বৃহস্পতিবার  ১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং  |  ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

শিবচরে আবারো আগ্রাসী পদ্মা

আবারো পদ্মায় অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় দফা ভাঙনে মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলের হাসপাতালসহ শতাধিক ঘর-বাড়ি বিলীন হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ৫টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাসপাতালসহ বহু স্থাপনা ও ফসলি জমি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে  ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে প্রথম দফা আগস্টে শিবচর উপজেলার চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি ও বন্দরখোলা এই তিন ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দেয়। সে দফায় একটি মাদরাসা, ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি, ব্রিজ-কালভার্ট, ফসলি জমি পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়। ভাঙনমুখে রয়েছে ৩টি স্কুল ভবনসহ ৫টি স্কুল, ২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র-কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাট-বাজারসহ ৩ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাজারো বসতবাড়ি।

এ ছাড়া আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবর্তী সন্নাসীরচর ও শিরুয়াইল ইউনিয়ন দুটিও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত ১ আগস্ট ভাঙনের ভয়াবহতা পরিদর্শনে আসেন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাৎক্ষণিক নির্দেশে পদ্মা নদীর ২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও আড়িয়াল খাঁ নদের ২টি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করলে ভাঙনের গতি কমে আসে। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টাসহ কয়েক দিনের অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে তীব্র স্রোতের তোড়ে নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। ফলে সোমবার দুপুরে ভাঙনের ব্যাপকতা বেড়ে চরাঞ্চলের দ্বিতল বিশিষ্ট কাঠালবাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটির অধিকাংশ বিলীন হয়ে গেছে। দুই দফা ভাঙনে চরাঞ্চলের ৩ ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনকবলিতরা ঘর-বাড়ি নিয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ। ভয়াবহ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ৫টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাসপাতালসহ বহু স্থাপনা ও ফসলি জমি।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল নোমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টাসহ কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে ভাঙন আবারো তীব্র আকার ধারণ করেছে। চরের একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। চিফ হুইপ মহোদয় সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। আমরা দফায় দফায় আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com