শিরোনাম
মঙ্গলবার  ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ  |  ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ  |  ১৫ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

সারা‌দে‌শে তীব্র শীতে বাড়‌ছে রোগী

শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগী। হাসপাতালগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও কর্মরতদের। শীতের কারণে শেখ হাসিনা বার্র্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটসহ বার্ন ইউনিটগুলোতে বেড়েছে দগ্ধ রোগী। বার্ন ইনস্টিটিউটে ঠাঁই নেই অবস্থা। আড়াই বছরের ছোট্ট শিশু রাবেয়া খাতুন। দগ্ধ শরীর নিয়ে ছটফট করছে হাসপাতালের বেডে। গরম পানিতে দগ্ধ হয়েছে তার শরীর। তিনদিন ধরে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রাবেয়া। চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া পানি মুছে দিচ্ছেন মা ডলি আক্তার। তিনি বলেন, মেয়েটি পোড়া শরীরের যন্ত্রণায় ছটফট করছে।

সারারাত ঘুমাতে পারছে না। গোসলের জন্য রাখা গরম পানিতে তার শরীর পুড়ে যায়। মিরপুরে একটি বাসায় ভাড়া থাকি। ওর চাচার জন্য পাতিলে গরম পানি করে রান্নাঘরে রাখা হয়। এ সময় আমি রান্নাঘর থেকে পাশের রুমে যাই। কিন্তু রাবেয়া সেখানে খেলতে খেলতে চলে যায়। তখন পানিতে পুড়ে যায় তার শরীর। এরপর মেয়ের চিৎকার শুনে ছুটে যাই রান্না ঘরে। দেখি তার এই অবস্থা। এরপর মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। শরীরের কোমরের নিচ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে।

 

শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, হাসপাতালটির ৫০০ শয্যার একটিও খালি নেই। দগ্ধ রোগী প্রতিমাসে ১৮০০ থেকে ১৯০০ জন আসছে। সাধারণ সময়ে যেটি ছিল ৪০-৫০ জন। সেটি এখন বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ জন রোগী আসছেন জরুরি বিভাগে। এবং ২৩০ থেকে ২৫০ জন রোগী আসেন বহির্বিভাগে। গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, জরুরি বিভাগে পোড়া শরীরের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা। খালি নেই কোনো শয্যা। গ্যাসসিলিন্ডার, বিদ্যুৎস্পৃষ্টসহ অন্য আগুনে দগ্ধ রোগীদের পাশাপাশি তীব্র শীতের মধ্যে রান্নার চুলায় আগুন পোহাতে গিয়ে পুড়েছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ পাতিলে রাখা গোসলের গরম পানিতে দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ সব রোগীর ২৫ শতাংশের নিচে পোড়া নেই। বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, বছরে আনুমানিক পাঁচ লাখ লোক আগুনে পুড়ে যায়। প্রতিবছরই এই সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শীত আসলে এর সংখ্যা আরও বেড়ে যায় ৩০ শতাংশ। গত তিন মাসে ১ হাজার করে দগ্ধ রোগী বেড়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেকেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে শিশুদের সংখ্যা বেশি। গত এক বছরে শুধু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৩ হাজার ২৪৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৪৫ হাজার এবং নারী ৩৮ হাজার ২৪৫ জন। জানুয়ারিতে ৫ হাজার ৯৪৪ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৫ হাজার ৯৪১ জন, মার্চে ৬ হাজার ৫০ জন, এপ্রিলে ৪ হাজার ৪৭০ জন, মে ৪ হাজার ৮৭৭ জন, জুনে ৫ হাজার ৪৮০, জুলাই ৫ হাজার ৬৪, আগস্টে ৫ হাজার ৯৩৮, সেপ্টেম্বরে ৫ হাজার ৭৮৩, অক্টোবরে ৬ হাজার ৬৯৯, নভেম্বরে ৬ হাজার ৩৬৪, ডিসেম্বরে ৬ হাজার ৯৮ জন। মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৪২৮ জন। তারমধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৭৩৭ এবং নারী ২ হাজার ৬৯১ জন।

এদিকে ঢাকা মেডিকেলেও দগ্ধ রোগীদের ভিড় দেখা গিয়েছে। সেখানে কথা হয় তাবাস্‌সুমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার বোনের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। সকালে তার মা গোসলের জন্য গরম পানি রেখে দেয় বাথরুমের সামনে। আমার ভাগ্নি পাতিলের পাশে পা দিলে তার শরীরে পানি ছিটে আসে। এরপর চিৎকার দিলে আমরা গিয়ে দেখি তার শরীর পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের সময় আগুনে পোড়া রোগী বাড়ে। অনেকে গোসল করার সময় গরম পানি পাতিলে করে গোসলখানায় নিতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এই পানি পাতিলে না নিয়ে বালতিতে নিলে এমন দুর্ঘটনা থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যায়। আবার অনেকে আগুন পোহাতে বসে চুলার পাশে বা খড়কুটা জ্বালিয়ে। এসময় অসর্তক থাকেন। তাদের সচেতন হওয়া উচিত। এসব বিষয়ে মানুষ সতর্ক হচ্ছে না। পোড়া রোগীদের অনেকের শ্বাসকষ্ট হয় এমনকি কিডনি ফেইলিওরও হয়। এর বাইরেও অনেক জটিলতা দেখা যায়। যদি কোনো রোগীর মাল্টিপল কো-অপারেটিভ, ডায়াবেটিস থাকে তখন কিন্তু অনেক সময় রোগীকে সেভ করা যায় না। আবার অনেকে দগ্ধ হওয়ার দুইদিন পড়ে চিকিৎসা নিতে আসে তখন কিন্তু এই রোগীগুলোকে সুস্থ করে তোলা খুবই চ্যালেঞ্জিং।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com