শিরোনাম
সোমবার  ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং  |  ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরী

ভেঙে যাওয়া ফ্রেম, ক্ষয়ে যাওয়া চলচ্চিত্রের নমুনা

শাকিব, জায়েদ, পরীমণি- এই তিনজনের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। শাকিব খানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ছবিটি আপলোড করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীমণি ইস্যুতে ছবিটি নতুনঅভাবে ভাইরাল হয়েছে। আর এ নিয়েই মেতেছেন নেটিজেনরা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একদিকে জায়েদ খান, আরেকদিকে শাকিব খান।

ছবিটি যেসময়ের সে সময়ের হিসেব ছিল সহজ। এক। সকলের মত ছিল এক জায়গায়। আজ তিনজনেই চলচ্চিত্রে রয়েছেন ঠিকই তবে তিনজনের মত, তিনজনের পথ একেবারে আলাদা। তারা পথে দাঁড়িয়েছিলেন এ দেশে ভারতীয় চলচ্চিত্র যেন না প্রবেশ করে, এজন্য দিনের পর দিন তারা একসঙ্গে পথে দাঁড়িয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হয়তো তারা সফল হননি, কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজেও ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানি ঠেকাতে চেয়েছিলেন। বাঁচাতে চেয়েছিলেন এদেশের চলুচ্চিত্র শিল্প। অথচ শাকিব-জায়েদ খানের মুখে আজ ভিন্ন কথা, পরস্পর পরস্পরকে চলচ্চিত্রের ক্ষতিকর ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।

যে পরীমণি ছিলেন দুজনের মাঝে, যে পরীমণি ছিলেন জায়েদ খানের প্রথম নায়িকা।  পরীমণি আটক হওয়ার পর সেই জায়েদ খানও পরীমণির পক্ষে ছিলেন না। যদিও জায়েদ বলতে চান সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি বা তার সংগঠন পক্ষে ছিল না। তবে সংগঠনের জেষ্ঠ্যদের এ বিষয়ে নাকি অভিমতই নেওয়া হয়নি। পরীমণিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় সদস্যপদ থেকে।

অন্যদিকে শাকিব খান পরীমণির পক্ষে ছিলেন। তাও যে পুরোপুরি পক্ষে এমনটাও না। শাকিব ‘সেইফ জোন’ থেকে পরীমণির পক্ষে ছিলেন। পরীমণি গ্রেপ্তারের পর পুরো দেশ যেমন তার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল। সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন জায়েদ খান বা আরো অনেকেই, শাকিব এখানেই ছিলেন কৌশলী। গা ভাসাননি স্রোতে, সময় সুযোগ বুঝে নিজের অভিমত দিয়েছেন।

পরীমণি গ্রেপ্তারের ১৫ দিন পর নিজের অভিমত জানান শাকিব। অবশ্য ততদিনে পরীমণির পক্ষে একটা জনমত তৈরি হয়ে গেছে, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের একটা অংশ পরীমণির মুক্তি চাওয়া শুরু করেছেন। এরপরে শাকিব এমন একটি ‘স্টেটমেন্ট’ দিলেন যেখানে জায়েদ খান বা সংগঠনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়ে গেল। অথচ শাকিব খান সেই সংগঠনের দায়িত্বে থেকেও উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করতে পারেননি।

যাইহোক, পরীমণি জামিন পেয়েছেন। তার এই জামিনে চলচ্চিত্রের সংগঠনগুলো এগিয়ে আসেনি, বরং এগিয়ে না আসায় ক্রমাগত সমালোচনার শিকার হয়েছে এই বলে যে, সংগঠনগুলো শিল্পীর স্বার্থে শিল্পীর পাশে ছিল না, থাকে নি। অথচ অনেক ‘অপরাধী’ শিল্পীকেও তারা ‘শেল্টার’ দেয়। এটা ওই সঙ্গঠনগুলোর জন্যই আফসোসের কারণ হয়ে থাকবে বলে এফডিসির জুনিয়র শিল্পীরাও মনে করেন।

আর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে যেমন তেমনই সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে। শেষ পর্যন্ত কোথাকার জল কোথায় দাঁড়ায় সেটা সময়ই বলে দেবে। শুধু এই ছবিটি বলে দিচ্ছে- একটি ফ্রেম ভেঙে কত টুকরো হতে পারে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com