শুক্রবার  ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং  |  ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ১১ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

এক গুচ্ছ কবিতা /// চঞ্চল আক্তার

এক গুচ্ছ কবিতা /// চঞ্চল আক্তার

দেউলিয়া ক্রিতদাস /// 

 

আমি সেই ক্রিতদাস

জন্ম যার, ঋনে বাঁধা

বিক্রি করিনি কিন্তু কিনে নিয়েছে যেন কারা–

সময়, স্বাাধীনতা

যত বুঝ দেক, মনের ধাঁধাঁরা কাটেনি

 

মোড়কে মোড়া ভিতর বাহির

মিডিয়া, স্বদেশ, মাফিয়া জাতিসংঘ,

দৃশ্য অদৃশ্য সব একই

সত্য মূলত অন্য রকম

মুখে মানবতা

বুকে দানবতা

সব হিসাব অধিকার কাগজে

তাবৎ সীমান্ত কাঁটাতারে জড়িয়ে

লুঠের বিশ্বায়ন

যেন অন্যায়ের শক্তিই ন্যায়

ক্ষমতা সুবিধা  নিয়ে যায়

 

দূর্বলতা থেকে দাঁত বাড়ায় দূর্ভোগ শোষন

অশিক্ষার অভাব অফুরাণ ।

বেহুদা গরিবী বাঁচা

কার অধিকার দেখো কে বিলায়

ক্রিতদাসের পদ্ধতি শিকলে

মুদ্রার মুদ্রা দোষে

ভূয়া শর্তে বন্দি বাঁচা আজীবন,

ব্যক্তি, মানুষ ছার

দেউলিয়া দেশ জাতি সভ্যতা বার বার।

 

১৯৯৪

 

 

 

নিয়তী না কার্যকরণ ///চঞ্চল আক্তার

///    জ্ঞান চাতক

 

প্রতি রাত নিশাচর

বোধ, চেতন জ্ঞান চাতক

অবচেতন পরাবাস্তব

স্বচেতন স্বপ্ন খাদক

অতিচেতন স্থান, কাল, বাস্তব পালাতক

অচেতন  সহজাত প্রানী পুরাতন,

নিয়তি না কার্য-করণ।

বল নাকি কল, না ভাগ্যফল

যেমন কাজ তেমন ফল নগদে

প্রকরণ ভেদ প্রাপ্য ফল ফলন্ত ।

বিফলে মূল্য ফেরত।

আসলে স্বভাবে না অভাবে

শেষে কি দাড়ায় ভাবে ?

জীবনের ভাগফল থাকে না

ভাগশেষ অজানা।

এ যাপন মাপহীন তবু মাপ নাই

মুদ্রায় অর্থ হিসাব Ñ

টাকায় সফল বা বিফল

অনন্তে কি অর্থ, ফল?

অসিম জ্ঞানের সীমাহীন ঢেউয়ে ভেসে থাকা নাবিক

মিথ্যার সাত ভাই সতত সাথে সাথে

তবু সতীন সত্য সাঁতরায় একাকি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ফেরা///চঞ্চল আক্তার

 

কুলাউড়া, ভাওর, বোষ্টন

যেখানে যাই নিজেকেই বহন

 

বহু পথ ঘেটে, শেষবধি

আমি গোড়াতেই  ফিরি

পিতার কবরের পাশে

তালগাছে বাবুই পাখির বাসা দোলে –

ভাবি মানুষের সব পথ শেষ হয়েছে কবরে

 

রাস্তায় বসে, রাস্তা খুজি

বার বার ভ‚ল মতে, ভুল পথে,

বেভূল মানুষের সাথে সাথে

সময় বয়ে যায়।

কানা জেব/পকেট হৃদয় ব্যাংকে সঞ্চয়

কত মনব, জাতি, দেশ

কত হাসি মুখ, বাতাসে হু হু আক্ষেপ ।

 

