বৃহস্পতিবার  ১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং  |  ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

সরকারের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়ারর মুক্তিতে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায় না। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। জনগণের অধিকার ফিরে পেতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হেবে। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কেবল আন্দোলনই পারে এই সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে। এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না।

আজ রবিবার রাজশাহী নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এলাকায় রাস্তার ওপর অনুষ্ঠিত বিভাগীয় মহাসমাবেশে এ আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার শেয়ার বাজার, ব্যাংক লুট করেছে। হাজার হাজার টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আর যারা এসব লুট করছে, তারাই এসব জায়গার উপদেষ্টা হচ্ছে। দেশেকে ভঙ্গুর করেছে এ সরকার। এটা চলতে পারে না। তাদের কারণেই শেয়ার বাজার শূন্য। ব্যাংকে টাকা নাই। দুই লাখ টাকার চেক নিয়ে গেলেও ব্যাংক টাকা দিতে পারে না।

সংসদ ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো সময় আছে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিন। জনগণের পক্ষে দাঁড়ান। মানুষকে আবার তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন। পদত্যাগ করুন। জনগণের কাতারে দাঁড়ান। নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন।

তিনি বলেন, চালের দাম বাড়ছে, কিন্তু ধানের দাম বাড়ছে না। কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। শ্রমিক তার শ্রমের মূল্য পাচ্ছে না। এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশকে বাঁচাতে হলে প্রথমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

মির্জা ফকরুল বলেন, আপনাদের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। এখন আর কেউ আপনাদের কথা বিশ্বাস করে না। এরা হচ্ছে সেই জাত, যারা জনগণকে ধোকা দেয়। ভোটাধিকার হরণ করে। ভোটা ডাকাতি সবচেয়ে বড় ডাকাতি। ভোট ডাকাতি করে, চুরি করে জনগণের আন্দোলন দমানো যাবে না। ২৬ লোককে আসামি করা হয়েছে বিভিন্ন মামলা দিয়ে। এসব মামলা দিয়েও কোনো লাভ হবে না।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাঘব বোয়ালদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি উঠে এসেছে এই সরকারের আমলে। বালিশ, পর্দা, বই কেনার নামে দুর্নীতির খবর আসছে। এগুলোকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিঁচকে চুরি বলে স্বীকার করেছেন। এরপর আমরা দেখলাম ডাকাতি। ছাত্রলীগের ৮৬ কোটি টাকার চাঁদাবাজি, যুবলীগের নেতার বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকার পাহাড় বের হলো। কিন্তু জনগণ এসবের রাঘব-বোয়ালদের নাম জানতে চাই। তাদের গ্রেপ্তার করুন। তাহলেই বুঝবো অভিযান সঠিক পথেই আছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাস বলেন, পুলিশের এতো ভয় জনগণকে। যে কারণে রাজশাহীর পথে পথে সমাবেশে আসা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আপনারা কার হুকুম পালন করেন। আপনারা যাদের পাহারা দিচ্ছেন, তাদের সঙ্গে জনগণ নাই। তারা যখন বিপদে পড়বে, তখন বলবে আমরা তো আপনাদের হুকম দেয়নি। তাহলে আপনারা কেন তাদের কথা শুনছেন?

তিনি বলেন, কয়দিন আগে যুবলীগের চেয়ারম্যান দেখলেন না আপনাদের কিভাবে বললো? ঢাকার ৬০টি স্থানে কেসিনোর সঙ্গে জড়িত পুলিশ র‌্যাব সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা হোক। তারা এভাবেই আপনাদের ছেড়ে পালাবে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে লুটপাট করার জন্য। দেশের গণতন্ত্র হরণ করার জন্য। কিন্তু আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েস্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নাই। কিন্তু একজনের নির্দেশে এখনো খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে কারাগারে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমরা এখন আর কারো কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইতে পারি না। আমরা প্রতিজ্ঞা করে যদি মাঠে নামতে পারি, তাহলেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারে তারা।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিব, হাবিবুর রহমান হাবিব ও অ্যাডভোকেট কামরুল মনির, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন সওকত, বগুড়ার এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা প্রমুখ।

সমাবেশে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, রাজশাহীর সমাবেশে আসতে পথে পথে তাদের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি সনদীপথে নৌকাযোগে আসার পথেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশে যোগ দিয়েছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com