বৃহস্পতিবার  ৫ই আগস্ট, ২০২১ ইং  |  ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

সারাদেশে শৈতপ্রবাহ। ঠাণ্ডাজনিত রোগে যা উপকারী

 

সারাদেশে শৈতপ্রবাহ। ঠাণ্ডাজনিত রোগে যা উপকারী । রাজধানীসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের সব জায়গায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। জনজীবন তীব্র ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে। 

রাজধানীতে শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। হঠাৎ চলে আসা ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। তবে শৈতপ্রবাহের কারণে দেশের বেশিরভাগ জেলায় তাপমাত্রা কমেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কয়েকদিন ধরে রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য সবচেয়ে কম ঢাকাতেই।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন, রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য তথা সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্য যত কমে ঠান্ডা অনুভূতি তত বাড়বে। ঢাকাতেই এই পার্থক্য সবচেয়ে কম। কখনো কখনো ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও হাড় কাঁপুনি ঠান্ডা পড়ে, আবার অনেক সময় ৮ ডিগ্রিতেও তেমন ঠান্ডা অনুভূত হয় না।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় রাতে ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও দিনে ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতে ঠাণ্ডা-কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা, সাইনাস-মাইগ্রেন এ সব সমস্যা লেগেই থাকে। সে ক্ষেত্রে কিছু পানীয় এ ধরনের সমস্যা থেকে এই শীতে নানা উপকারের পাশাপাশি কিছুটা হলেও আমাদের আরাম দিতে পারে।

দারুচিনি:দারুচিনি ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। গরম পানিতে কয়েক টুকরা দারুচিনি দিয়ে তা ফুটিয়ে পান করলে বা দারুচিনিগুঁড়া যদি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায় তবে তা ঠাণ্ডার সমস্যা অনেকটা দূর করে থাকে। সেই সঙ্গে সাইনাস এবং মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও আরাম প্রদান করে থাকে।

আদা: আদা রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আদার পুষ্টি গুণাগুলে ভরপুর। এই সময়ে কুসুম গরম পানিতে আদাকুচি করে ফুটিয়ে যদি পান করা যায় তবে তা বেশ কার্যকরী। সেই সঙ্গে আদা দিয়ে রং চা বানিয়েও খাওয়া যায়- এটিও বেশ উপকারী। ঠাণ্ডার সমস্যা দূর করার পাশাপাশি তা অনেকক্ষণ পর্যন্ত এনার্জিটিক রাখতে সাহায্য করে।

লেবু ও মধুর পানি:খুবই পরিচিত একটি পানীয় লেবু-মধুর পানি। এই পানীয় হজমশক্তি বাড়াতে যেমন সাহায্য করে তেমনি গলার ব্যথা ও সর্দি দূর করতেও সাহায্য করে।

লবঙ্গ ও গোলমরিচ:সামান্য পরিমাণ লবঙ্গ এবং গোলমরিচ যদি একটু চিবিয়ে খাওয়া যায় তবে তা গলা ব্যথা, মাথা ব্যথার সমস্যা দূর করতে কিছুটা সহায়তা করে থাকে। রং চায়ের সঙ্গে ফুটিয়েও লবঙ্গ ও গোলমরিচ পান করা যায়। এটি ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ঠাণ্ডায় নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে আরাম দিয়ে থাকে।

পুদিনা পাতা ও তুলসি পাতা:পুদিনা পাতা ও তুলসি পাতা দিয়ে তৈরি করা চা অনেক সময় কফ (কাশ) জমে থাকার সমস্যা দূর করে থাকে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যদি এর সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খাওয়ানো যায় তবে তা আরও অনেক বেশি উপকারী।

সুতরাং এই শীতে যদি সকালের নাশতার সময় এবং সন্ধ্যার নাশতার সময় এই পানীয়গুলো এক কাপ পরিমাণ পান করা যায় তবে তা সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা এবং মাথা ব্যথার সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও আরাম দেবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিক

ডায়েট অ্যান্ড নিউট্রিশন কনসালটেন্ট

ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com