মধু পূর্ণিমার আলো Ñসূর্যের ধার করা রূপ

বিঞ্জাপনে নির্বান

যেন দোকানে থরে থরে সুখ ঝুলে থাকে।

না ক্রেতা না বিক্রেতা কেবল দেখতা

কে তুমি কি করো এখানে

 

 

এক গুচ্ছ কবিতা /// চঞ্চল আক্তার

 

 

 

 

 

 

 

 

হিরোশিমার বোমা তামশা

 

 

 

যত দূর চোখ যায় কেউ নেই

চারদিকে চতুর চারদেয়াল;

ব্যাংক বুথে জমা সুখ

উড়ে যায় আতরের মত সৌরভ ছড়িয়ে

অভিনয় জীবন হয়ে সাজে,

মুখোশেরা মানুষ হয়ে য়ায়।

যে জীবন স্রোতের তা তারও নয়

 

জটিল আল্পনা. কুটিল কাল।

আর সব ডিজিটাল

জাতিসংঘ, বিশ্বব্যংক. বিশ্বায়ন

সভ্যতার ভানে অ¯্র যুদ্ধ লুন্ঠণ

যেন হিরোশিমার বোমা তামশা

মানবতা দেখানি সভ্যতা

অব্যক্ত কথারা কাতরায়

মানুষের কি হবে শেষে ?

তাবৎ কৃৎকৌশল

কৌশলী আনন্দ- সুখের প্রযুক্তি;

 

তাবৎ যুক্তি ও শক্তি,

শান্তি ও  মুক্তি

অর্বাচীণ আনন্দ,

জীবনের স্বার্থ এবং সার্থকতা

অনন্ত অন্তহীন তবে অর্থহীন নয়

চেতনা মিল্কিওয়ে পেরিয়ে বেগুনী অসীমে চুপ।

 

 

 

 

বসবাস 

 

কি সুন্দর এ গ্রহে

মানুষেরা বাঁচে বড় নিগ্রহে

আর আমাদের তৃতীয় বিশ্বে-

লুঠে নেয়া কংকালে কাঠপোকা কোপায়

ক্ষুধা, বোমা, নীতিহীন নেতা,

চোরের বাজারে সাধুও চোরই

নাদান খাসলত

দানবতা দাপায়

মানবতার হাহাকার ।

যুদ্ধের দয়ায়! অশিষ্ট মায়ায়

মাথা পিছু ঋণ নিয়ে বেহুদা জন্মানো মানুষেরা

দেউলিয়া প্রতিদিন-

রাষ্ট্র নেয় না দায়িত্ব।

সমাজ, সংসারÑ আদতে কেউ না কারো

অদ্ভুৎ প্রটোকল-

আইন, শাসন হয় শোষন যাতাকল

মুদ্রাতন্ত্রে নিতীরা সুবিধা মত

জ্যন্ত মিথ্যা সত্যে পরিনত।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সিদ্ধান্তের চৌরাস্তায়

 

 

লক্ষ্যহীন সিদ্ধান্তের চৌরাস্তায়

দাড়ানো অনেক কাল।

জমাট ভীড়;

মেলা দ্বিধা-সংশয়ে অস্থির

কি করি না করি.

বেদিশায় সব পথ ভূলে যাই

স্বর্ণ সময় হারায়।

বাহনেরা ভীড় নিয়ে চলে যায়

পথেরা দৌড়ায়,

সকলে প্রথম হতে চায়

আর চৌমুখি পথ হাতড়ায়

সুখ কেনা-বেচা হাটে,

দোনা-মনা দেউলিয়া  বাটে

মনের চেয়ে বিশাল নয় ক¤িপউটার

সন্তানের চেয়ে বড় শিল্প নাই আর।

 

