সোমবার  ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে নুসরাতকে মরতে হতো না

প্রশাসন সময় মতো যথাযথ ব্যবস্থা নিলে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে মরতে হতো না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দলের প্রধান।

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ সদর দপ্তরের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল দুদিন ধরে সোনাগাজীতে তদন্ত করছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি (মিডিয়া) শেখ মো. রুহুল আমীন প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মাদ্রাসা কমিটি যদি ২৭ মার্চের ঘটনার পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন তাহলে ০৬ এপ্রিলের নির্মম ঘটনাটি এড়ানো যেতো।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি রুহুল আমিনের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিআইজি বলেন, এ ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাকুক না কেন, যত বড় ক্ষমতাধরই হোকনা কেন সবার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা সোনাগাজীর বিভিন্ন মহল, মাদ্রাসা শিক্ষক এবং নুসরাতের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে এঘটনায় ওসির গাফলতি ছিলো বলেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এবিষয়ে আমরা আরো বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। তদন্তে ওসির দায়িত্ব অবহেলা প্রমাণিত হলে আবশ্যই তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেনীর এসপি এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সোনাগাজীতে তদন্তে কাজ করেছি, আজ শুক্রবার ফেনীতেও কাজ করবো। তদন্তের পরে আমরা বলতে পারব। এখোনো স্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছেনা।

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ(বরখাস্ত) সিরাজউদ্দৌলা বিষয়ে ডিআইজি বলেন, সিরাজউদ্দৌলা অনেক আগে থেকেই এধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। যারা দায়িত্বশীল ছিলেন তারা যদি আগেই ব্যবস্থা নিতেন তাহলে এধরনের ঘটনা ঘটতো না। সিরাজউদ্দৌলার সমর্থকেরাই এধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরো জানান কমিটির অনেকেই এঘটনার সাথে জড়িত।

পিবিআইয়ের তদন্ত বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, পিবিআইয়ের তদন্তে যদি ক্ষমতাধর কারো নাম আসে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিআইজি (মিডিয়া) শেখ মো. রুহুল আমীন এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত দলে রয়েছেন। তদন্তদল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় রাফিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনাস্থল, রাফিদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

ডিআইজি (মিডিয়া) শেখ মো. রুহুল আমীন এ প্রসঙ্গে আরো বলেছেন, তদন্ত দল ফেনীতে আরো কিছুদিন অবস্থান করবেন। এই সময় আমি এখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মেয়েটির পরিবার ও স্বজনসহ সকলের সাথে কথা বলবো। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করা হবে।

ফেনী জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পর পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার প্রাথমিক তদন্তের বিষয়গুলো উল্লেখ করে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) একটি প্রতিবেদন দেন।

প্রতিবেদনে সোনাগাজীর ওসিসহ স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তদল ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনসহ প্রশাসনের কোনও ধরনের গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখবে।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুলিশের অবহেলার বিষয়টি উঠে আসলে পুলিশ সদর দপ্তর এ তদন্ত কাজে প্রতিনিধি দল পাঠায়।

২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানি ও উক্ত ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল পরীক্ষা কেন্দ্রে রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি ও ফেনীর এসপির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠে। এ অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগের বিষয় গুলো তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com