বুধবার  ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং  |  ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ২২শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

বিনিয়োগের কেন্দ্রে বেপজা ইজেড

প্রথমবার ২০১১ সালে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য দুই হাজার একর জমি চেয়েছিল বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিকস পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। দ্বিতীয়বার ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বেপজার (বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষ) কাছে ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম ইপিজেডে ৫০০টি শিল্পপ্লট চায় কোরিয়াভিত্তিক বিশ্বের এই নামি বহুজাতিক কম্পানিটি। কিন্তু দুইবারই পছন্দ অনুযায়ী লোকেশনে জমির অপ্রতুলতায় স্যামসাংকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে যেকোনো বিনিয়োগে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বেপজার নতুন প্রকল্প ‘বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ এর প্লট নিয়েও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। মিরসরাইয়ে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে এক হাজার ১৩৯ একর জমির ওপর গড়ে তোলা বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৫৩৯টি শিল্পপ্লটের বিপরীতে চাহিদা জমা পড়েছে ৬৪৩টি শিল্পপ্লটের। এরই মধ্যে ১৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি প্লট সাময়িক বরাদ্দও দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বেপজা সূত্র জানায়, আয়তনের দিক থেকে এটিই হবে বেপজার সবচেয়ে বড় প্রকল্প। কারণ বেপজার আওতাধীন আটটি ইপিজেডের সম্মিলিত আয়তন দুই হাজার ৩০৮ একর। সেখানে মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের আয়তন প্রায় এর অর্ধেক (১১৩৮.৫৫ একর)। বেপজা আশা করছে, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে এখানে সাড়ে চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হবে এবং পাঁচ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জানতে চাইলে বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটা সময় জায়গা সংকটের কারণে শুধু স্যামসাং নয়, জাপানি জায়ান্ট ইলেকট্রনিকস কম্পানি সনি করপোরেশন এবং সুমিতমো করপোরেশনকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল। কিন্তু এখন আমাদের কাছে জমি আছে। যদি এমন কোনো বিশ্বখ্যাত কম্পানি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আসে তবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী জমি দেওয়া হবে। এই মুহূর্তেও আমাদের শিল্পপ্লটের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। এ কারণে আমরা দেখে-শুনে বিনিয়োগ অনুমোদন দিচ্ছি। তবে বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্যের প্রস্তাবগুলো বিশেষ বিবেচনা করা হবে।’

এদিকে চাহিদার বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মানের ফুডকোর্ট, পাঁচতারা হোটেল ও ডরমিটরি স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আরো ৩০০ একর জমি চেয়েছে বেপজা। সে ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত মেলেনি। তবে না পেলেও নিজেদের জমিতেই এসব সুবিধা গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।

বেপজা সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ৮১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৬৪৩টি শিল্পপ্লটের চাহিদা পাওয়া গেছে। বর্তমানে প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্যমাত্রার ২৫০টি শিল্পপ্লটের মধ্যে এরই মধ্যে ১৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি প্লট সাময়িক বরাদ্দও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এসেছে দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ থেকে। ‘বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল’ নামের কারখানা থেকে গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ, বাইসাইকেল, খেলনা, সিরামিক পণ্য উৎপাদনের জন্য বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা (সাত কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে গ্রুপটি। এর পরেই আছে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেড। ক্যাম্পিং সরঞ্জাম উৎপাদনের জন্য পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে। এতে ১০ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হবে।

তাঁবুশিল্পে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল। চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেডে এই গ্রুপের চারটি কম্পানিতে এরই মধ্যে ১৬ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছে। নতুন করে সম্প্রসারণের জন্য এবার বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে আরো ১৫টি প্লট চেয়েছে এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল। পাঁচ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগে এইচকেডি আউটডোর ইনোভেশন লিমিটেড নামের যে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা হচ্ছে তাতে আরো সাড়ে পাঁচ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হবে।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com