কেউ কেউ ঘর পারে না,

শেষ বেলায় ঠিক করে রাখা সব ঠিকানা

বেবাক বেভ‚ল হয়ে পড়ে।

অপেক্ষায় শেষে আক্ষেপ ছড়া কেউ থাকে না।

লক্ষ্যহীন সিদ্ধান্তের চৌরাস্তায় বহুদিন ত্রিমনা,

ত্রিকাল, ত্রিফলা সংশয়ের সাঁতারে চঞ্চল

পথ যখন শেষ, সময় সংকীর্ণ

তখন আবার দেখা হল- তার সাথে।

সেই অপেক্ষায় বসে আছি পথে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মানুষ

(প্রযুক্তি সভ্যতার অন্যতম হয়

কিন্তু একমাত্র শর্ত নয়)

 

কবে মানবতার হবে জয়

জীবনেরা হবে স্বর্নময়।

হবে বিশুদ্ধ বিশ্ব ব্যংক, প্রকৃত বিশ্বায়ণ

ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রে

চিরকাল সবলের শোষন

 

আর মানবতার মায়া কান্না

ট্যংক কামান অ¯্ররে শিল্পায়ন

শেলের শীষ,  মানব বোমার ফাটন

রক্ত ও কান্নার কাপন,

মুক্ত তথ্য নেটে ভেসে

এ উপকুলে উড়ে আসে

মনিটরে জীবনের গন্ধ

বৈঠকখানায় হাঁটে দুর দেশ ।

আক্ষেপি বাতাসে মানবতার দীর্ঘশ্বাস ¯পষ্ট।

মানবের সুখ এবং শান্তি,

ভ‚ল ও ভ্রান্তি

সত্য তাও জানে বাতাস

ভন্ড ধন্যবাদ, ভালবাসা দিবস।

পৌষ সংক্রান্তির রাত

শীতার্ত অথচ মমতায় কত উষ্ণ।

একা একা কেউ মূলে সুখী  হয় না।

একত্র যাত্রীরা- কত দুর যাবে।

চাঁদ কাটা পড়ে চকচকে আলোয়

মূল:ত সব এমনি সময়ের বিন্দু বিন্দু যাত্রী

দুরের বালির সাগর, উটের গলায় ঘন্টা

চেনা আবার অচেনা

সে সুরে কি আকুতি দীর্ঘশ্বাস

সভ্যতার সব ব্যর্থতা, প্রাণীত্ব,

প্রচীন মঠের ঘন্টার মত বাজে ÑÑ

তা এখানে এ উপকুলে ভেসে আসে।

মানুষের শান্তি-অশান্তি যল

আলো ও আধারে

যুগমৎ জন্মান জীবনেরা।

মানবিক পৃথিবী বহুদুর, এখনো জন্তুু কাল

লোভ, বোমাযুদ্ধ, ডিজিটাল শোষন ভরে

সভ্যতা পোয়াতী সবলের আতুড়ে।

সব লুঠে নেয় দানবেরা

মানবতার দোহাই দিয়ে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আত্মহত্যার খসড়া      

 

কখনো যাপন তুচছ হয়ে পড়ে,

ধংষের জটিল ঝড়ে পথের কুটিল মোড়ে

শান্তি উড়ে, রক্তাক্ত এ দেশ কাল

সার্বিক অর্থহীনতা ভিতরে জিতে যায়

তীক্ত অবসাদেরা উচকায়

ব্যার্থতার চেয়ে বড় কেউ

তখন হাটে না চোখে।

কিছুই নিয়ন্ত্রণে না

তবু সব দায়িত্ব নিজস্ব কাঁধে

মুখোশেরা মানুষ, অভিনয় জীবনর

মিথ্যারা সত্যের দাবি জানায়।

যে ভাবে পারে সব সুবিধায়

অস্তিত্ব, স্বত্বা টিকে থাকতে চায়

সু, সত্য, সুন্দও ঝিমায়

কিন্তুু অপর এক অংশ ধসে যেতে চায়

নেগেটিভÑপজেটিভ

 

যাপন যখন সত্যের বিপরীতে

কুরতি ও কালো জিতে।

মড়কে মড়কে স্বপ্ন হাস্যকর,

সত্যরা আপাত অর্থহীন।

অতি লোভিরা নেতা,

মিছারা উজির, নৃসংশ লটেরা রাজা,

রাত ভর জেগে থাকা চোখ

ঘুমালে কার? অনন্তেÑ

কার কথা কে মনে রাখে!

