শিরোনাম
শনিবার  ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং  |  ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

পুড়িয়ে হত্যার শিকার জুয়েল মানসিক রোগী ঢাবির সাবেক ছাত্র

লালমনিরহাট লাইভ : লালমনিরহাটের পাটগ্রামে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যার শিকার সেই ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি মসজিদে নামাজে গিয়ে নির্মমতার শিকার হয়েছেন। গুজব ছড়িয়ে কোরআন অবমাননার অভিযোগে তাকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশে আগুন দেয় উত্তেজিত জনতা। এমনটাই দাবি পুলিশের। বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে বৃহস্পতিবার রাতের ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম আবু ইউনুছ মোঃ সহিদুন্নবী ওরফে জুয়েল (৫০)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “ইনফরমেশন সাইন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট” থেকে পড়াশোনা শেষে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের লাইব্রেরিয়ান পদে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপে পরিবারের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে জুয়েল নামে ওই ব্যক্তি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, সহিদুন্নবী জুয়েল ও তার সঙ্গী সুলতান জোবায়ের আব্বাস (৫১) বুড়িমারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বাজার মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করতে যান। এই দুজনের বাড়িই রংপুরে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, সহিদুন্নবী মসজিদের সেলফ থেকে ধর্মীয় বই নিয়ে পড়তে যান। এ সময় তাক থেকে একটি কোরআন শরিফ নিচে পড়ে যায়। এতে কিছু মুসল্লির ধারণা হয়, ইচ্ছা করেই কোরআন শরিফ ফেলে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধর্ম অবমাননার গুজব আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, গুজব ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ মনে করেছে তারা কোরআন অবমাননা করেছে। কিন্তু এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। উত্তেজিত জনতা এক পর্যায়ে মারমুখী হয়ে ওঠে। ওখানে ইউএনও, পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু তারা তাকে (সহিদুন্নবী) রক্ষা করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও কয়েকজন মুসল্লি সহিদুন্নবী ও জোবায়েরকে উদ্ধার করে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে নিয়ে যান। এ সময় উত্তেজিত মুসল্লিরা বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করেন। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে মুসল্লিদের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল এসে ইউনিয়ন পরিষদের দরজা ভেঙে সহিদুন্নবীকে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর মৃতদেহ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বাইরে এনে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়।

এদিকে সহিদুন্নবীর সঙ্গে থাকা জোবায়েরকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনটি মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।

সহিদুন্নবী ও জোবায়ের কেন রংপুর থেকে লালমনিহাটে গিয়েছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা কারণ সম্পর্কে এখনো জানতে পারিনি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে যেখান থেকেই আসুক তারা তো যে কোনো মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেই পারে।

রংপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজিব বসুনীয়া জানান, সহিদুন্নবী জুয়েলের বাড়ি রংপুর শহরে। তিনি ক‍্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের লাইব্রেরিয়ানের কাজ করতেন। এক বছর আগে তার চাকরি চলে যায়। তখন থেকে কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com