শিরোনাম
মঙ্গলবার  ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ  |  ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ  |  ১৫ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

নতুন মুদ্রানীতি : বহুমুখী চ্যালেঞ্জ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অভিঘাতে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে লাগাম টানাসহ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খাদ্যসংকটের আশঙ্কা রয়েছে। এসব বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সামাল দিয়ে প্রবৃদ্ধির ধারাকে অব্যাহত রেখে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাছাড়াও মূল্যস্ফীতি, মুদ্রাবাজার ও সুদহারের নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য, খেলাপি ঋণ কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত করার কথাও এ ঘোষণায় রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রেপো সুদহার আগের চেয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ শতাংশে পুনর্নিধারণ করা হয়েছে। এতে রেপো তথা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নেওয়া ধারের বিপরীতে সুদ দিতে হবে ৬ শতাংশ হারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে, চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির রাশ টানতে বেশির ভাগ দেশ সুদহার বাড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশে ৯ শতাংশ সুদহারের সীমার কারণে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যায়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় টাকার হাতবদল কমে। এ পরিস্থিতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও বাজারে তারল্য বাড়াতে সরকারের ঋণচাহিদার বেশির ভাগই দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারকে ঋণ দিয়েছে ৬৫ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ কমিয়েছে ৩৩ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। ফলে প্রথম সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে মাত্র ৩২ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। এছাড়া সিএমএসএমই, রপ্তানি উন্নয়ন, খাদ্যনিরাপত্তা ও কারখানা সবুজায়নে ৪৫ হাজার কোটি টাকার চারটি পুনঃ অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বাইরে প্রতিদিনই রেপো, বিশেষ তারল্য সহায়তাসহ নানা উপায়ে ব্যাংকগুলোকে প্রচুর ধার দেওয়া হচ্ছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com