শুক্রবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং  |  ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ৭ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

ফাইনালে ছেলের খারাপ আচরণ দেখে মুখে খাবার তোলেননি রবি বিষ্ণোইয়ের মা!

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়া ভারতীয় যুব দলের ক্রিকেটার রবি বিষ্ণোই ১৭ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা উইকেটশিকারী হয়েছেন। পরাজয়ের কষ্টের পাশাপাশি মাঠে বাজে আচরণে জন্য এই তরুণ ক্রিকেটার এখন ধিক্কার শুনছেন। আইসিসি সাজা দিলেও খোদ কপিল দেব-আজহারউদ্দিনের মতো ক্রিকেটাররা তাদের আরও শাস্তি দাবি করছেন। এর প্রভাব পড়েছে তাদের পরিবারেও। মাঠে ভিতরে রবির মাথা গরম করা দেখে হতবাক সবাই!

বিষ্ণোইদের চার ভাই-বোনের মধ্যে সব চেয়ে ঠান্ডা মাথার রবি। সেই তিনিই কিনা যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে মেজাজ হারিয়েছেন! ম্যাচের শেষে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাতাহাতি করেছেন! এই ঘটনায় বাবা মাঙ্গিলাল বিষ্ণোই বিস্মিত। আর রাগে, ক্ষোভে রবি বিষ্ণোইয়ের মা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মাঙ্গিলাল। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েদের মধ্যে সব চেয়ে ঠান্ডা মাথার হল রবি। অথচ ও-ই কিনা মাঠের ভিতরে মেজাজ হারাল! রবির মা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল।’

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানকে আউট করে খারাপ ভাষা ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে রবি বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে স্লেজিংও করেন তিনি। তার জন্য আইসিসি শাস্তি দিয়েছে রবিকে। রবির বাবা মাঙ্গিলাল বলছেন, ‘রবি আমাদের কাছে পুরো বিষয়টা জানিয়েছে। কেন সেদিন মাথা গরম করেছিল, সেটাও আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছে। ম্যাচের শেষে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা তেড়ে এসেছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের দিকে। সতীর্থদের বাঁচানোর জন্য এমন করেছে রবি। সেই সময়ে ও মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিল।’

রবির ছেলেবেলার কোচ প্রদ্যোৎ সিংহ ছাত্রের মাথা গরম প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। মাঠের ভিতরে ওই ধাক্কাধাকি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমি শুনেছি বাংলাদেশের বোলাররা খারাপ ভাষা প্রয়োগ করছিল। ওদের এক জন বোলার তো দিব্যাংশ সাক্সেনার দিকে বল ছুড়েও মেরেছিল। ভারতীয়দের উইকেট নেওয়ার পরে যে ভাবে ওরা উৎসব করছিল, তা মানা যায় না। এতেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা রেগে গিয়েছিল। তবে রবিকে আমি ১০ বছর ধরে চিনি। ও মেজাজ হারানোর ছেলে নয়। রবির সঙ্গে আমি এই ব্যাপারে কথা বলেছি। মাঠের ভিতরে এরকম আচরণ ও করবে না বলে জানিয়েছে।’

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com