আর মনে রাখলে কি হয়?

আত্মহত্যার ছোট ভাই

শিয়রে বসে রয়,

তাকে যেতে বল এখনো হয়নি সময়।

 

১৫/১১/৯৮

 

 

ধুন্দুল ফুল

 

 

ধুন্দুল ফুলের মত বন্ধুত্ব

সাপের মত হয়ে যায়।

আবার বাপের মত আশ্বাস, মরার পর

ভ‚তের মত বেগার ।

মুদ্রার সমাজে

গরীবেরা না বাচে

ভালবাসা শেষে কি

যোনী ও লিংগে টানাটানি।

মোটা মানিব্যগে মানবতা ভরা থাকে

 

ঝুলে থাকে বাঁচন বাগড়া,

বসবাস শনির আখড়া

পদে পদে যত কুর, ধুতরার ধুর ট্যাবু আক্রান্ত

প্রতারনা পূর্নিমার

ভ‚ল আলোয়

ঢেকে রাখে চোখ।

 

না থাকার চেয়ে থাকা ভাল,

মরার চেয়ে বাঁচা ভাল তাই বেঁচে থাকি,

একবার আসা, যাওয়া, ভাসা।

অনন্ত সময়ে আর আাসিব না

নিজস্ব চাঁদের ধার করা রুপ

ধুন্দুল ফুল না ধুতারা চেতনা

তাজা মৎস কষ্ট তাপড়ায়Ñপ্রেম না ঘৃনারা

সত্য ও মিথ্যার বাটোয়ারা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাঁচন / // জোনাকী হ্নৎপিন্ড

এ নামে যে হেসেছিল এ যাপনে যে বেঁচে ছিলÑ

সে আমি না। জ্যস্ত ধাঁ ধাঁ

যেন অন্য কেউ কাটিয়েছে এ জীবন ।

খোঁল নল পাল্টানো বাদ্য

 

ক্রমাগত ভাড়ং পোষাকে

স্থান কাল পাত্র ভেদ বিস্তৃত প্রেক্ষাপট

আবরবের বায়বিয় অবস্থান

কোন বীজ, কার ফুল, চারা, গাছ

জন্ম  কেন, কি ফলÑ ধরা এবং ঝরা

মাঝের  বর্নিল নির্ঘন্ট।

কর্ম-সূচী, বিষয়Ñআসয়

স্থান, সময় জীবনে গড়ায়

মুখোশেরা শেষে মানুষ হয়ে যায়।২২

কেন আসা, কেন যাওয়া, কি লাভ অনন্তের।

ত্রিদোষ, ত্রিফলা, ত্রিকোনা,

ত্রিমূখি, ত্রিভঙ্গ, ত্রিসত্য

টিকটিকির মত টিকে থাকা মহাকাল

বেগুনী আধারে বহাল

ও মৃত্যর তাতানো তরমুজ

 

হিসাব জানা বেহিসাবি স্বভাবের গল্প

তারপরও সে ঠারে ঠুরে পৌঁছায়

চাবী আছে তালা নেই

দরজা ছিল না কখনো।

ঘরেরা বেঘোরে ঘুমায়

থাকা এবং না থাকার মাঝামাঝি

যেন বেহুষ কোমায় টিকে থাকা কতক কাল।

তবু ক্রমাগত জন্মানো আশার মত

স্বপ্নরা জ্বলে নিভে যেন হৃৎপিন্ড।

 

 

 

 

 

 

প্রানী থেকে মানুষে উত্তরণ

 

 

নিয়তি না কার্যকরণ?

