সোমবার  ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

শেকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হচ্ছে হাতিটিকে

ভারত থেকে ভেসে আসা বুনো হাতিটি এখন কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। সে খাবার খাচ্ছে। তবে সে এখনও বেশ দুর্বল এবং তার চিকিৎসা চলছে। হাতিটি সুস্থ হতে আরও ৫/৬ দিন সময় লাগবে বলে জানাচ্ছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ির কয়রা গ্রামে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে হাতিটিকে।
গতকাল বেহুঁশ করে হাতিটিকে ধরার পর রাতেই সেটির জ্ঞান ফেরে। তখন অবশ্য হাতিটি উঠে দাঁড়াতে পারছিল না।
তবে আজ সকাল থেকে হাতিটি উঠে দাড়ায় এবং খাবার খাওয়া শুরু করে। মূলত কলাগাছ খাওয়ানো হচ্ছ
হাতি উদ্ধারে অংশ নেয় গ্রামবাসী।
হাতিটিকে একটি আমগাছের সাথে বেধে রাখা হয়েছে। এদিকে হাতিটি দুর্বল হলেও সে তার বাধন খোলার চেষ্টা চালালে সামনের দিকের রশি খুলে যায়। পরে লোহার শেকল দিয়ে তার দুই পা বেধে রাখা হয়েছে।
হাতিটিকে দেখতে আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন সেখানে ভিড় করছে।
গতকাল ট্রাঙ্কুলাইজার যন্ত্রের মাধ্যমে চেতনা-নাশক প্রয়োগ করে হাতিটিকে বেহুঁশ করা হলে সেটি কয়েক কিলোমিটার দৌড়ে একটি জলাশয়ে পড়ে যায়। কয়েকশ’ মানুষ পানিতে নেমে হাতিটি উদ্ধারে সহায়তা করে।

Image caption
হাতিটি গত একমাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। (ফাইল ছবি)
স্থানীয় সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী জানান, হাতিটিকে উদ্ধারের সময় বন্যপ্রাণীটির প্রতি স্থানীয় মানুষের ভালবাসা প্রকাশ পেয়েছে।
ভারত থেকে গত ২৮শে জুন নদীতে ভেসে ভেসে বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকে হাতিটি গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুরের বিভিন্ন চড় এলাকায় ঘুরে বেড়াতে থাকে। এটি উদ্ধারে ভারত থেকে একটি দল এসে ব্যর্থ হয়ে ফেরত চলে যায়।

হাতিটি উদ্ধারের ভারত থেকে একটি দল এসে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। হাতিটিকে ঘিরে ছিল উৎসাহী মানুষের ভিড়। (ফাইল ছবি)
এদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাতিটিকে গাজীপুরের সাফারি পার্কে নিয়ে যেতে চান তারা।
তবে হাতিটি সুস্থ হলে সে প্রক্রিয়া শুরু হবে। বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক জানিয়েছেন, তার আগে হাতি উদ্ধারে ক্রেন বা ট্রাক নিয়ে যাওয়ার জন্য বন্যা কবলিত দুর্গম এলাকাটির রাস্তা সংস্কার করতে হবে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com