সোমবার  ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

পরোয়ানা জারির পর পরিবার নিয়ে ভারতে রাগীব আলী

সরকারি কাগজ জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়লেন সিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলী।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্তরা হলেন- রাগীব আলী, ছেলে আবদুল হাই, জামাতা আবদুল কাদির, মেয়ে রুজিনা কাদির, তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত, রাগীবের আত্মীয় মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা দেওয়ান মোস্তাক মজিদ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে সরকারি কাগজ জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের বাগান দখলে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় শিল্পপতি রাগীব আলী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরু।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ছেলে আবদুল হাই, আবদুল হাইয়ের স্ত্রী ও ছেলে এবং বাংলোর দুই শিশুকে সঙ্গে নিয়ে রাগীব আলী জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন হয়ে ভারতে চলে যান বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা বৈধভাবেই ভারতে গেছেন।’

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯১৫ সালের ২ জুলাই বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা তার তারাপুর চা-বাগানসহ সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউর নামে দান করেন। তখন থেকে এলাকাটি দেবোত্তোর সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত। বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্তের মৃত্যুর পর রাজেন্দ্র লাল গুপ্ত নামে এক ব্যক্তি এই দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত হন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজেন্দ্র মারা গেলে তার ছেলে পঙ্কজ কুমার গুপ্ত সেবায়েত হন। এরপরে পঙ্কজ কুমার ভারত চলে গেলে কথিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মূলে দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত বনে যান রাগীবের আত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদ।

তবে একজন মুসলমান দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত হওয়ায় সন্দেহ দেখা দেয়। এরপরই শুরু হয় তদন্ত। আর তদন্তে উঠে আসে মোস্তাক মজিদ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মির্জা ফজলুল করিমের স্বাক্ষর জাল করে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইয়ের নামে ৯৯ বছরের জন্য চা বাগানটির ইজারা দেওয়ার নথি তৈরি করেন।
চা-বাগান এলাকায় রাগীব আলী ৩৩৭টি প্লট বানিয়ে বিক্রি করেছেন।

এর পরে গত ১০ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান ওই দুইটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার মামলা দুটির শুনানির দিন ছিল। তবে এদিন রাগীব আলী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন, কিন্তু আদালত আবেদন নাকচ করে রাগীব আলীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com