কর্ম ফল ছাড়ে না পিছন

সেই সহজাত টেরাকাটা স্বাভাবেরা

জৈব ও ভাবেরা

ঈশ্বর ও শয়তানে –

সুবিধাবাদী সত্যরা

সঙ্গের এর মত অভিনয়

পরকে দেখানো বাঁচন সভ্যতা

বাঁকা লোভের ফালি ক্রমশ গভীরে

জীব এবং নাভীর নীচে,

অযথা টান পড়া সুখেরা,

দুধ উপচান ফেনারা,

আনন্দ বাজারে সুখ কেনা বেচা মুদ্রায়।

মানবতার আর্ত শ্বাসেরা তীব্র –

টাকা মানে অক্সিজেন।

পোকার টংকার

ঝি ঝির বেহালার ঝংকার

চাদের আলোর আস্বাদেরা

চুপচাপ ভোগ করে স্বসময়-

কাকচক্ষু জলে প্রত্যাশা জন্মায়Ñ

চাওয়া থেকে জন্মায় যত না পাওয়া

লোভ থেকে গজায় ক্ষোভ

টাটানো শিশ্ন গলে শিশুকান্না,,

জীবনের ঝির ঝির স্বাদ।

প্রাণি থেকে জ্ঞান, চেতন

জন্তু থেকে মানুষে উত্তরণ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

জ্যন্ত ভালবাসা

 

 

যা জীবন্ত তা বদলায়

কত ভালবাসা জ্বলে পুড়ে যায়

সময়ে মিথ্যা সত্য কয়

শক্তিরা অক্ষয়।

দুই দেহ এক মন

মিলেনা এমন

 

জীবন্ত যা তা পাল্টায়।

মায়ার আকার প্রেমের ওজন ?

সুরের রং ?

নিতি, সততা কোথায়

চোখে না দেখা যায়

কেবল তালেরা বলে যায়

হিসাব বিবেকের দরজায়,

 

অনুভব এত ¯পষ্ট দেখে ও বদলায়

চোখ প্রথমে তাকায়

মাথায় ঢুকে পরে বুদ হয়ে যায়।

বোধ খুলে চেতন দরজায়

মানুষের স¤পর্ক ও দ্বব্দের ফাঁকে

ঘৃণা ও ভালাবাসা মিশে থাকে

মধু ও নিমের স্বাদে,

গাছ ও মাছের কাঁটার মত

ফুল ও ফলের বিষের মত

চিন্তা, শব্দ, সময় শুধু সাঁতরায়

জ্যন্ত ভালবাসা বদলায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মৃত্যু ও অতঃপর

 

 

 

অবশেষে সকল উষ্ণতা শীতল হয়

কত বন্ধুত্ব হারায়, বদলায়

তীব্র প্রেমও তো মরে যায়

ভালবাসা ভাল হাসা হয়

আবেগ বদলায়

আদর্শ, সত্য না পাল্টায়।

 

শেষবধি কেউ থাকেনা সাথে

সম্পর্করা অর্থহীন রশীর মত ঝুলে

যেন ছেড়া তারে ঝোলানো কাপড়

জীবন একটা গল্পের মত মনে হয়

গল্প একটা বাগড়ায় রূপ নেয়।

মায়া  নিতি সরলতা

দাড়াস সাপের মত বিকট হয়ে যায়

যেন এদেশে মমতা মহা বোকা,

যেন অনন্ত অন্তহীন নয় অর্থহীন

 

২৯শে শ্রাবন, লালবাগ, ২০০৩

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দিন-কাল

 

পথে বসে ভাবি পথ কোথায়

জন্ম মায়ের মায়ায়

মৃত্যুতো সাথে নিয়ে আসা ফল

যাপনের সব পথ শেষ হয়েছে কবরে

স্ব কাল ছেড়ে মহাকালে

বাচার চেয়ে বড় আর কি আছে

 

