শিরোনাম
সোমবার  ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং  |  ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরী

পরীমনি বিষয়ে কথা বললেও নজরুল রাজ বিষয়ে চুপ ওমর সানী

ওমর সানী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সমালোচনা করতে গিয়ে নিজে যে একই কাজ করেছেন সেটা বেমালুম ভুলে গেলেন। ওমর সানী নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আইন বলে ইনোসেন্ট, A person is  innocent until proven guilty. যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধ প্রমাণ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি কেবল অপরাধের জন্য অভিযুক্ত, দোষী নয়। কিন্তু পরীমনিকে গ্রেপ্তরের পর থেকে আমরা কী দেখলাম? চলচ্চিত্র থেকেই তাকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন করে তাকে অপরাধী প্রমাণ হওয়ার আগে আমরা শাস্তি দিয়ে দিলাম। বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে, বিনোদন জগৎ সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মনকে বিষিয়ে দেওয়া হলো না?’

ঠিক একইভাবে ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি হিসেবে ওমর সানী সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম রাজের পদটিও স্থগিত করেছেন। নজরুল রাজের পদ স্থগিত করে গত ৬ আগস্ট (শুক্রবার) বিকেলে ওমর সানী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের সংবিধান অনুযায়ী একজন সভাপতি পদে নির্বাচিত হবেন। তার প্যানেলে বাকিরা লড়বেন। কার্যনির্বাহী পদে নির্বাচিত হলে সভাপতি পরে পদ প্রদান করবেন। আমরা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে নজরুল রাজকে সহযোগী সাধারণ সম্পাদক পদ দিয়েছিলাম। যেহেতু তিনি রাষ্ট্রের পরিপন্থী একটি কাজের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাই আমরা তার পদটি স্থগিত করেছি।’

ওমর সানী প্রশ্ন রেখে বলেন, এর আগেও তো একজন নামি অভিনেতা, প্রযোজক জেল খেটেছেন। কই, তাঁর বেলায় তো এই নিয়ম ছিল না ।

পরীমনির বাসা থেকে মদ উদ্ধার প্রসঙ্গে নানা উপদেশ দিলেও ফিল্ম ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল রাজকে নিয়ে কিছুই বলেননি। পরীমনির মদদদাতা নজরুল রাজ। নজরুল রাজ ফিল্ম ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আর ওমর সানী সভাপতি। নজরুল রাজকে নিয়ে কোনো কথা না বলায় অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন।

মদ উদ্ধার প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, পরীমনির বাসা থেকে মদ উদ্ধার প্রসঙ্গে পরীমনির বাড়ি থেকে যে পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার  করা হয়েছে, তা দেখে প্রশ্ন জাগে- এই পরিমাণ বোতল তো পরীমনি বাড়ির পাশের মুদির দোকান থেকে কেনেনি বা নিজে বাড়িতে তৈরি করেনি। তাহলে এই মাদকদ্রব্যের সরবরাহ কোথা থেকে হলো, কার কাছ থেকে এগুলো কিনল বা সংগ্রহ করল। মূল রাঘব বোয়ালদের আগে ধরতে হবে। তারা সব সময়ই আড়ালে থেকে যায়। আমি জানি না পরীমনি মূল অপরাধী কি না। তবে চলচ্চিত্রের একজন শিল্পী হিসেবে বুঝি মুম্বাইয়ের চিত্রজগতে যা ঘটেছিল, এক প্রভাবশালী ধনী ব্যবসায়ী এক সুন্দরী নায়িকাকে তার লালসার শিকার করতে না পেরে তার বন্ধু একজনের সহায়তায় তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে যেভাবে তার জীবন ও ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছিল, ঢাকায় পরীমনির ক্ষেত্রে সেই ষড়যন্ত্রের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ওমর সানী বলেন, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীও সেই কথাটা বলেছেন একটা লেখায়। বরং রিহ্যাবে দিয়ে তাকে সুস্থ করার দায়িত্বও এই সমাজের। তাকে ভুল শোধরানোর সময় দিতে হবে। রাজধানীতে পরীমনিকে যারা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে লাভবান হয়েছেন । তারা যদি বেআইনিভাবে অর্থ উপার্জন করে থাকেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা উচিত। বিশেষ করে পরীর কাছের মানুষদেরও দায় আছে। যারা তার কাছে থেকেও ভালো পরামর্শ দেওয়ার কথা, কিন্তু তা না দিয়ে মা, বেবী, মামা বলে বলে নানা সময় নানা ফায়দা নিয়েছেন। আমি নিজে ধোয়া তুলসীপাতা না। আমিও একসময় সিগারেটসহ নানা আড্ডায় যেতাম। তবে তা শুধরিয়ে নিয়েছি। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু স্পর্শ করি না এখন।

এই চিত্রনায়ক বলেন, আমরা আইন প্রয়োগের বিভিন্ন ধাপ যত বেশি স্বচ্ছ আর আবেগমুক্ত রাখতে পারব, তত বেশি করে নিশ্চিত করতে পারব দেশে আইনের শাসন এবং আইনের প্রতি জনগণের আস্থা। একজন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নাগরিক হিসেবে, একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তার একটি স্বাভাবিক, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন আমাদের দাবি। এই দাবি পূরণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের দায়িত্বের অংশটুকু যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, পরীমনি এখনো কোটি ভক্তের মনে গেঁথে আছে। সে একজন অভিনয়শিল্পী। তার ক্যারিয়ার সবে শুরু। তার ভুল শোধরানোর সুযোগ দিলে হয়তো আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারবে। তাতে চলচ্চিত্রশিল্পও একজন অভিনয়শিল্পীকে হারাবে না।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com