শুক্রবার  ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং  |  ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ২৯শে মুহাররম, ১৪৪২ হিজরী

ঘুমের জোনাকি * জাহাঙ্গীর ফিরোজ

ঘুমের জোনাকি
জাহাঙ্গীর ফিরোজ

ক্লান্তির ভারে ডুবিল দু’আঁখি
ঘুমের রেশম গুঁটি কেটে স্বপ্ন প্রজাপতি
উড়ে এসে বসিল মনন জুড়ে ঐরাবত—হাতি;
জলস্তম্ভের খিলানের পাশে মেঘবতী
দু’চোখ আকাশনীলে উধাও পাখিটি
ছায়াপথ থেকে ছায়াপথে খুঁজেছে অদিতি
একটি অমরাবতী মরণের নদী পার হয়ে।

সেই মায়া ঘুমের অচেনা পথে ডেকে নিয়ে যায় ধুধুবনে,ঘুঘুবনে…
ওখানে য়ে কাঁদে তার চোখ ময়ূরের পাখায় জেগেছে;
ময়ূর কি পাখি? এই কথা বলে উড়ে গেল ঘুঘুটি দুপুরে!
রাতের শরীর ভাঁজ হয়ে বাদুরের বগলে লুকোলে
স্বপ্নের মাঠে রোদ ওঠে জ্যোৎস্নার নিজস্ব স্বভাবে
তবু তার নরম ছোঁয়াতে পথ ভুলে অজানা আবেশে
ঘুমের জোনাকি নিভে যায়।

(কবিতাটি সংশোধিত; কাব্যঃ লালনের পাখি উড়ে যায়)

শৈলমালার দেশ
জাহাঙ্গীর ফিরোজ

চ’ল যাই সেইখানে – যেখানে প্রভাত ডানা মেলে
শেফালিরা ঝরে পড়ে খুব ভোরে অত্যন্ত সহজে
সকল নদীর ঘুম ভাঙে ঝর্ণার চঞ্চল জলে
সব নদী নেমে আসে অনিবার্য পতনের গানে;
তারপর প্রপাতের জলরাশি অজানার টানে
পাহাড়ের কোল থেকে ঝাঁপ দেয় সাগরের পানে।

এইসব উড়ালের, এইসব পতনের মানে
সগর বুঝিবা জানে হয়তোবা পাহাড় জানে না
বৃষ্টিকে সৃষ্টির কথা রত্নাকর কখনো বলে না।

কেনো এই বরিষণ— বর্ষণের অন্ধ-দিনরাত!
মনে পড়ে বনাঞ্চল—বনের প্রাচীরে ঘেরা ঘর
শ্বাপদসঙ্কুলদিন,পাতার আড়ালে বসে থাকা ডর
থরোথরো শিহরণে ঘনিষ্ঠ রাত্রির মুখ;

এইসব দৃশ্যপট কোটি কোটি বছরের প্রেমে…
জরা ব্যাধি যুদ্ধ আর মন্বন্তর শেষে ঘনকামে
এই ধরা চরাচরে একবার দেখেছিল তারে
কোনোখানে আরবার দেখবে না সেই নদীটি রে।

( কাব্যঃ সাগরের গর্জন থেকে নুন রক্তে আসিল )1

নিবেদন
জাহাঙ্গীর ফিরোজ

জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আমাকে একা করে দিও না এখনি
জীবনের স্বাদ নিতে দাও নির্দ্বিধায়।
অভিজ্ঞতা, আমাকে প্রজ্ঞাবান করো না এখনি
শিশুকিশোরের মতো আমাকে থাকতে দাও
মানব সংসারে।
আমাকে হাঁটতে দাও মানব জঙ্গলে
রক্তাক্ত পায়ে সবুজ অরণ্যে।
জ্ঞন ও প্রজ্ঞা, আমাকে নিস্পৃহ করো না এখনি;

যেতে চাই সুন্দরের কাছে
যেতে চাই দূরগ্রমে
নগরের অন্তর থেকে চাওয়া বিমুগ্ধ বাতাসে।

জ্ঞান ও প্রজ্ঞা
আমাকে একা করে দিও না এখনি।1
1
1
1
শান্তাহার তুমি চিঠি দিও
জাহাঙ্গীর ফিরোজ

শান্তাহার থেকে চিঠি এলো

শান্তাহার থেকে চিঠিতে লিখেছো
এখনো তোমার মনে পড়ে;
তোমার কী মনে পড়ে
তা তুমি চিঠিতে লিখনি।

তুমি ফুল পাঠিয়েছো
তোমার অদক্ষ হাতে আঁকা ফুল;
এই ফুল কি ফুল তা তুমি
চিঠিতে লিখনি।

শান্তাহার থেকে দীর্ঘ এক চিঠিতে লিখেছো
ফুল পাখি ভোর নদী শামুকের ডিম প্রজাপতি
এরই মাঝে রঙমাখা তোমার দু’ঠোঁটে আঁকা ছবি…
তুমি ভালোবাসো—চুম্বন তাই তুমি চিঠিতে এঁকেছো
কেনো ভালোবাসো ?
এখানেই এসে তুমি হঠাৎ থেমেছো;

শান্তাহার থেকে দীর্ঘ যে চিঠিটি লিখেছো
তাতে শুধু শান্তাহার লেখা আছে…
তোমার ঠিকানা তুমি ভুলে কি লিখনি?

শান্তাহার শান্তাহার
প্রায় মুছে যাওয়া স্মৃতি

শান্তাহার তুমি চিঠি দিও
ঠিকানাসমেত পাখিঅলা খামে চিঠি দিও

শান্তাহার তুমি চিঠি দিও

(কাব্যঃ যে ছিলো প্রণের জরুরি )

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com