বুধবার  ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং  |  ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ২২শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

শুভর প্রতি মানুষের শুভদৃষ্টি, ইভিএম নিয়ে শঙ্কা অন্যদের

একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৭৩ সালে মির্জাপুরের প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছিলেন ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মির্জাপুরে আওয়ামী রাজনীতির শক্ত ঘাঁটির বীজ বপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ফজলুর রহমান খান ফারুকই। তাঁর একমাত্র ছেলে খান আহমেদ শুভ আগামী ১৬ জানুয়ারির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

শুভ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। নির্বাচনে ভোট প্রার্থনা করে তিনি দিনরাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক জহির ছাড়া অন্য তিনজনকে মাঠে তেমনটা পাওয়া যায়নি। ইভিএমের ভোট নিয়ে শঙ্কা রয়েছে অন্য প্রার্থীদের।

রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী শিল্পকারখানা অধ্যুষিত এবং দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার পৈতৃক নিবাস টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। নির্বাচনে খান আহমেদ শুভর প্রতি সাধারণ মানুষের শুভদৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হবে। এদিকে শুভ মনোনয়ন পাওয়ায় দীর্ঘদিনের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা মাঠে নিরলস পরিশ্রম করছেন। একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মির্জাপুর উপজেলা। নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গন অত্যন্ত সরগরম। চলছে নানা হিসাব-নিকাশ এবং সমীকরণ।

মির্জাপুরে ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাঁচবার এবং বিএনপি চারবার, জাতীয় পার্টি একবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার জয়লাভ করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে টানা চারবার এমপি হন প্রয়াত একাব্বর হোসেন। ফলে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একাব্বর হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে স্থানীয় রাজনীতির শক্তিশালী বলয়। এই উপনির্বাচনে একাব্বর হোসেনের স্ত্রী ঝর্ণা হোসেন ও ছেলে ব্যারিস্টার তাহরিম হোসেন সীমান্তসহ ৯ জন মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

এদিকে সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা এবং সাংবাদিক ফজলুর রহমান খান হয়ে ওঠেন জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম ধারক, আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। তিনি ধাপে ধাপে জেলার সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি হয়ে অদ্যবধি আছেন। বাবার দেখানো পথে হেঁটে খান আহমেদ শুভ মির্জাপুরে মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়ে শক্তভাবে মাঠে নামেন। এলাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক এবং উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। কর্মিবান্ধব শুভ মির্জাপুরের তরণ-যুবসমাজের অন্তরে দ্রুতই পাকাপোক্তভাবে স্থান করে নেন। তিনি বঞ্চিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাঁর পিতা এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁকে আপন করে নিয়েছে। ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শুভর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।

নির্বাচনের শেষ সময়ে সরেজমিনে মির্জাপুরে গিয়ে দেখা যায়, মোট পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যেই হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অন্যদের মাঠে তেমনটা প্রচার-প্রচারণা দেখা নেই।

বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির গোলাম নওজব চৌধুরী পাওয়ার (হাতুড়ি) বলেন, ‘পরিবেশ ভালো। চাই জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করুক।’

সতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরু (মোটরগাড়ি কার) বলেন, ‘ইভিএমে ভোট নিয়ে সাধারণ ভোটারসহ আমাদের শঙ্কা রয়েছে। কারণ এতে আমরা অভ্যস্ত নই।’ বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী (ডাব) নির্বাচন হলেই সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। এই অপরিচিত মুখ তিন সন্তানের জননী এবং তাঁর স্বামী একজন কৃষক। তাঁকে মাঠে পাওয়া যায়নি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম জহিরের সমর্থনে জেলার ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ মোটামুটি ভালো। তবে কোথাও কোথাও আমার কর্মীদের হুমকি-ধমকি দিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন। বিষয়টি নির্বাচন কর্মকর্তা  ও পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। চাই সুষ্ঠু নির্বাচন।’

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এম মোজাহিদুল ইসলাম মনির বলেন, ‘শুভ মনোনয়ন পাওয়ায় দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীরা আবার চাঙা হয়েছেন। তাঁরা মাঠে নৌকার পক্ষে জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, গোপনে গোপনে কেউ কেউ নৌকার বিরোধিতা করছে। তবে তারা মাঠে সাড়া পাচ্ছে না।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু নাসের বলেন, ‘আমরা জেলার নেতাকর্মীরা স্থানীয়দের নিয়ে একত্রে মাঠে কাজ অনবরত করছি। নৌকা ও শুভর প্রতি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’

খান আহম্মেদ শুভ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। রাজনীতি করি মানুষের জন্য, কোনো চাওয়া-পাওয়া থেকে নয়। আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাঁর আদর্শ বুকে ধারণ করে সারা জীবন ধরে মানুষের জন্য কাজ করছেন। আমিও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মির্জাপুরবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। আশা করি মির্জাপুরের মানুষ আমাকে সেই সুযোগ করে দেবেন। দেশরত্নকে আসনটি উপহার দেব।’

ভোটারদের অভিমত, বর্তমান সময় তারুণ্যের। তাই যিনি জনগণকে সময় দিতে পারবেন এবং উন্নয়ন করবেন তিনিই ভোটের মাঠে প্রাধান্য পাবেন। যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে নেই। তাই নৌকার প্রার্থীর প্লাস পয়েন্ট।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান বলেন, এই উপনির্বাচনে শতভাগ ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। উপজেলায় তিন লাখ ২২ হাজার ৬৭৪ জন ভোটার। গত ১৬ নভেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৩০ নভেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com