মঙ্গলবার  ৯ই মার্চ, ২০২১ ইং  |  ২৫শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরী

বিবর্ণ ভ্রমর ~ রতন মাহমুদ

———————————————————💘💘

বিবর্ণ ভ্রমর
রতন মাহমুদ
👥👥👥👥👥

অন্য ধাঁচের মানুষ তোমরা দু’জন
সর্বদা শৃঙ্খলা শত্রু জ্ঞান করে চলো
খোলা মাঠে রাত্রিবেলা চিতপাত থাকো
তন্দ্রাবশে চাঁদ দেখো, তন্দ্রাচ্ছন্ন তারা।

যখন গোধূলি নামে করি-বরগায়
দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ ক্রোধে ফেটে পড়ে
কেন তাকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করেছে
যুগে যুগে মহাকালে? তোমরা দু’জন
ঘৃণার জ্বলন্ত শিখা দূরাগত করো
একজন গোধূলির বিষাদ বিস্ময়
অন্যজন অহঙ্কার নিয়ে কথা বলো
তুমি ও সে ঘাসে বসে ব্যর্থ তীর ছোড়ো।

গর্বের ঔদ্ধত্য কার বোঝা মুশকিল
একজন সূচিশিল্পে শুধু জাল বোনো
অন্যজন ছবি আঁকো শ্বেতপদ্মপুঞ্জ
মিলের চেয়ে অমিল বেশি তোমাদের।

তবু একে অপরের পাশে শুয়ে থাকো
ঝিঁঝিঁ ডাকা মাঠে, ঘাসে, শুভ্র বিছানায়।
কতো শত রাত দিন বোঝাপড়াহীন
অদ্ভুত বিস্তৃত চিন্তা ঘাসের মুকুরে।

শরতে হেমন্তে চাঁদ উপরিপৃষ্ঠের
অন্ধকারে ঢাকা থাকে অনন্ত আলোয়
অদ্ভুত প্রেমের রাজ্য গড়ে তোলো মাঠে
সাতটি উজ্জ্বল বাতি কেঁপে ওঠে স্পর্শে
অবিশ্রান্ত ঝিল্লি শব্দে তন্দ্রা নামে চোখে
একজন গীতিময় প্রাণে ধরো সুর
অন্যজন লিখে রাখো জ্বলন্ত অক্ষরে
নক্ষত্রের গুণাগুণ, জ্ঞান প্রগাঢ়তা।

কতো দিন হলো শুদ্ধ জ্ঞাত মিলে থাকা?
সবুজ সংসার ছন্দ, পারিপাট্য শিল্প
হরিদ্রা স্বপ্নের দিন সবুজে বিলীন
জ্বলন্ত অঙ্গারে ম্লান শান্তির প্রলেপ।

রঙের বিরোধ ছিলো দুজনার মনে
কীভাবে মিললো এসে নক্ষত্রে নক্ষত্রে
সবুজ ঘাসের ওমে দেহসংসর্গে
চুম্বন মাধুর্য পদ্ম ফুটেছে কী ঘরে!

লজ্জা, ভয়, কাম শ্রেয়, তাই তাড়াতাড়ি
বাড়ি যাও, প্রেমাসক্তি পড়ে থাক ঘাসে
তুমি ও সে উঠে গেলে বিবর্ণ ভ্রমর
খুঁজে নেবে এক কবি নীলাভ অম্বরে।

💦💦💦💦💦💦💦💦💦💦💦💦💦💦

রচনাকাল :
৯ জুন, ১৯৮০
সংশোধন :
১৫ অক্টোবর, ২০২০
💞💞💞💞💞💞💕

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com