মঙ্গলবার  ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং  |  ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৪ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০২১ সালের আগেই আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবো। ২০৪১ সালের সালের মধ্যে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো।’
প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর সালনায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মরিয়া হয়ে উঠেছে। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি জামায়াত গত ৫ জানুয়ারি থেকে লাগাতার ৯২ দিন হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। শতাধিক নিরীহ মানুষকে পেট্রোলবোমায় পুড়িয়ে মেরেছে। জনগণ তাদের ঘৃণাভরে প্রতাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতে তারা যাতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ না করতে পারে সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহাবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এমপি, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, সিন্ডিকেট সদস্য কৃষিবিদ আবদুল মান্নান এমপি, কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিষ্টার প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র বিমোচন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৃষির সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু কৃষি আজ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। একদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে, অন্য দিকে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ হেক্টর কৃষি জমি অকৃষি কাজের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য যোগান দেওয়া সহজ কাজ নয়। শুধু খাদ্য কেন, অন্যান্য মৌলিক চাহিদা যেমন বস্ত্র, বাসস্থান, এবং চিকিৎসার উপকরণও কৃষিজমি থেকে আসে। ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান এবং চিকিৎসার উপকরণের চাহিদা মেটাতে হলে আমাদের উন্নত প্রযুক্তির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে নয়, মাথা উচুঁ করে আমরা বিশ্ব দরবারে যেতে চাই। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ পারে, বাংলাদেশ পারবে। এ ব্যাপারে কৃষি ক্ষেত্র বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশী অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। রাজধানীতে মেট্রো রেলের কাজ শুরু হয়েছে। সারাদেশে পাঁচ হাজার ৬৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে জনগণ দুইশ এর বেশী সেবা পাচ্ছেন। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়কপ্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. হারুন অর রশীদ, ডুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ আলাউদ্দিন, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আখতারউজ্জামান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছে সেখানে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার হল, কৃষি অনুষদ ভবন, ফিশারিজ ভবন, ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদ ভবন ও বেগম সুফিয়া কামাল অডিটরিয়াম উদ্বোধন করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রফেসর ড. এল. এম. আইজগ্রুবার গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদ ভবন, প্রফেসর ড. ইয়োশিও ইয়াদামা লাইব্রেরী ভবন, শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হল, ইলা মিত্র হল ও কৃষিবিদ ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের নাম ফলক উন্মোচন করেন।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, কৃষিজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সেগুলো কৃষকের মাঝে হস্তান্তর, উপকরণ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে কৃষিকে একটি লাভজনক, টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কৃষি বিজ্ঞানীদের কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত একটি আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ একটি সোনার বাংলা গড়তে কৃষি শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য তিনি কৃষিবিদদের সরকারি চাকুরিতে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃষিবান্ধব নীতির ফলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে রেকর্ড ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্ট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। খাদ্য ঘাটতির দেশ আজ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নং, বরং বাংলাদেশ আজ খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর আমরা সারের দাম তিন দফা কমিয়েছি। কৃষকের জন্য মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছি। সার, সেচ ও ডিজেলসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। ডিজেলের ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে প্রদান করা হয়েছে। আমরা প্রতিবছর ১৫ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ প্রদান করছি এবং কৃষি গবেষণায় জোর দিচ্ছি।
তিনি কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে শাক-শবজী, ফলমূল, মৎস ও প্রাণীসম্পদ জাত নানা ধরণের প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের উন্নততর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কৃষি বিজ্ঞানীদের মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com