বুধবার  ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে পর্যটন’

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে পর্যটন’

পর্যটন বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা। তিনি বলেছেন, এজন্য মেঘালয় ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটন শিল্পে সরকারী ও বেসরকারী খাতে সহযোগিতা বিনিময় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি পর্যটন দুই দেশের মানুষকে আরো কাছাকাছি আনবে, যা পরবর্তীতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এজন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সমস্যা দুর করার ব্যাপারে আমরা উভয় দেশ কাজ করছি।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের ট্যুর অপারেটরদের মধ্যে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারতের মেঘালয়ের মূখ্যমন্ত্রী কনরাড কনভ্যাল সাংমা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের ট্যুর অপারেটর সংগঠনগুলোর মধ্যে এমওইউ (মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে চুক্তি বিনিময় করেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ মেঘালয় (টোয়াম)-এর সভাপতি ই, বি ব্লা এবং ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডি ইনবাউন্ড) সভাপতি রেজাউল একরাম। অনুষ্ঠানে মেঘালয়ের পর্যটন শিল্প নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন টোয়াম সহসভাপতি জন এম ওয়ানখার এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে উপস্থাপনা দেন টোয়াবের উপদেষ্টা সৈয়দ গোলাম কাদিও, টেয়াবের পরিচালক তৌফিক রহমান, পরিচালক (ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার) তসলিম আমিন শোভন।

এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতে মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটনের অবকাঠামোগত নানা সমস্যা তুলে ধরেন বিডি ইনবাউন্ডের সভাপতি রেজাউল একরাম। ভারতীয় হাইকমিশনের চ্যান্সেরি প্রধান মিথুন টি. আরসহ  দুই দশের পর্যটনখাত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এতে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে উভয় দেশের ট্যুর অপারেটররা আরো কাছাকাছি আসবেন এবং আরো ঘনিষ্টভাবে কাজ করতে পারবেন। আমরা খুব শিগগিরই আবার বসবো এবং পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের উপায় বের করবো। মেঘালয় সরকার এক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী।’

তিনি বলেন, আপনারা মেঘালয়ে আসুন। আমরা কাছাকাছি এলে আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস আরো সুদৃঢ হবে। তখন সবকিছুই স্বাভাবিকভাবেই তৈরী হবে। আমরা সড়ক, রেল এবং আকাশপথে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ আরো বাড়াতে আগ্রহী। বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতা দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার এখনই সুবর্ন সময়।

অনুষ্ঠানে মেঘালয়ের মূখ্যসচিব ড. পি, শাকিল আহমেদ বলেন, ‘একমাত্র মেঘালয়ে আপনারা পবেন এসি (এয়ারকন্ডিশনার) ছাড়াই প্রাকৃতিক এসির পরিবেশ। এখানে পাহাড়, ঝর্ণা ও অসাধারন প্রকৃতি পর্যটকদেও মন কাড়বে। আমরা আপনাদের সেবা দেওয়ার ব্যাপরে খুবই আগ্রহী। আমরা ভবিষ্যতে ট্যুর অপারেটর ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে ফ্যাম ট্রিপসহ বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেব।’

টোয়াম সভাপতি ই, বি ব্লা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ২১ লাখ পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেন। এসব পর্যটক কলকাতা, দিল্লী, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালুর গেলেও মেঘালয়ে কম আসেন। তারপরও আমাদের মোট পর্যটকের ৯৫ শতাংশই বাংলাদেশি। তাই আমরা এই পর্যটক বৃদ্ধির পাশাপাশি মেঘালয় থেকেও বাংলাশে পর্যটক বৃদ্ধি করতে অবাকাঠামোসহ অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করতে চাই।’

তিনি বলেন, আজকের আমাদের এই মতবিনিময় একটি ‘গোল্ডেন অপরচুনিটি’।  মেঘালয়ের সরকারের সঙ্গে মিলে আমাদের সরাসরি কাজের সুযোগ রয়েছে। আমরা একে অপরের পর্যটকদের কাছে একে অপরের আকর্ষণীয় পর্যটন উপাদানগুলো তুলে ধরতে পারি।