সব ভঙ্গুর

হেতু বা অহেতু

শংকা বা সংশয়ে

সব বিশ্বাস যুক্তি বোধ বিকল

মুদ্রার মুদ্রাদোষ, সুখ বানান কলা ।

পথেরা ছিল না আঁকাবাকা

লক্ষ্যহীন লক্ষ্য অলক্ষ্যে হেসেছে

দারন ছিদ্বতে পড়ে

বেতাল হল আকালে

জীবন মেলায় ঘুরাই সার,

রথ দেখা হল না ভীড়ে।

কেউ সুখ বেচে অসুখ আনে

বাকির লোভে নগদ শান্তি হারায়।

 

শেষ পর্যন্ত নঃিশব্দ মৃত্যছাড়া

কেউ নেই অপেক্ষায়

কারো কেউ থাকে না।

যাপনের সব পথ শেষ হয়েছে কবরে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শিকার না শিকারি

 

 

শিকার ও উল্টে হয় কখনো শিকারি

কইতরও মাঝে মাঝে বাজ পাখি

যাপন নল-খোল পাল্টায়,

গরিবেরা সুখে জিতে যায়

ক্ষণে জীবন উল্টায়।

 

অস্তিত্ব রক্ষায় প্রাণ বা

চেতনার পূর্ণিমার রোদে

ধোয়াটে বনভ‚মি ঝলসে

এলমুনিয়ম কালারে-

বিবস্র প্রকৃতি

ছলকায় কোষ

কিলবিল অন্য খেলা,

উৎরায় রক্তের জান।

নদীর স্রোতে কি এক টান।

 

মেরুদন্ড ভাংগাও ঘুরে দাড়ায়

ফোকলা কামড়ে ধরে খাদ্য,

সুন্দর মুখও কুৎসিত হয় ঘৃনায়

কুচকান মুখেরা বদলায় ভালবাসায়।

 

 

মন কেবল লাভে লোভাতুর Ñ

যত কষ্টের আতুড়

সুখ কেনার চেষ্টায়

ভেজাল দুঃখ বেজান জন্মায়

 

শিকার হয় শিকারি

আসা হয় যাওয়া ।

 

 

১৯৯৯ ইং

 

 

 

চুড়ান্ত

 

সরল সোজা পথ পারে না অনেকে

কেবল আউলা বেকা-তেড়া ছকেÑ

উল্টো স্রোতে ভাসা মানুষ

বেদিশা বেহুশ।

বেশি বুঝা বাস্তবে বোঝা হয় শেষে।

ঞ্জান অঞ্জান হতে পারে

সসীম সত্যের সীমা আছে

মহাকাল, অনন্ত Ñ অসীমে।

ব্যতিক্রমে নিয়ম প্রমান।

 

পথ না থাকা পথে গেলা

মগজে কিলবিল কত খেলা

কোষে কোষে জিন, রক্তে হরমনের দাপাদাপি

নৃপুংসক রস রসায়ন

চাহিদারা জন্মায় অ-সুখ

স্থান, সময়, সতিত্বের সংঙ্গা পাল্টে

অস্তিত্ব  সুবিধা মত উল্টায়।

 

পথ না থাকা পথে যাওয়া পথিক,

চুড়ান্তে যাওয়াা মানুষেরা

ফিরে না আর।

যে জীবন স্রোতের তা তারও না।

সৃষ্ট বাস্তব ও চিরন্তণ বাস্তবের দ›দ্ব টান

অসীম সীমা লংঘনকারি

অনন্ত অন্তহীন তবে অর্থহীন নয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অনন্তের নাগরিক

 

জন্ম আমার এদেশ ছুয়ে মিল্কিওয়ে তক

অনন্তের নাগরিক

পৃথিবীর আলো, তেল, হীরার খনিতে আছে ভাগ

তবু সেই ক্রিতদাস।

তৃতীয় বিশ্বে আবাস

পূর্ব পুরুষের পরাজয়ের ছাপ কপাল জুড়ে

আজন্ম জোয়াল বাধা, কাঁধে অভাব

আইণ খালি গাইনের নিচে এক নকতা

অনিয়ম, ভেজাল  কুশাসন যা তা

লুটে যত ধন

ব্যক্তি বা বিশ্বে শোষণ

সু-সত্য সতীন হয়

ভাস্কর্যের মত অযুত অস্র শিল্প।

পারমানবিক বোমা তাক করে

মুখে মানবতা । হা ধিক।

সভ্যতার গুহাঘুম Ñ?

