মঙ্গলবার  ১৫ই জুন, ২০২১ ইং  |  ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

জালাল উদ্দীনের একগুচ্ছ কবিতা

নবজন্ম

তোমরা কেউ না,
আমি জানি;—সূর্যালোতে দিনের প্রহর শেষে, নিরাশার রাতের গহীন অন্ধকার কিভাবে আমায় ঘিরে নাচে—
নগ্ন মৃত্যুর নাচন।

তারপর,আমি
চলে যাই—অতিদূর এক দৈবলোকে;
অনশ্বর কোনো ধ্বনির দ্যোতনায়!

ভোরের নরম রোদ এসে,যখন আমার
দু’চোখের পাতায় বসে—চমকে উঠি।
কল্পনার মত মনে হয় সবই!

আমার প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ,আমার চেতনা—
দপ করে জ্বলে ওঠে!অবিশ্বাস্য মনে হয়।
মনে হয়— অকালের পাপ মুছে নতুন করে
জন্মেছি আমি।

ভাললাগা

ভাল লাগে—এ ছোট্ট শহর,চরসোনারামপুর।
ভাল লাগে—পূর্বপুরুষদের ভিটা-বাড়ি,সমাধি।

ভাল লাগে—বনজ গাছপালা,দুপুরের নির্জনতা।
ভাল লাগে—আধোঘুম-জাগা রাত,মৃদু অস্থিরতা।

ভাল লাগে—মৃতমুখগুলো,নিহত হৃদয়ের প্রতিজ্ঞা
প্রিয়তমার অবুঝ-অভিমান,–এইসব নরম কল্পনা।

ভাল লাগে—স্মৃতি থেকে ওঠে আসা কৈশোরের দুরন্তপ্রেম,রাত-জাগা-রাত, রক্তমাখা চিঠির গন্ধ।

ভাল লাগে—ভোরের ঘন-কুয়াশা, ট্রেনের হুইসেল,
চাকা আর পিচের ঘর্ষণ,নির্জন পথঘাট,দরজা-আঁটা বাসগৃহ।

ভাল লাগে—আশা,স্বপ্ন,আশ্বাস,মৃত্যু আর প্রেম।
ভাল লাগে—মরীচিকা,গন্ধবাহী ফুল আর মাটির
পুতুল।আরো ভালো লাগে–একা থাকা,একা—
দূরে…

পথ

এতো পথ তুমি কীভাবে এলে— হয়তো একদিন বলবে, ক্লান্ত আমার দু’পা। আমি তখন থমকে দাঁড়াবো, আমার ছায়া আমাকেই মাড়িয়ে যেতে চাইবে। আমি বলবো— থামো, আমাকেও নাও সঙ্গে করে আরো কিছু দূর। আমাকে বিস্মিত করে, স্মিত হেসে, পথ ছুটে যাবে স্পাইরাল ভঙ্গিতে!

আমি, কোথাও পৌঁছাতে হবে ভেবে দৌড়াতে থাকব।
দৌড়াতে দৌড়াতে আবার হয়তো থমকে দাঁড়াবো।

তখন সন্ধ্যে,
পাখিদের ফেরার সময় । আর, এলোমেলো আমি আমার ছায়াকে খুঁজব। পথ ছুটে চলবে অবিরাম…

তোমার চোখ

মাঝে মাঝে মনে হয়—
অন্ধকারে ডুবে আছি!
দু’চোখের ভেতর বিন্দু বিন্দু
অন্ধকারপাত ভারি অসহ্য লাগে।

তখন, নৈঃশব্দ্যের গভীরে ডুবে গিয়ে
তোমার রমণীয় চোখের তারায়
রাখি চোখ;

তোমার চোখের গভীরে
জীবনের উজ্জ্বল-উন্মাদনা
আমাকে আলোর পথ দেখায়।

অসম সময়

আমরা জানি, কেউ কারো নয় !

আমাদের ভাললাগা, মোহ, ভালবাসা
অভিন্ন এক অদৃশ্য দেয়াল পেরোতে চায়।
হয়তো আমরা দুজন খুব চেনা
কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূর হতে
এসেছে ভেসে— আমাদের হৃদয়;

তবুও জাগে বিস্ময়, জাগি অনিমেষ
এই অসম সময় বেঁচে থাকা :
একটি টাটকা ক্ষতের মতো
আমাদের সিনার ভেতর
জেগে থাকবে
আমৃত্যু

শরতে লেখা কবিতা

হয়তো এই শরতে বেরিয়ে পড়বো একদিন
কতোদূর যাবো, জানা নেই।

যদি যাই দেখা যাবে— নীলাকাশে দলছুট শুভ্র মেঘের আনাগোনা। ঝলমলে রোদ কিংবা হঠাৎ ঝিরঝির বৃষ্টি।

হয়তো কোথাও খুঁজে পাবো—
ধীর-বাতাস, মৃদু কম্পন;
নদীপারে দুলতে থাকা কাশবন,
ঘাসের উপর শিউলী-চাদর বিছানো।

পূজোর ডালিতে হয়তো পড়ে থাকবে রক্তজবা,
প্রণয়-পিপাসিত মৃন্ময়ীর পদতলে লুটাবে সে;

হয়তো আমি আনমনে বলবো হেসে,
কোথায় সে—
বহুকাল ধরে যে ভালবাসেনি;

হয়তো বেরোনোই হবে না কোনোদিন

দূরত্ব

এ-কোন জীবনের প্রান্ত থেকে
ঝরা ফুলের মতো
চেয়ে আছো তুমি !

আমি তো জানি না কিছুই—
অর্থবহ কোনো বাক্য কিংবা
প্রেম;

শুধু জানি—
ক্ষণিকের এই ভাললাগা নিয়ে
চেয়ে আছি মাটির দিকে

যেখানে তোমার পদচিহ্ন আঁকা।

যাপন

কল্পনাতীত মায়াবী
একটি স্বর্গীয় ফুল যেন তুমি

তোমার চোখের চাওয়া, আর
গূঢ় হাসিগুলো বাতাসে ফুটে থাকে —অনাঘ্রাত;

আমি নিস্তেজ মাতালের মতো
চেয়ে থেকে, দীর্ঘপ্রশান্তি নিয়ে
অদৃশ্যপানে এলিয়ে পড়ি,
প্রত্যহ;

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com