বৃহস্পতিবার  ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ  |  ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ  |  ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

চলতি মাসে আবার ভারী বর্ষণ ও বন্যার পূর্বাভাস

সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও চলতি জুলাই মাসের দ্বিতীয়ার্ধে আবারও বড় বন্যা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নামছে ধীর গতিতে। উজানে মেঘালয়ে এবং আসামে বৃষ্টি প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সামনে শ্রাবনের শুরুতে ভারী বর্ষণ বাড়তে পারে। 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তরের রংপুর, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে আবারও বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে চলতি মাসে বিচ্ছিন্নভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। তিনি বলেন, জুলাই মাসের প্রথমার্ধে দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। জুলাইয়ের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আবহাওয়ার মতিগতি অনুকূলে নেই। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপরে সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে আগামী দুই-তিন দিন পরে দেশে আবারও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এসব রাজ্যেও প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশ সহসা বন্যামুক্ত হচ্ছে না। বন্যা কমলেও বানভাসীদের দুর্ভোগ কমছে না। হাওর পাড়ের মানুষ বন্যাকবলিত গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। বরং অনেক স্থানে বন্যার্তদের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগও ছড়াচ্ছে।

দেশে চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে বন্যাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৭৩১ জন। গতকাল দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যাজনিত কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় (এক দিনে) আরো সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এ সময়ে নতুন করে ৮৮৮ জন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশের ১৫ জেলায় এ পর্যন্ত ১০২ জন মারা গেছেন। সিলেট বিভাগেই ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট সদর উপজেলায় ১৮, সুনামগঞ্জে ২৮, মৌলভীবাজারে পাঁচ ও হবিগঞ্জে পাঁচ জন মারা গেছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে বন্যাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। রংপুর বিভাগে এ পর্যন্ত বন্যায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে চার ও লালমনিরহাটে ছয় জন মারা গেছেন। এছাড়াও ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইলে বন্যায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com