সবুজ শেমিজে আর লাল ফ্রকে

শ্লেট হাতে নত চোখে

অক্ষরবৃত্তের পায়ে

তুমি তো এলে না।

গুণ-ভাগ যোগ বা বিয়োগ,

মাথায় সকলি খেলে;

হায়, আজ শুধু

কবিতার চরণ খেলে না!

বেত হাতে বসে থাকে

ছন্দমিল উপমার রবীন্দ্রপণ্ডিত।

বারান্দায় কবিতা-প্রহরী।

চরাচরে সময়ের ঘড়ি

বাজে টিকটিক।

শ্যামাঙ্গিনী,

এতোকাল আমিও বুঝিনি,

কবিতার ক্লাসেবসে তোমাকে খুঁজেছি শুধু,

কবিতার দুধশাদা চরণ খুঁজিনি।

.
 
রাইটার্স ক্লাব ও জাদুঘরে দিনব্যপী পালিত  কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সত্তরতম জন্মদিন।৩০ সেপ্টেম্বর পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর প্রধান উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব এর প্রেসিডেন্ট জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার ৭০ তম জন্মোৎসব পালিত হলো সবার আন্তরিকতা ও ভালোবাসায়  !!
শুভ জন্মদিন কবি।কবি দীর্ঘজীবী হোক এই কামনা করি।
সত্তরতম জন্মদিনে কবির ফেসবুক স্টেটাস :
 
প্রিয় বন্ধুগণ, আমার সত্তুরতম জন্মদিনে আপনারা আমার প্রতি যে স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনাদের প্রত্যেকের কাছে চিরঋণী ও কৃতজ্ঞ। আপনারা আমার সশ্রদ্ধ শুভকামনা গ্রহণ করুন।
 
২. আমি মনে করি বন্ধুত্বই মানববন্ধনের আসল সূত্র। মানুষে মানুষে সকল শত্রুতা ও তার অযৌক্তিক কারণের অবসান হোক। এই পৃথিবীর নাম হোক বন্ধুপৃথিবী; এই মহাবিশ্বের নাম হোক বন্ধুবিশ্ব।
 
৩. আজ আমি স্মরণ করছি আমার পিতামাতা ও শিক্ষকশিক্ষিকাসহ আমার জীবনের সকল বন্ধুকে। না, আমার জীবনে কোনো শত্রু নেই। মতের অমিল মানেই শত্রুতা নয়। যত মত তত পথ, আমার বন্ধুও হোক তত বিচিত্র। বৈচিত্র্যেই আসুক সমন্বিত ঐক্য। আমার সাধারণ যুক্ত বলে, এটিই মানবমিলনের সহজতম সূত্র।
৪. আজ অামি বিশেষভাবে স্মরণ করছি আমার সদ্যপ্রয়াত দুই বন্ধুকে। শিল্পী আশরাফুজ্জামন ও লোকগবেষক মাহফুজুর রহমান। দুজনেই আমার প্রায় সমবয়সী। গত দুই দশক ধরে দুজনেই লেখালেখি, গবেষণা ও মানবিক নান্দনিকতার সূত্রে তাঁরা অামার অচ্ছেদ্য বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। জীবনে-মরণে তারা আমার বন্ধুচিরদিন। তাদের অনন্তজীবন শান্তিময় হোক।
৫. গত চারদশকেরও বেশি সময় ধরে কেবল লেখালেখির সুত্রে সুখে দুখে আমার পরম বন্ধু কবি ও কথাশিল্পী নিশাত খান। বর্তমানে বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। আজকে আমার যে জন্মদিন পালন হচ্ছে, তার মূল প্রস্তাবক ও পরিকল্পক। তিনি হঠাৎ করেই চরম অসুস্থ হয়ে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আইসিউ-তে চিকিৎসার পর এখন তাঁর অবস্থা উন্নতির পথে। বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য জনাব নিশাত খান। সবচেয়ে সার্বক্ষণিক সদস্য। আসুন, আমরা সবাই সর্বান্তকরণে তাঁর পূর্ণাঙ্গ রোগমুক্তি কামনা করি। নিশাত আমার ও আমাদের সকলের অকৃত্রিম বন্ধু। জয় হোক বন্ধুপৃথিবীর।
৬. আবার আপনারা সকলে আমার শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
মুহম্মদ নূরুল হুদা
৩০ সেপ্টেমবর ২০১৮
মুহম্মদ নূরুল হুদা

