মঙ্গলবার  ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং  |  ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৫ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

প্রধানমন্ত্রীর গাড়ী বহর যাবার পর ককটেল বিষ্ফোরণ এবং গণধোলাই।

বিএনপির নেতৃত্বাধীণ ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশমুখী আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মিছিলকে লক্ষ্য করে শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্নস্থানে ককটেল হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে পুলিশ ডাক্তারসহ আহত হয়েছে অন্তত ১৬ জন। ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে শিক্ষাভবনের সামনে ও মতিঝিলে ৪ জনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিকেল পৌনে তিনটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে ঢাকা মেডিকেলের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহানাজ তাবাচ্ছুম প্রভা (৩২) আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি জানান, মেডিকেল থেকে রিকশা যোগে বাসায় যাওয়ার পথে শহীদ মিনারের সামনে আসলেই পরপর ৩/৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ককটেলের স্প্রিন্টার তার মুখমন্ডল ও হাতে বিদ্ধ হয়।

বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে আওয়ামী লীগের একটি মিছিলকে লক্ষ্য করে  ককটেল বিস্ফোরণের অন্তত ১৪ জন আহত হয়। এ সময় ককটেল নিক্ষেপের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দিয়েছে মিছিলকারীরা। আহতদের সকলকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- রামপুরা থানা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু তাহের (৫৫), ২২ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম (৫৪), ঢাকা দক্ষিণ সেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য নাজমুল হাসান নাজু (৪৩), ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক আলকাস আলী (৪২), ২৩ নম্বর ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের নেত্রী শারমিন আক্তার (২৭)।

মোটর চালক শ্রমিক লীগের সদস্য স্বপন (২৪), আলফাজ উদ্দিন (৫২), আব্দুল কুদ্দুস (৪৮), শাহ আলম (৪৪), মঈনুল (৪০), শামীম (৩২), লিখন (১৮), সেলিম (৫৫) ও ওবায়দুল (২২)। আহতদের প্রত্যেকেরই কারও হাতে বা পায়ে আবার কারও হাতে পায়ে ককটেলের স্প্রিন্টার বিদ্ধ হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রামপুরা থেকে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় মিছিলটি শিক্ষাভবনের সামনে পৌছালেই দুর্বৃত্তরা মিছিলটিকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে মিছিলকারীরা দিকবিদিক ছোটাছোটি করে।

এ ঘটনার পরপরই ককটেল বিস্ফোরণের জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আহত ওই তিনজন হলেন- নাজমুল (৩০), আদর আলী (৩০) ও হাসান (২৪)। শাহবাগ থানার এএসআই খাইরুল ইসলাম তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করে।

বিকেল পৌনে ৩টার দিকে কারওয়ান বাজারে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুলিশের এএসআই মাহবুবুর রহমান আহত হন। তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার গাড়ি বহর পার হওয়ার মিনিট খানেকের মধ্যে কারওয়ান বাজারের দিকে আন্ডার পাসের প্রবেশমুখের কাছের রাস্তায় পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্য মাহবুব আহত হন।

দুপুর আড়াইটার দিকে মতিঝিল এজিবি কলোনীতে যুবলীগের মিছিলে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগের সন্দেহে রাশেদুর রহমান রাশেদ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়েছে মিছিলকারীরা। পরবর্তীতে এএসআই মাসুম তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করে।

আহত রাশেদ জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী। পল্টনের পলওয়েল মার্কেটে তার কাপড়ের দোকান আছে। তিনি ফতুল্লাহ থেকে সিএনজি যোগে কলোনীর সামনে জ্যাম থাকার কারণে নেমে হেটে পলওয়েল মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন।

এছাড়াও বিকেল পৌনে ৪টায় গুলশান, বাড্ডায় বাসস্ট্যান্ড ও সেয়া ৪টার দিকে শ্যামপুর টেম্পু স্ট্যান্ডসহ নগরীর বিভিন্নস্থানে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে সামনে ককটেল বিস্ফোরণে আবেদ আলী (৬০) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে তুষার নামে এক পথচারী ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন।

তুষার জানান, সন্ধ্যায় ওই এলাকায় কে বা কারা পরপর ৩/৪টি ককটেল নিক্ষেপ করে। ককটেল বিস্ফোরণে আবেদ আলীর দুই পায়ে ও ডান হাতে স্পি­ন্টার বিদ্ধ হয়।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com