আদিম চিত্রকলার মত

জীবনের নন্দনতত্ব মিলেনা ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

চেতনা অসীমে

 

রাত শেষ। নিশাচর পাখিরা ডাকে না আর

নিজেও নেই নিজের কাছে

চেতনা অসীমে ডুবে যায়

সোনালী রোদের কারসাজি

বাতাস, পাতাদের ভালবাসাবাসি

আলো ছায়ারা যেন মানব চক্র

গড়ায় সুখ দুখের আল্পনা

লোভ, মমতা একে যায়

পেশী, ঘাম, রক্ত

লুট পাট যুদ্ধ

ভাতের আলাদা গল্প আছে ।

যত কাক কাল, কু কাল, কর্কশ পৃথীবি।

কল্পনার বা বাস্তবতা জ্যাম

ইন্দ্রিয়রা চেতনে নেই

চিরন্তন নিশ্চুপ অসীমে।

অন্তহীনের শর্ত নাই।

মৃত্য নগদ বসে আছে চেক হাতে সময়ে

ধুতরা ফুলের মত নিজস্বতা

রঙ্গিন সাদা শুন্যতায়

চেতন অসীমে ডুবে যায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিম্ব

 

 

জন্ম-কেন এনেছ ? এ তো চাইনি

অনন্ত আঁধার তাও ভাল

ইশ্বর ক্ষমা কর

মা বাবা আনলোÑ

কেউ জিগ্যাসা করেনি

কাধে তুলে দিল গোটা জীবন

প্রজন্ম প্রবাহ

বড় ক্ষুধা, বাধা, কষ্ট

দরিদ্র বিশ্বের বাঁচন;

হাহাকার, অন্ধকারের ছায়ায়

ঋন নিয়ে বেহুদা জন্মানো।

ধন ও মুদ্রার দাস,

মানুষেরা দেউলিয়া প্রতিদিন-

অর্থিক বা আত্মিক

রাষ্ট্র নেয না দায়িত্ব

মানুষ, সমাজ, ইশ্বর কেউ না কারো-২

 

 

 

 

 

বাচার অদ্ভুৎ প্রটোকল-

সত্য বা মিথ্যা প্রকাশ

বোমা, বাঁধা মুখ চোখ

দু হাজারী সময় ফলক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

উইয়ের পেটে জ্ঞান কেচছা,

ভিতরের মাছরাঙ্গা মন

হঠাৎ হঠাৎ ছো মারে

মজা করতে মাথার মজাপুকুরে

 

ফেলে আসা পথের মত

আচানক মনে পড়ে,

জানা চেনা মানুষেরা Ñ বন্ধু পরিচয়

কত হাসি মুখ-

কত দরজা খোলা এখনো-

কত মমতার ছিটকারি খাড়া রাত ভর

ভালোবাসার আলোয় ভরে গেছে আধার

সব রঙ্গিন মানুষেরা

পিতা, প্রিয়জন,

আত্মিয়-স্বজন,

কর্ম ও সৃজন

কত কাল স্মৃতিতে ঘুমন্ত

স্বপ্নের মত বাস্তব

ভুতের মত চিৎকার করে

নগদ জ্বলে উঠে

আর সব ¤øান হয়

সময় গিলে ফেলে আকুলতা রব,

আবেগ আচমকা উগলে দেয় সব।

বাস্ততার বার ভাই, চিরন্তনের শেষ নাই।

শুধু তোমার সাথে আর কোনদিন দেখা হবে না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com