রবিবার  ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং  |  ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন : প্রবাসীদের মধ্যে ব্যপক উৎসাহ

করোনার ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটে দ্বিতীয় ধাপে থাবা বসাতে শুরু করেছে কভিড-১৯। আর এমন পরিস্থিতিতেও নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে দেশজুড়ে। ডেমোক্রেটরা সতর্ক প্রচারণা চালালেও, দীর্ঘ মোটরসাইকেল র‍্যালি পর্যন্ত করতে দেখা যাচ্ছে রিপাবলিকানদের।

এরমধ্যে ডাকযোগে এবং অগ্রীম ভোট দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। এরপরও ৩ নভেম্বরের চূড়ান্ত ভোটকে ঘিরে এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও অনেক আলোচনা। স্থানীয় বাংলা ভাষার টিভি, পত্রিকা এ নিয়ে নানা সংবাদ পরিবেশন করছে। সীমিত আকারে খুলে দেওয়া রেস্টুরেন্টেও নির্বাচনী নানা আলোচনা চলছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রানা আহমেদ নিউইয়র্কের কিউ গার্ডেন্সে থাকেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনী আমেজ পছন্দ করেন। দীর্ঘ বন্দিত্বের পর সীমিত আকারে বাইরে বের হলেও, এ নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষে মানুষে অনেক বিভক্তি দেখা যাচ্ছে, এটা কাম্য নয়। আমার মতে যিনিই প্রেসিডেন্ট হন না কেন, তার উচিত হবে, দেশটাকে ঐক্যবদ্ধ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো।

করোনা মোকাবেলা এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক্ষেত্রে ব্যর্থ, এমন অভিযোগ ডেমোক্রেটদের। তবে প্রবাসীদের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে মিশ্র ধারণা। বেকার ভাতা, প্রণোদনা প্যাকেজসহ অর্থনৈতিক নানা সুবিধা পাওয়ায় অনেকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন। নিবন্ধিত রিপাবলিকান প্রিয়তোষ দে তাদের মধ্যে একজন। তিনি বলছিলেন, ‘আসলে ট্রাম্পের কোন বিকল্প নেই’।

তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ট্রাম্পের করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগ সমর্থন করেন, এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। সেই সাথে অভিবাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বর্ণবাদসহ নানা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষক মোহাম্মদ মালেক বলছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমনকি শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথাটুকু দিচ্ছেন না। এটা তো ঠিক নয়। নির্বাচনে তার পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অভিজ্ঞ, ভদ্র এবং মানবিক হিসেবে আমি জো বাইডেনকেই সমর্থন করবো।

দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারি অধিকাংশ বাংলাদেশির পছন্দও অবশ্য জো বাইডেন। ডেমোক্রেটিক দলের এই প্রার্থী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে জড়িত জো বাইডেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। অনেকদিন ধরে সিনেটর ছিলেন, ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ নানা পদে।

সাধারণত বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের বেশিরভাগের সমর্থণ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতি প্রায় একচেটিয়া ছিল। যদিও ইদানিং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কিছুটা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্রেট দলকে সমর্থনকারী অনেক সংগঠন আগেই ছিল। ইদানিং রিপাবলিকানদের সমর্থনকারী কয়েকটি সংগঠন করে তুলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এমনকি তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনে নানা কর্মসূচি পর্যন্ত পালন করছেন।

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়াননি। বরং যুদ্ধ বন্ধ করেছেন’। এই বিষয়টি উল্লেখ করে রিপাবলিকান সমর্থক নাসির আলী খান পল বলেন, ‘দেশে-বিদেশে সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি। বিজয়ী তিনিই হবেন।’

কিন্তু কুইন্সের বাসিন্দা রেহানা চৌধুরী মনে করেন, ‘ভোটের মাঠে জো বাইডেনই এগিয়ে আছেন। তার কর্মপরিকল্পণা সুস্পষ্ট।’ আর ডেমোক্রেটিক দল অভিবাসীদের জন্যে ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাকেই ভোট দেবো, এটা নিশ্চিত।’

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com