বৃহস্পতিবার  ২৮শে মে, ২০২০ ইং  |  ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

যে গ্রামের সবাই কোটিপতি

গ্রাম বললেই ফসলের ক্ষেত, কাঁচা রাস্তা, মাটির বাড়ি- এমন ছবিই ভেসে ওঠে। কিন্তু বিশ্বে এমনও কিছু গ্রাম আছে, যেগুলো অত্যাধুনিক লাইফস্টাইল এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে অনেক শহরকেও পেছনে ফেলে দেবে।

এমনই একটি গ্রাম চীনের জিয়াংজু প্রদেশের হুয়াক্সি। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গ্রাম বলে দাবি করা হয়। এটি ‘সুপার ভিলেজ’ নামে পরিচিত।

১৯৬১ সালে গড়ে ওঠে গ্রামটি। স্থানীয়দের মতে, ক্ষেতখামার, কাঁচাবাড়ি, রাস্তা- প্রথমদিকে আর পাঁচটা গ্রামের মতোই ছিল হুয়াক্সি। কিন্তু গ্রামটি আধুনিক রূপ পায় কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সেক্রেটারি উ রেনবাওয়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায়।

হুয়াক্সিকে সোশ্যালিস্ট গ্রামের তকমা দিয়েছেন গ্রামবাসীরাই। দাবি করা হয়, একসময় যারা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, আজ তারাই কোটিপতি। গ্রামের প্রতিটি বাসিন্দার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে কমপক্ষে ১০ লাখ ইউয়ান অর্থাৎ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এই গ্রামে সব মিলিয়ে ২ হাজার জনের বাস। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই গ্রামের প্রত্যেক বাসিন্দাকে বিলাসবহুল ঘর, গাড়ি এবং জীবনযাপনের সব রকম স্বাচ্ছন্দ্য, সুবিধা দেয়া হয়। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের গাঁটের কড়ি খরচ করতে হয় না। তবে এসব সুবিধা ভোগ করেন শুধু গ্রামের আসল বাসিন্দারাই।

গ্রামটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় শিল্প, যার শেয়ারহোল্ডার গ্রামবাসীরাই। সংস্থার বার্ষিক লাভের এক-পঞ্চমাংশ দেয়া হয় তাদের।

গ্রামটি এত সমৃদ্ধ যে, এখানে ৭২ তলা বহুতল ভবন রয়েছে। আছে শপিংমল এবং অত্যাধুনিক থিম পার্ক। শুধু তা-ই নয়, চাইলে হেলিকপ্টার সেবাও সহজেই পাওয়া সম্ভব। গ্রামের প্রতিটি ঘরের আকার এবং নকশা একই রকমের। বাইরে থেকে দেখে মনে হবে হাজারও হোটেল সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

নিয়মের দিক থেকে বেশ কড়াকড়ি রয়েছে হুয়াক্সিতে। এখানে সপ্তাহে সাতদিনই কাজ করতে হয় গ্রামবাসীদের। কোনো ছুটি নেই। শুধু তা-ই নয়, গ্রামে জুয়া, মাদক সব নিষিদ্ধ।

গ্রামের আরও আকর্ষণীয় যে বৈশিষ্ট্য তা হল, কেউ যদি একবার এই গ্রাম ছেড়ে চলে যান, তাহলে তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেয় প্রশাসন।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com