বুধবার  ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং  |  ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ২২শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

বিদায়ী বছরে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন নারী ফুটবলাররা

বছর শেষে সাধারণত পুরুষ ফুটবল দলের পারফরের্মন্সেরই মুল্যায়ন করা হয়। বিশ্লেষণ করা হয় তাদের সফলতা ও ব্যর্থতার। তবে ২০২১ সালের আলোচনায় নেই বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল। গত এক বছরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিলেও নেই কোনো সফলতা। মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় ছাড়া আর কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি। নেপালে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় আসর ও সর্বশেষ শ্রীলঙ্কায় চার জাতির প্রাইম মিনিস্টার কাপেও তারা ব্যর্থ।

পুরুষ দল বড় কোনো ট্রফি জয়ে ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের আনন্দে ভাসিয়েছে নারী ফুটবল দল। সাফ অনুর্ধ -১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এশিয়ার অন্যতম ফুটবল পরাশক্তি ভারতের অনুর্ধ-১৯ নারী ফুটবল দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত দল হিসেবে শিরোপা অক্ষুণ্ন রেখেছে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ নারী ফুটবল দল। এই জয় দিয়ে মারিয়া মান্ডার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল যে শুধু দেশের মান বাঁচিয়েছে তাই নয়, বিজয়ের মাসে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে স্বীধনতার ৫০ বছর পুর্তি উদযাপনের মুহূর্তকে দেশের ফুটবল অনুরাগীদের স্মরণীয় করে রাখার একটি মুহূর্তও উপহার দিয়েছে।

এর বাইরেও নারী ফুটবল দল ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনকে দারুন ভাবে মাতিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের নারীরা ফুটবল খেলবে, সেটি ভাবতেই অবাক লাগত। তবে মানুষের সেই মণোভাব ভেঙ্গে দিয়ে দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মান বইয়ে আনতে শুরু করেছে নারী ফুটবল দল। যা সত্যিই গর্ব করার মতো। প্রায় দেড় যুগ ধরে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দলের সফলতা যেখানে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে, সেখানে নারীরা বিভিন্ন আসরে একের পর এক শিরোপা জয়ের মাধ্যমে দেশের সম্মানকে সমুজ্জল রেখে চলেছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে নারী ফুটবলের উন্নতি চোখের পড়ার মত। ,পুরুষ ফুটবল দল যেখানে শিরোপা জয়ের জন্য সংগ্রাম করছে, সেখানে নারী ফুটবল দলের কাছ থেকে কিছুই আশা করার ছিল না। তবে অসাধ্য সাধন করে সাফ ট্রফি জিতে নিয়েছে মারিয়া মান্ডার দল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের  রাউন্ড রবিন লিগ পর্বে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে হিমালয় কন্যা নেপালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলেও আর পেছানে ফিরে তাকায়নি। এরপর  ভুটানকে ৬-০ গোলে, ভারতকে ১-০ গোলে এবং লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১২-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হিসেবে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

ফাইনালে আগ্রাসী মেজাজে খেলে সফরকারী ভারতীয়দের নাস্তানাবুদ করতে থাকে বাংলাদেশের কিশোরীরা। এই সময় বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগও হাতছাড়া করে স্বাগতিক দল। ম্যাচ দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক দর্শক হাজির হয় কমলাপুরস্থ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে। শেষ পর্যন্ত তাদের হতাশ হতে হয়নি। ম্যাচের ৮১ মিনিটে স্বাগতিকদের হয়ে জয়সুচক গোলটি করেছে আনাই মগিনি। ডি বক্সের ভেতর সতীর্থের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাক পাসের বল তিনি গোলবক্স লক্ষ্য করে ক্রস করলে পরাস্ত হন সফরকারী ভারতের গোল রক্ষক আনসিকা। বলটি সরাসরি আশ্রয় নেয় জালে।

পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ২০ গোল করলেও হজম করেনি একটিও গোল। ফলে অপরাজিত দল হিসেবে শিরোপা অক্ষুন্ন রাখে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। এজন্য প্রধান কোচ হিসেবে তিনি বাড়তি ধন্যবাদ পেতেই পারেন। কারণ দক্ষিণ এশীয় নারী ফুটবলে এটি একটি অনন্য রেকর্ড।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com