অনুষ্ঠানে বিডি ইনবাউন্ড সভাপতি রেজাউল একরাম মেঘালয় ভ্রমণে অবকাঠামো ও ভিসা সমস্যা সমাধানের আহবার জানিয়ে বলেন, ‘মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রসবর্ডার ট্যুারিজমের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা কানেকটিভিটি ও ভিসা সমস্যায় কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ভারত ভিসা সহজ করলেও মেঘালয়ের জন্য পৃথক এনডোর্সমেন্ট প্রয়োজন হয়। এছাড়া বাস সার্ভিস ভালো না। সপ্তাহে একদিন যাতায়াত করে। বর্ডারে যাত্রীদের জন্য কোন শেড কিংবা বিশ্রামাগার নেই। তামাবিল বর্ডারে ভালো কোনো যানবাহন ব্যবস্থা না থাকায় খেয়ালখুশি আদায় করে স্থানীয়রা। বাংলাদেশ থেকে শুধু শ্যামলি পরিবহন যাতায়াত করে। পর্যটক বাড়াতে হলে মেঘালয় থেকেও বাস, রেল এবং আকাশপথে যোগাযোগ জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশ এবং ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।’

অবকাঠামো সমস্যা নিয়ে কনরাড কে সাংমা বলেন, আমাদের দিক থেকে অবকাঠামো এবং পরিবহনখাতের উন্নতি করতে হবে এটা ঠিক। দু দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়েও এ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আমরা দুই পক্ষের পর্যটনখাতের উন্নয়নে কাজ করবো। আমাদের একটি সুবিধাজনক প্রক্রিয়া বাস্তবাবায়ন করতে হবে। ফলে দু দেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ আনন্দঘন হয়। এতে পর্যটকদের মধ্যেও আস্থা সৃষ্টি হবে।

টোয়াব পরিচালক তৌফিক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে কক্সবাজার, সুন্দরবনসহ বেশ কয়েকটি বিশ্বসেরা নিদর্শন আছে যা দেখতে মেঘালয়ের পর্যটকরা আসতে পারেন। এজন্য যৌথ গবেষণা, প্রডাক্ট আইডেন্টিফিকেশন এবং মার্কেটিং করা যেতে পারে। এছাড়া উভয় দেশের ট্যুর অপারেটন এক্সটেন্ডেড ট্যুরিজম করতে পারেন। যার ফলে উভয় দেশেই পর্যটক বাড়বে।’

টেয়াবের পরামর্শক সৈয়দ গোলাম কাদির বলেন, ‘বাংলাদেশ ভৌগলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণে ভারতের সঙ্গে পর্যটন বিকাশের ব্যাপক সুযোগ আছে। এজন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সকল স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত উন্মুক্ত করতে হবে। এছাড়া নৌ, আকাশপথে ওয়ানস্টপ সার্ভিস দিয়ে কানেকটিভিটি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।’

টোয়াব সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভারত থেকে আরও বেশি পর্যটক বাংলাদেশে আনতে সেখানে বাংলাদেশের হাইকমিশনকে আরও গতিশীল হতে হবে। একইসঙ্গে ভারতের উচিত আমাদের এখানকার অপারেটরদের ভারতে দুতিন বছরের মাল্টিপল এন্ট্রিভিসা সুবিধা দেওয়া। প্রত্যেকের পক্ষে ভিসা জমা দিতে যাওয়া সম্ভব নয়। গ্রুপ ট্যুরের ক্ষেত্রে সবার পক্ষে একজনকে ভিসা সেন্টারে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ভারত ভিসার ব্যাপারে উদার হলেও এখনো সবগুলো এন্ট্রিপয়েন্ট উন্মুক্ত করেনি। ফলে নির্ধারিত কয়েকটি বর্ডার দিয়ে যাতায়াত করতে হয় পর্যটকদের।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com