বৃহস্পতিবার  ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ  |  ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ  |  ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

সারা বি‌শ্বের মত ভারত উপমহা‌দে‌শের অর্থনীতি টালমাটাল

ইউক্রেন যুদ্ধ ভারত উপমহাদেশের ওপর অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বেইলআউটের জন্য ‘ব্রেটন উডস’ প্রতিষ্ঠানের দিকে ধাবিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশও ঋণ চাইছে। কলম্বোর পর ইসলামাবাদ একই পথে ধাবিত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমশ ফুরিয়ে আসার ফলে ইসলামাবাদ ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে। মিয়ানমার, মালদ্বীপ, এমনকি নেপালের অর্থনৈতিক অবস্থাও করুণ। তাড়াতাড়ি আইএমএফ’র ঋণ পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করে উদ্যোগ বহুগুণ বাড়িয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া। তিনি এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শেরম্যানের সহায়তা চেয়েছেন। বলেছেন, তার দেশ ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করছে। তাই ১৫০ কোটি ডলারের সহায়তা যেন আইএমএফ তাড়াতাড়ি ছাড় দেয়, সেজন্য শেরম্যানের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে কলম্বোকে আরও ত্রাণ (রিলিফ) অনুমোদন দেয়ার আগে তাদের কাছ থেকে নীতি কাঠামোর জন্য অপেক্ষা করছে বিশ্বব্যাংক। এ সময়ে আইএমএফ’র কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে ঢাকা।  ভারতের অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। সাংবাদিক শিশির গুপ্তের লেখা রিপোর্টে ‘ব্রেটন উডস’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উইকিপিডিয়া বলছে, ব্রেটন উডস হলো অর্থ ব্যবস্থাপনার একটি সিস্টেম। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক আইন প্রতিষ্ঠা করে এর অধীনে। এর আগে ১৯৪৪ সালে করা হয় ব্রেটন উডস এগ্রিমেন্ট। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন চালানোর ৫ মাস পরেও এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উল্টো মস্কো আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছে। তারা ইউক্রেনের শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের অনেক অংশে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে রাশিয়া। এরই মধ্যে রাশিয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে গ্যাস সরবরাহ শতকরা ২০ ভাগ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা এরই মধ্যে শীতলতা অনুভব করছে। পক্ষান্তরে পশ্চিমারা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাতে মস্কোর ওপর কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক উত্তাপ দেখা যাচ্ছে না। এর অর্থ হলো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।

ফলে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্য সংকট অব্যাহত থাকবে। এতে অর্থনৈতিক সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে। সংক্ষেপে বলা যায়, ভারতের প্রতিবেশীরা অর্থনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে, যেমনটা শ্রীলঙ্কায় দেখা গেছে এই অশান্ত পরিস্থিতি রাজনৈতিক বিস্ফোরণে পরিণত হতে পারে।  পাকিস্তানের পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাদের সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শেরম্যানের সাহায্য চেয়েছেন। আইএমএফ যেন তাড়াতাড়ি ১৫০ কোটি ডলারের ঋণ ছাড় দেয় সে বিষয়ে ওয়েন্ডি শেরম্যানকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন তিনি। কারণ, ঋণখেলাপি হওয়ার মুখোমুখি ইসলামাবাদ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। রিপোর্টে ধারণা করা হয় যে, পাকিস্তানি রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষে উদ্যোগ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করেন জেনারেল বাজওয়া। কারণ, পাকিস্তানি নেতাদের উদ্যোগকে অতোটা গুরুত্ব দিয়ে না-ও নিতে পারে আইএমএফ।   যেহেতু পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিয়াজি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার কোনোই সুযোগ রাখেননি, তাই ওয়াশিংটনের সাহায্য চাওয়া ছাড়া ইসলামাবাদের হাতে কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চীনও তাদের সাহায্য করার মতো অবস্থানে নেই। বৈদেশিক ঋণের শতকরা কমপক্ষে ২৫ ভাগ চীনের কাছ থেকে নিয়েছে পাকিস্তান।

শিশির গুপ্ত চীনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা ভারত উপমহাদেশকে নতুন এক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে পরিণত করতে চায়।  চীনের আরেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু শ্রীলঙ্কা। ব্যাপক ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি কাঠামো না দেয়া পর্যন্ত তাদেরকে নতুন করে অর্থায়ন প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্বব্যাংক। ফলে সেখানে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। এক বিবৃতিতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বলেছে, ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি কাঠামোতে আমূল সংস্কার প্রয়োজন, যা দৃষ্টি দেবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায়। একই সঙ্গে কী কারণে এই অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার মূল কারণ শনাক্ত করবে যাতে শ্রীলঙ্কার পুনরুদ্ধার স্থিতিস্থাপক এবং অংশগ্রহণমূলক হয়।  তবে ঢাকার পরিস্থিতি অতো ভয়াবহ নয়। কিন্তু ব্যাংক থেকে এক ডলারের সরকারি ক্রয়মূল্য এবং কালোবাজার থেকে এক ডলারের ক্রয়মূল্যের পার্থক্য শতকরা ১০ ভাগ। এতে অর্থনৈতিক হতাশার চাপ দেখা দিয়েছে। কার্যত পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কান রুপিকে ‘ক্রাশ’ করেছে ডলার। তার বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকা অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অবস্থায় খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইএমএফ’র কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে ঢাকা।   যদিও ভারতীয় ও নেপালি রুপি নেপালে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেবে না, তবে এর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছেন যে, কেন আর্থিকভাবে বিচক্ষণ হওয়া এবং চীন থেকে ঋণ নিয়ে গর্বিত না হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক জান্তার অধীনে একই অবস্থা মিয়ানমারেও। তারাও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। বর্তমান মন্দার মধ্যে টিকে থাকতে সক্ষম হচ্ছে না মালদ্বীপ।

মানবজ‌মিন

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com