সোমবার  ৩রা আগস্ট, ২০২০ ইং  |  ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ১২ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

ড. সফিউদ্দিন আহমদের গ্রন্থ ড. মশিউর রহমান মৃধা কবি ও কবিমানস

  1. ড. সফিউদ্দিন আহমদের গ্রন্থ ড. মশিউর রহমান মৃধা কবি ও কবিমানস

মাইন সরকার

কবি,গবেষক ড. মশিউর রহমান মৃধাকে নিয়ে ড. সফিউদ্দিন আহমদ একটি বই লিখেন বইটির
নামকরণ করেন ড. মশিউর রহমান মৃধা কবি ও কবিমানস। ড. সফিউদ্দিন আহমদকে হয়তো আমরা অনেকেই চিনি বা জানি– জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর ভাষায় —
” ড. সফিউদ্দিন আহমদ মৌলিক গবেষক, শিকড়সন্ধানী লেখক, তথ্যনিষ্ঠ ও মননশীল প্রাবন্ধিক এবং একজন সম্মোহক শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত ও নন্দিত।” ড. সফিউদ্দিন আহমদ একজন দক্ষ ও কৃতী অনুবাদক। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত প্লেটোর মহৎ গ্রন্থ The last days of Socrates, ছাড়াও তার টমাস পেইনের ” Age of reason “, “Rights of man”, ডিরোজিও, বোদলেয়ার, টি. এস এলিয়ট, পাবলো নেরুদার কবিতা ও ডি, এইচ লরেন্সের ” লেডি চ্যাটার্লিজ লাভার”।
ড. সফিউদ্দিন আহমদ অতিথি অধ্যাপক হিসেবে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, সাসেক্স বার্মিংহাম, কভেন্ট্রি, কোলকাতা, যাদবপুর, কল্যাণী, বিশ্বভারতী ও ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়েও
বক্তৃতা দিয়েছেন ড. সফিউদ্দিন আহমদের কবি ও কবি মানুষ ড. মশিউর রহমান বইটি প্রকাশ করেন বিশ্বসাহিত্য ভবন। বইটি উৎসর্গ করা হয় নরসিংদী নবীন কবি ও সাহিত্যিকদের।
ড. সফিউদ্দিন আহমদ ও ড. মশিউর রহমান মৃধা তাদের দুজনেরই জন্মভূমি নরসিংদী। এ কারণে হয়তো নরসিংদীর নবীন কবি ও সাহিত্যিকদের উৎসর্গ করা হয়েছে আলোচ্য
এই গ্রন্থে।

ড. সফিউদ্দিন আহমদের ভাষায় — ড. মশিউর রহমান মৃধা একজন মৃত্তিকাশ্রয়ী কবি, তীক্ষ্ণ- তীব্র সমাজ সচেতন কবি অন্য অর্থে বলা যায় তিনি নিপুণ শব্দ ধানুকী।
কবি মশিউর রহমান মৃধা আধুনিক কবি, পড়ুয়া কবি ও মন – মানসিকতায় চিৎপ্রকর্ষবিদ কবি।
আমাদের কাব্য সাহিত্যে ” বিপন্ন যৌবন” (১৯৯৯) নিয়ে তার আত্মপ্রকাশ।
শব্দ, ছন্দ ও ভাব- বলয়ের ঘনিষ্টতার তার প্রথম
কবিতায়ই চমক দিয়ে বলেছেন-

যেমনি–
লাঙল মাটি যুদ্ধ করে
উল্টে পাল্টে আলের পরে
উর্বরা হয় ভূমি।
তেমনি–
হৃদয় মাঝে আগুন দিলে
মনটি আমার কেড়ে নিলে
পুষ্প নামের তুমি।
( পুষ্প নামের তুমি)
কোন একজন কবি বা শিল্পী তার শিল্প বা গ্রন্থের নামকরণেই তার শিল্পসত্তার অভিপ্রায়টিকে উদ্ভাসিত করে তুলেন। শিল্পীর মনন ও শৈল্পিক চৈতন্যের সমীকরণ ও সমন্বয় এখানেই। কাব্যটির নাম ” বিপন্ন যৌবন”। এই বিপন্ন যৌবনে কবি মাঝে মাঝে ফ্রয়েডিও রসায়নে দ্রবীভূত হয়ে যান কিন্তু দ্বিধা দ্বন্দ্ব ও মানসিক সংঘাতের কাছে পরাভূত হন। এ চিত্রটি পরিস্ফুট হয় কবির জবানীতে–
তোমার ঠোঁটে স্তনে সর্বাঙ্গে
সম্মতি চাই
চাওয়া পাওয়ার ব্যবধান ঘুচিয়ে
চাইলেই কি পাই।

দুঃস্বপ্নের ঘোর পেরিয়ে হই
বাস্তবের মুখোমুখী
নিরন্তর নয়নজলে আমি
চিরকালের দুঃখী।
(দুঃখী)
মাঝে মাঝে কবি তারুণ্যের আবেগ ও আবেশে এবং উচ্ছ্বাস ও উদ্যামে কোন এক অনামিকা দুরন্ত দেহলির উষ্ণতা স্পর্শ করতে গিয়ে, ভাব ছন্দ ও অভিব্যক্তিতে যেনো কোন এক রুবাইয়ের
জগতে আবগাহন করেন। কবির জবানীতে–
এই ফাগুনে দারুণ আগুন
আমার সারা গায়,
দোহাই লাগে হাত দিও না
পরান বুঝি যায়।

আমাদের কবি মশিউর রহমান মৃধা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মৃত্তিকাস্পর্শী, মানবিক চৈতন্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাসর্বস্ব এক নন্দিত কবি।
“যে পড়েনি একাত্তরের চিঠি” কবিতায় মশিউর রহমান কাব্যিক উজ্জ্বলে যে চিত্র তুলে ধরেছেন তা এখানে উপস্থাপন করছি–

বিধ্বস্ত, আতঙ্কগ্রস্ত, ভয়ঙ্কর জনপদের কথা জানে কি?
জানো না– কারণ একাত্তরের চিঠি পড়োনি।
ফুল শয্যার রাতে প্রিয়তমার হাত স্পর্শ করেনি যে প্রেমিক
সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের মুখ দর্শন করতে পারেনি যে পিতা
বৃদ্ধামায়ের চোখের জল মুছে দেবার সময় পায়নি যে সন্তান
বোনের আর্তচিৎকার থামাতে পারেনি যে ভাই–
সে কথা লেখা আছে… একাত্তরের চিঠিতে।

মশিউর রহমান আশাবাদী কবি। আমাদের সমস্ত অবক্ষয় আর গ্লানিকে উজিয়ে সে সামনে দেখে সোনালি সূর্য ও অনন্ত সম্ভাবনার প্রত্যয়।

হে বন্ধু ফেলে আসা যৌবন তুলে নাও মনে
ভালোবাসার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করো যা কিছু সুন্দর
হৃদয় বন্দরে সুখের নোঙর ফেলো,
কষ্টের চরে শতায়ু শষ্যের বীজ বুনো…
(একদিন স্বপ্নের দিন)

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com