মুহম্মদ নূরুল হুদা : জন্ম ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯। গ্রাম পোকখালী, জেলা দরিয়ানগর-খ্যাত কক্সবাজার। পিতা মরহুম সেকান্দর সওদাগর, মাতা আঞ্জুমান আরা বেগম। মূলত কবি। তবে কথাসাহিত্য, মননশীল রচনা, অনুবাদ, লোকসাহিত্য, মেধাস্বত্ব ইত্যাদি বিচিত্র বিষয়ে লেখেন। প্রকাশিত গ্রন্থ-সংখ্যা শতাধিক। তিনি বাংলা একাডেমীর ফেলো, জেনেভাস্থ ওয়াইপো-র কনসালট্যাণ্ট, আমেরিকান ফোকলোর সোসাইটি, আই.এস.এফ.এন.আর, এশিয়াটিক সোসাইটিসহ অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত সদস্য। তাঁর কবিতা বিশ্বের নানাভাষায় অনূদিত। শিল্প-সাহিত্য ও সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজনে তিনি সফর করেছেন পৃথিবীর নানা দেশ ও প্রান্ত। কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন প্রায় অর্ধশত পুরস্কার ও সম্মাননা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : আলাওল পুরস্কার (১৯৮৩), বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), আহসান হাবীব কবিতা পুরস্কার (১৯৯৫), আইএসপি পয়েট অব ইন্টারন্যাশনাল মেরিট (যুক্তরাষ্ট্র), তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সম্মাননা (১৯৯৬), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৯, কোলকাতা), মহাদিগন্ত পুরস্কার (২০০৭, কোলকাতা), নগর-চাবি কক্সবাজার (২০০৯), রূপসী বাংলা জীবনানন্দ পুরস্কার (কোলকাতা, ২০১০), কারুভাষ বিনয়মজুমদার কবিতা পুরস্কার (২০১১, কোলকাতা), একুশ-ঊনিশের ভাষা গৌরব (২০১২, ত্রিপুরা) এবং সর্বশেষ একুশে পদক অর্জন করেছেন। কুশলী সাহিত্য সংগঠক জনাব হুদা বর্তমানে বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব ও নান্দনিক কবিতা-আন্দোলন কবিতাবংলা-র সভাপতি। তিনি দরিয়ানগর কবিতামেলা-র প্রবর্তক।

বই[সম্পাদনা]

  • জন্মজাতি (১৯৯৪)
  • মৈনপাহাড় (১৯৯৫)
  • ব্যাঙ কুমার
  • চাঁদের বুড়ো চাঁদের বাড়ি
  • ছোটদের বেগম রোকেয়া
  • ছোটদের মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  • ছোটদের রবীন্দ্র জীবনী
  • ছোটদের রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ
  • দেখা হলে একা হয়ে যাই
  • রাজার পোশাক
  • রবীন্দ্র প্রকৃতি ও অন্যান্য
  • সাত্ ও অন্যান্য
  • সাত ভাই চম্পা
  • তুমি যদি জালদাস আমি জালদাসি
  • শুক্লা শাকুন্তালা
  • আমি একটি খাস প্রজাপাত্র চাই
  • শোভাজাত্রা দ্রাবিড়াভ প্রতি
  • মাটির নিচে কাট কয়লা হাজার বছর কাতর
  • আমরা তামাটে জাতি
  • বার বছরের গল্প
  • তেলাপোকা
  • স্বাধীন জাতির স্বাধীন পিতা
  • হুদা-কথা
  • আমিও রোহিঙ্গা শিশু
  • হাজার নদীর দেশ
  • কবিতার ভবিষ্যৎ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
  • কবিতার কৌশল
  • দুটি লাল পাখি ও সব্যসাচী

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com