শুক্রবার  ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ ইং  |  ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ২৬শে রবিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

যতই ঝুঁকি আসুক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে

সবাইকে দুর্যোগের ঝুঁকি বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এই দেশটা আমাদের, কাজেই যত ঝুঁকি আসুক, দেশের উন্নয়ন আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। দারিদ্র্যের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৫০ বছরে পদার্পণ এবং আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২১ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের অন্য প্রান্তে মুক্তিযোদ্ধা মাঠ কক্সবাজার প্রান্তও সংযুক্ত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সারা বিশ্বে আজকে দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় একটি আদর্শ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আমাদের এই সম্মান যাতে বজায় থাকে সে জন্য ভবিষ্যতে সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে।’

তিনি এই সময় ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর আওয়ামী লীগের সংসদে এই নিয়ে কথা তোলার পরিপ্রেক্ষিতে সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উক্তি ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি’ উল্লেখ করে বলেন, এই কথা জীবনে যেন আর শুনতে না হয় সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং মানুষকে সচেতন করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো এনামুর রহমান এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চারটি ইউনিটেরও উদ্বোধন করেন।

সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের দলে নারী স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত করায় এই কর্মসূচি অতীতের থেকে আরো বেশি কার্যকর হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে যাতে আমরা মুক্ত হতে পারি, সেই ব্যবস্থা আমরা সব সময় নেব।’

জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মানুষকে দুর্যোগ নিরাপত্তা প্রদানসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণেও তাঁর সরকার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে যে এগিয়ে যাবে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রেখেই আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দিয়ে গেলাম।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের পাশে আছে। দুর্যোগে আর কেউ না থাকুক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সব সময় পাশে রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল গঠন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন করেছে এবং এই আইনের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠন করছে, যা দুর্যোগ মোকাবেলা, ঝুঁকি হ্রাসকরণ ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুহারা মানুষের দুর্দশার বিষয়গুলো আমলে নিয়ে সরকার ২০১৫ সালে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করে এবং জাতীয় রিজিলিয়েন্স পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ও এসডিজির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

এই বদ্বীপ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ তাঁর সরকার শুরু করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বন্যা আমাদের আসবেই; কাজেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার বা বন্যার সঙ্গে বসবাস করার অভ্যাস আমাদের করতে হবে। বন্যায় মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সম্পদ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেভাবেই আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় আমাদের জলাধার থাকতে হবে।’ সূত্র : বাসস।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com