শুক্রবার  ২২শে অক্টোবর, ২০২১ ইং  |  ৬ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

মহাঅষ্টমীতে ভক্ত-দশনার্থীদের ঢল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে রাজধানীর কোনো মণ্ডপে কুমারী পূজা হয়নি। তবে সকাল থেকেই সকল মন্দিরে পূণ্যার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। সন্ধ্যায় মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীদের ঢল নামে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মহানবমী পূজায় ভীড় আরো বাড়বে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

আজ বুধবার মহাষ্টম্যাদি পূজা প্রশস্তা ও ব্রতোবাস এবং সন্দ্বীপূজার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন মহাঅষ্টমী। অষ্টমীর দিনে সকালে ষোড়শ উপাচারে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর পূজা। ১০৮ পদ্ম এবং প্রদীপ দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয়। করোনা সতর্কতা মেনে পুস্পাঞ্জলি গ্রহণ এবং সন্ধিপূজা হয়। ভক্তদের অনেকেই অঞ্জলি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে নিয়েছেন।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে দেবীর মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। অষ্টমীর রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে সন্ধি পূজা শুরু ও রাত ১২টা ৪২ মিনিটে সমাপনী হয়। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এই সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন দুপুরে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অষ্টমী তিথিতে মহামায়ার ষষ্টক অর্থাৎ ৬ বছরের কুমারী রূপ উমার পূজা করা হয়। পৃথিবীতে যেন নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠিত হয় এ বার্তাটি দেওয়া হয়ে থাকে এ পূজার মাধ্যমে। তবে এবারও কুমারী পূজার আয়োজন হয়নি।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল বলেন, গত বছরের মতো এবারও রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়নি। মহামারির কারণে মহাঅষ্টমীর দিন এবারও হচ্ছে না কুমারী পূজা। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঢাকার বাইরে হবিগঞ্জে ও যশোর রামকৃষ্ণ মঠসহ কোথাও কোথাও এবার কুমারী পূজা হয়েছে বলে তিনি জানান।

হবিগঞ্জের বাহুবলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মাতুলালয় শ্রীশ্রী শচীঅঙ্গন ধামে অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা। বেলা ১১টায় কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখানে কুমারী হিসেবে পূজিতা হন মাধবপুর উপজেলার নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী স্নেহা চক্রবর্তী। তিনি সবুজ চক্রবর্তী ও শক্তি চক্রবর্তীর কন্যা। কুমারীর শাস্ত্রীয় নাম ‘অপরাজিতা’। কুমারী রূপে স্নেহাকে আসনে বসানোর সময় অসংখ্য পুণ্যার্থী সমস্বরে ‘দুর্গা মায় কি জয়’, ‘কুমারী মায় কি জয়’ বলে ধ্বণি দিতে থাকেন। কুমারী পূজা সম্পন্ন হলে ভক্তরা মাকে প্রণাম করেন। কুমারী পূজা শেষে ভক্তরা দেবী দুর্গার পায়ে অঞ্জলী নিবেদন করেন।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই দেবী দর্শনে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সকাল সাড়ে ৯টায় অষ্টমী পূজার পুষ্পাঞ্জলি শুরু হলে ভীড় বাড়তে থাকে। ফুলে-ফলে ভরে যায় মন্দির চত্বর। বাহারি সজ্জায় সাজানো হয়েছে পুরো ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণ। চলমান করোনা পরিস্থিতির দিকেও রাখা হয়েছে বিশেষ নজর। পুরো মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ-আনসারসহ একাধিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনের পূজাও বেশ নজর কেড়েছে দেশবাসীর। ধরা হয় সব থেকে জাঁকজমকপূর্ণ কুমারী পূজা হয় সেখানে। কিন্তু এখানেও এবার হয়নি কুমারী পূজা। তবে সেখানে নানা অনুষ্ঠানের কারণে সারাদিনই ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম ছিলো। সন্ধ্যা আরতিতে ভীড় ছিলো বেশী।

রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ আয়োজিত দুর্গাপূজা মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, শাঁখারী বাজার, রমনা কালীমন্দির, পশ্চিম ধানমণ্ডির দুর্গা মন্দির, আখড়া মন্দির, নিমতলা মন্দির, ফার্মগেট, বনশ্রীসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও জমকালোভাবে আয়োজন করা হয়েছে দুর্গাপূজার। পূজা উপলক্ষে অলিগলি থেকে রাজপথ আলোর নানা রঙের ছটা ছাড়াচ্ছে সর্বত্র। মন্দিরে মন্দিরে ছিলো আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার মহানবমী। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকানুযায়ী ভোর ৫টা ১৭ মিনিট থেকে সকাল ৭ টার মধ্যে দুর্গাদেবীর মহানবমী কল্পারম্ব ও বিহিত পূজা প্রশস্ত। অনেকের বিশ্বাস মহানবমীর দিন হচ্ছে দেবী দুর্গাকে প্রাণ ভরে দেখে নেওয়ার ক্ষণ। এই দিন অগ্নিকে প্রতীক করে সব দেবদেবীকে আহুতি দেওয়া হয়। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এই দিনই দুর্গাপুজার অন্তিম দিন। পরের দিন কেবল বিজয়া ও বিসর্জনের পর্ব। নবমী নিশিথে উৎসবের রাত শেষ হয়। নবমী রাত তাই বিদায়ের অমোঘ পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়। এসব বিবেচনা করে অনেকেই মনে করেন নবমীর দিন আধ্যাত্মিকতার চেয়েও অনেক বেশি লোকায়ত ভাবনায় ভাবিত থাকে মন।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে এবছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই উৎসব আগামী শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে। এবারো বিসর্জন শোভাযাত্রা থাকছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com