মঙ্গলবার  ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং  |  ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

পেসারদের দাপট চলছেই

লকডাউনের সময় সেই যে নিজের দেশ শ্রীলঙ্কায় ফিরে গেছেন, এখনো ঢাকায় ফেরেননি গামিনি ডি সিলভা। এত দিন তাঁর অনুপস্থিতিতে উইকেটের যথাযথ পরিচর্যায় কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। নির্বাচক হাবিবুল বাশারও বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় উইকেটের দায় দেখছেন, তবে একেবারেই অন্যভাবে, ‘এবার কিন্তু অসময়ে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। তাই উইকেটগুলো পর্যাপ্ত রোদও পায়নি। আমি নিশ্চিত যে ফ্ল্যাট উইকেট হলে এ রকম অন্তত হতো না।’

যে রকম হচ্ছে, তা ৩৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রাইজমানির টুর্নামেন্টের সঙ্গে বেমানানই। প্রথম ম্যাচে টেনেটুনে ১৯৬ পর্যন্ত গিয়েছিল মাহমুদ উল্লাহ একাদশ। কাল মাহমুদের দলের বিপক্ষে তামিম ইকবাল একাদশ এক শই পার করল কোনোমতে। ১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়ার শুরুতে ভীষণ নড়বড়ে মাহমুদদেরও জিততে এক পর্যায়ে ঘাম ছুটে যাওয়ার অবস্থা। স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা হওয়ার আগে ৩ উইকেট খুইয়ে বসা দলের পক্ষে বেগ পাওয়ারই কথা। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে জিতেছে মাহমুদ একাদশ।

হতাশাজনক ব্যাটিংয়ের উল্টোপিঠে তবু আশার ছবি দেখছেন হাবিবুল, ‘এটি কিন্তু বলতে হবেই যে আমাদের পেসাররা দারুণ বোলিং করছে।’ দুটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের পর এই আসরেও দাপট পেসারদের। কাল আগুনে বোলিংয়ে তামিম একাদশকে কাঁপালেন রুবেল হোসেন। বৃষ্টিতে লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার আগেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তামিম ইকবালকে (২) এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে শুরু এই পেসারের। দুই তামিমের (আরেকজন তানজিদ হাসান তামিম) আলোচিত ওপেনিং জুটিও তাই ৪ রানের বেশি জমেনি।

বৃষ্টির পর ৪৭ ওভারে নির্ধারিত ম্যাচে দারুণ কিছু শটে ঝলক দেখাতে থাকা তানজিদ তামিমের (১৮ বলে ২৭) ইনিংসটি অবশ্য শেষ হয়েছে বাজে শটে। রুবেলের লেগ স্টাম্পের ওপর করা বলে চালিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন মিড উইকেটে। একই ওভারে এক বল পর মোহাম্মদ মিঠুন আউট হয়েছেন দৃষ্টিকটু শটে। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল তাঁর ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে ক্যাচ গেছে শর্ট কাভারে! এ রকম বাজে শটে উইকেট বিলানোর দৃশ্য এর পরও নিয়মিতই ছিল। তাই রুবেলের মতো আগ্রাসী বোলিং না করেও শিকার ধরেছেন মাহমুদ একাদশের আরেক পেসার সুমন খানও। তিনিও নিয়েছেন রুবেলের সমান, ৩ উইকেট। শিকারযজ্ঞে যোগ দিয়ে দুটি করে প্রাপ্তি আছে অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবেরও।

৫ ওভারের একটা স্পেলে মাত্র ১৬ রান খরচ করেছেন রুবেল, ডট বল দিয়েছেন ২১টি। পেসাররা এ রকম ঝলসে উঠলেও ব্যাটসম্যানদের নিষ্প্রভ হওয়ার কারণ কি শুধুই দীর্ঘদিন ম্যাচ না খেলা? নির্বাচক হাবিবুল তেমনটাই মনে করছেন, ‘আগেও বলেছি, উইকেট ফ্ল্যাট হলে এত খারাপ হতো না। উইকেটে বাউন্স ছিল, তবে তা সব সময় এক রকম ছিল না। তা ছাড়া সাত মাস খেলার বাইরে থাকার পর হ্যান্ড-আই কোঅর্ডিনেশন ঠিকমতো হতেও পাঁচ-ছয়টি ইনিংস লাগে।’

তার মানে বড় ইনিংসের ম্যাচ দেখতে অপেক্ষায় থাকার বিকল্প নেই।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com