বুধবার  ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৮ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

বিশ্ব অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ কর

পৃথিবী সৃষ্টির পর কোনো এক সময় মানুষ জাতির সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টির পর থেকে চলছে সংগ্রাম, বেঁচে থাকার সংগ্রাম। নানাভাবে হিসাব করা হয়েছে আমাদের পূর্বপুরুষের ইতিহাস। তাদের বেশিরভাগ সময় পার হয়েছে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার জন্য। যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল কোনো এক সময়, যার শেষ হয়নি আজও।

অনেক গরীব দেশেই মানুষের খাবার নেই, বাসস্থান নেই, ওষুধ নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, শুধু নেই আর নেই। অন্যদিকে যেমন পৃথিবীর অনেক ধনী দেশে পর্যাপ্তের বেশি পরিমাণ খাবার থাকার কারণে এবং তার সমস্যার সমাধান করার জন্য অনেক সময় সেই অতিরিক্ত পরিমাণ খাবার ফেলে দেয় সাগরে। তবুও তা গরীব দুঃখীদের ধারের কাছে আসে না।

আমরা বিশ্বজুড়ে মানুষ জাতি বসবাস করছি নানা বর্ণে, নানা ধর্মে, নানা দেশে। মানুষ জাতির মৌলিক চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়নি আজ অব্দি, তাতে ক্ষতি নেই। অনেক দেশের মানুষ না খেয়ে মরছে, অসুখে ভুগছে, বাসস্থানের অভাব, তাতে কিছু যায় আসে না। অন্যদিকে আধুনিক অস্ত্র কিনে গুদামজাত করা হচ্ছে। কারণ বহিঃশত্রুর মোকাবিলা করতে হবে, যদি কেউ আক্রমণ করে। বিলাসিতার চাহিদা পূর্ণ করতে হবে, আগে বিলাসিতা, পরে মৌলিক চাহিদা। আজ বিশ্ব বিলাসিতায় ভরপুর তবুও আরো ভরপুর করার চেষ্টা চলছে, চলবে..।

আমি মাঝেমধ্যে সুইডেনেও একটু আধটু লিখি। আজ একটি লেখা শেষ করেছি। ভাবলাম লেখাটি বাংলা ভাষাতেও লিখি, বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য। জানি অনেকে আমার লেখাকে অপছন্দ করবে সুইডেনে, কিন্তু তাতে সমস্যা নেই, কারণ আমার ব্যক্তিগত মতামত আমি প্রকাশ করতেই পারি একটি গণতান্ত্রিক দেশে।

১৬ বছরের এক মেয়ে গ্রেতা টুনবেরি (Greta Thunberg) সুইডিশ, জন্ম জুন ৩, ২০০৩। সে স্কুলছাত্রী এবং সেই সঙ্গে জলবায়ুর উপর একজন দক্ষ কর্মী (activist)। সে খুব অল্প বয়সেই জলবায়ুর উপর সংগ্রাম করে চলছে। ২০১৮ সাল থেকে সুইডেনসহ ইউরোপে এবং বর্তমানে গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। খুবই ভালো কথা।

নতুন প্রজন্ম প্রতিবাদ করতে শুরু করেছে। ক্ষমতাবান রাজনীতিকদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে উঠে পড়ে লেগেছে। তার প্রতিবাদের অংশবিশেষ হলো সে প্লেনে চলাচল বন্ধ করেছে। জলবায়ুর ওপর একটি বিশ্ব কনফারেন্স হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে সে বিশেষভাবে তৈরি পালতোলা নৌকায় করে সাত সাগর পাড়ি দিয়ে সেই মিটিংয়ে যোগ দিবে।

বিষয়টি গোটা বিশ্বে সৃষ্টি করেছে। যা আমার কাছে এত বিরক্তিকর লেগেছে যে শেষে কলম ধরতে বাধ্য হয়েছি। বাধ্য হয়েছি এই ভেবে যে, যেখানে এখনও আমরা আমাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম, যেখানে মাদকাসক্তি, খুনখারাবি, নানা ধরনের রোগব্যাধি এবং শিক্ষা সমস্যার সমাধান করতে পারিনি; সেখানে প্লেন চালানো বন্ধ বা গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে? পৃথিবীর উন্নতির ধাপকে পিছে টেনে আনতে হবে? কিন্তু কেন? বরং উপায় খুঁজতে হবে ভালো কিছু করা যায় কিনা।

যেমন সূর্যকিরণ ব্যবহার, পানিকে ভেঙ্গে তার অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেনকে পৃথক করার পদ্ধতি বের করার ভাবনা দিতে পারে জলবায়ু সমস্যা সমাধান। যদি সত্যিকার অর্থে কিছু বর্জন করতে হয় তবে প্রথমে বন্ধ করে দেয়া হোক পৃথিবীর সমস্ত অস্ত্র তৈরির কলকারখানা। কারণ ধনী দেশগুলো এখনও দরিদ্র দেশের জন্য অস্ত্র তৈরি করছে আর দরিদ্র দেশগুলো তার দেশের বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করে সে অস্ত্র কিনছে। অথচ অস্ত্রের পরিবর্তে তারা সে অর্থ ব্যয় করতে পারে দেশের উন্নয়নের জন্য।

সুইডেন অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে অন্যতম। তাই লিখেছি গ্রেতাকে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে আমেরিকায় জলবায়ু মিটিংয়ে পাঠানো শুধুমাত্র বিশ্বকে দেখানো যে সুইডেন in a broader perspectiveএ জলবায়ু বিষয়ে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। সর্বোপরি সুইডেনের নিয়ম সবার জন্য প্রাইমারি স্কুলে (up to class nine) যাওয়া বাধ্যতামূলক।

অথচ গ্রেতাকে এক বছরের জন্য ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে যা সচরাচর সুইডিশ নিয়মের বাইরে। মনে হচ্ছে জলবায়ু ইস্যুতে সুইডেনের ইমেজ বাড়াতে একজন স্কুলছাত্রীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি মনে করি যদি সত্যিই জলবায়ুর জন্য কিছু করার ইচ্ছে থাকে তবে অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করা হোক আগে। তাহলে বিশ্ব স্বস্তি ও শান্তিতে থাকতে পারবে। জানিনা কিভাবে নেবে সুইডিশ জাতি আমার এ উপদেশ!

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com