শনিবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং  |  ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ২৯শে মুহাররম, ১৪৪২ হিজরী

মারা গেলেন আরো ২৮ জন, শনাক্ত ২,৭৭২

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৭২ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ১১১ জন। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন দুই লাখ ৩৭ হাজার ৬৬১ জন।

আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁরা ২২ জন পুরুষ এবং ছয়জন নারী। এঁদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন এবং ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে চারজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ১১১ জনের।

এ পর্যন্ত যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ৪৪৬ জন এবং নারী ৬৬৫ জন। আর বয়স বিবেচনায় এ পর্যন্ত যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁরা এঁদের বয়স ০ (শূন্য) থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২০৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৩৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮৯৭ জন এবং ষাটোর্ধ এক হাজার ৪৩৭ জন।

জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা ঢাকা বিভাগের ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আটজন, খুলনা বিভাগের দুইজন, রাজশাহী বিভাগের তিনজন, বরিশাল বিভাগের একজন এবং রংপুর বিভাগের একজন। এঁদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।

বিভাগ অনুযায়ী এ পর্যন্ত যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁরা ঢাকা বিভাগের এক হাজার ৪৮৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৭৫৯ জন, রাজশাহী বিভাগের ১৮৫ জন, খুলনা বিভাগের ২২১ জন, বরিশাল বিভাগের ১২২ জন, সিলেট বিভাগের ১৫১ জন, রংপুর বিভাগের ১১৮ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৬৭ জন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ১৭১ জন। এ নিয়ে দেশের করোনা সংক্রমণ থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৩৫ হাজার ১৩৬ জন।

ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ১৭০টি। একই সময় পূর্বের নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৬১৪টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে দুই হাজার ৭৭২ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন দুই লাখ ৩৭ হাজার ৬৬১ জন। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৯টি।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৭৫৯ জনকে। একইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ১৭ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ৫০ হাজার ৭১০ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪০০ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৩১০ জন।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে গেছেন দুই হাজার ৮৯ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট চার লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই  হাজার ৬৯০ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন লাখ ৭৯ হাজার ৬৬২ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৬ হাজার ৮২৪ জন।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে সেবা প্রদান যায় বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর’র হটলাইনে কল এসেছে ৭০ হাজার ২৭৮টি। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ফোনকল এসেছে এক কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৯টি।  এসব কলে সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুলেটিনে জানানো হয়, আজ ৩১ জুলাই থেকে আইইডিসিআর’র কেবল ১০৬৫৫ হটলাইন নম্বরটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং অন্য নম্বরগুলো বন্ধ রয়েছে।

টেলিমেডিসিন সেবায় প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক এবং ১০ জন স্বাস্থ্যতথ্য কর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিনে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন তিন হাজার ৮৩২ জন। এ পর্যন্ত এক লাখ ৫২ হাজার ১৩৯ জন এই সেবা গ্রহণ করেছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com