মঙ্গলবার  ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং  |  ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৪ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা চান হাইকোর্ট : ৫২ পণ্য ব্যন্ড

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হওয়ায় প্রাণের গুঁড়া হলুদ, কারি পাউডার, লাচ্ছা সেমাইসহ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্র্যান্ডের ৫২টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংস্থা দুটিকে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন। এদিকে রোববার খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, যারা খাবারে ভেজাল দেয় তারা সমাজ ও মানবতার শত্রু। খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তাদের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। শুধু রমজান মাসেই নয়, আমরা সারা বছরই জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে চাই। সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের সামনে নিরাপদ খাদ্য ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধনের পর মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আদালত আদেশে বলেছেন, শুধু রমজানে ভেজালবিরোধী অভিযান কাম্য নয়, সারা বছর চলা উচিত। খাদ্য নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন শুধু কর্মকর্তা হিসেবে কাজ না করেন, তারা যেন দেশপ্রেমিক হিসেবে জনগণের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। আদালত আরও বলেন, যদিও এ বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের। আদালতের দেখার বিষয় না; তারপরও জনস্বার্থ বিবেচনায় আদালত এড়িয়ে যেতে পারেন না। খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিটা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ করা দরকার। বাংলাদেশ সরকার, ক্ষমতাসীন দল ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা- মাদকের বিরুদ্ধে যেমন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনি খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধেও যেন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ জন্য প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুরোধ জানান হাইকোর্ট।

শুনানি শেষে আদালত রুলসহ আদেশ দেন। বিএসটিআইয়ের ল্যাব পরীক্ষায় ধরা পড়া ৫২টি নিম্নমানের খাদ্যপণ্য দেশের বাজার থেকে প্রত্যাহার বা জব্দ করতে এবং বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান লঙ্ঘন করে নিম্নমানের এসব খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল দেন আদালত। খাদ্য, বাণিজ্য, শিল্প সচিব, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, নিম্নমানের ৫২টি পণ্য বাজারে থাকলে তা বাজার থেকে তুলে নিয়ে সেগুলো ডেস্ট্রয় (ধ্বংস) করতে। এসব কোম্পানির পণ্য বিএসটিআইয়ের মানোন্নয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মুহম্মদ ফরিদুল ইসলাম। ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার বা জব্দ চেয়ে কনসাস কনজুমার সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান জনস্বার্থে গত বৃহস্পতিবার এ রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইয়ের দুই কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে রোববার আদালতে হাজির হতে বলেন। সেই অনুযায়ী বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজুল হক ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক সহদেব চন্দ্র সাহা রোববার হাজির হন।

শুনানিতে আদালত বলেন, দুধের কি অবস্থা দেখুন। দুধে পানি মেশানো হচ্ছে। আদালত বলেন, টেলিভিশনে দেখলাম, ইটের গুঁড়া দিয়ে মসলা বানাচ্ছে, ভূষি দিয়ে মসলা বানানো হচ্ছে। অথচ নামিদামি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে দেখি তাদের মসলা সবচেয়ে ভালো। আদালত বলেন, এই খাদ্যে ভেজালের কারণে গত ১০ বছরে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। এ সময় আদালত বলেন, সুস্থভাবে বাঁচতে হলে প্রয়োজনে হলুদ ছাড়াই তরকারি রান্না করে খেতে হবে। প্রয়োজনে সিদ্ধ ডিম খাব। আদালত ডিম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এখন তো প্লাস্টিকের ডিম পাওয়া যায়।

এ সময় রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, কোম্পানিগুলো এমনভাবে বিজ্ঞাপনের প্রচারণা চালায় যে, যিনি মসলা খান না তিনিও ওই মসলা কিনতে প্রলুব্ধ হন। আদালত বলেন, এসব অভিযান নিয়েও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শোনা যায়। তাদের অভিযোগ- তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা চাওয়া হয়।

এ সময় বিএসটিআইয়ের ডেপুটি পরিচালক মো. রিয়াজুল আদালতকে বলেন, শুধু রমজান মাসে নয়, সারা বছরই বিএসটিআই অভিযান পরিচালনা করে। তিনি বলেন, বিএসটিআইয়ের আগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু এখন নেই। বিএসটিআইয়ের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা পেলে আরও বেশি অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। এ সময় আদালত বলেন, আইনে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা দেয়া আছে। কিন্তু তারা তো সেটা করে না। আপনারা ক্ষমতা পেলে আপনারা কী করবেন?

আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালকের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা একজন কর্মকর্তাকে ডাকলাম। তিনি পাঠিয়েছেন এমন এক কর্মকর্তা যিনি এক সপ্তাহ আগে যোগদান করেছেন। ওই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। কেন, তিন-চার মাস ধরে আছেন এমন কর্মকর্তাও কি নেই যাকে আদালতে পাঠানো যেত? মহাপরিচালকের এ আচরণ আদালতের সঙ্গে ফাজলামো ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন যদি ডিজিকে ডাকি তাহলে তার সমালোচনা করা হবে।

আদালত বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে ওসির ক্ষমতা দেয়া আছে। একজন মহাপরিচালক চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন। অথচ ক্ষমতাবানরা এসির মধ্যে নিশ্চুপ বসে থাকেন। ইচ্ছা নেই কিছু করার। অথবা হয়তো বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ আসে। আদালত শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করতে ঢাকা ওয়াসার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে।

রিট আবেদনকারী শিহাব উদ্দিন বলেন, বিএসটিআইয়ের মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ৫২টি নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অপসারণের পাশাপাশি এসব নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর বলেন, আমরা আশা করি, সরকার খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি পাইপলাইনে সাধারণ মানুষের জন্য ওয়াসার বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতেও বলেছেন আদালত।

৩ ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি নিম্নমানের ও ভেজাল পণ্য রয়েছে। এর আগে ২ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিএসটিআই। বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে খোলা বাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা কিনে বিএসটিআইয়ের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৩টি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫২টি পণ্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে ৫২টি পণ্য হল : ১.সিটি ওয়েলের সরিষার তেল (তীর), ২. গ্রিন ব্লিচিংয়ের সরিষার তেল (জিনি), ৩. শমনমের সরিষার তেল (পুষ্টি), ৪. বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের সরিষার তেল (রূপচাঁদা), ৫. কাশেম ফুডের চিপস (সান), ৬. আররা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার (আরা), ৭. আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার (আল সাফি), ৮. মিজানের ড্রিংকিং ওয়াটার, ৯. মর্ন ডিউর ড্রিংকিং ওয়াটার, ১০. ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, ১১. আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, ১২. দীঘির ড্রিংকিং ওয়াটার, ১৩. প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ১৪. ডুডলি নুডলস, ১৫. শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার (টেস্টি, তানি, তাসকিয়া), ১৬. জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ১৭. ড্যানিশের হলুদের গুঁড়া, ১৮. প্রাণ এগ্রো লি.-এর হলুদের গুঁড়া (প্রাণ), ১৯. তানভির ফুড লি.-এর হলুদের গুঁড়া ফ্রেশ, ২০. এসিআইয়ের ধনিয়ার গুঁড়া, ২১. কারি পাউডার (প্রাণ), ২২. কারি পাউডার ড্যানিশ, ২৩. বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুঁড়া, ২৪. মিষ্টিমেলার লাচ্ছা সেমাই, ২৫. মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, ২৬. মিঠাইয়ের লাচ্ছা সেমাই, ২৭. ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, ২৮. এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ২৯. কিংয়ের ময়দা, ৩০. রূপসার দই, ৩১. মক্কার চানাচুর, ৩২. মেহেদীর বিস্কুট, ৩৩. বাঘাবাড়ির স্পেশাল ঘি, ৩৪. নিশিতা ফুডসের সুজি, ৩৫. মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, ৩৬. মঞ্জিলের হলুদ গুঁড়া, ৩৭. মধুমতির আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৩৮. সান ফুডের হলুদ গুঁড়া, ৩৯. গ্রিন লেনের মধু, ৪০. কিরণের লাচ্ছা সেমাই, ৪১. ডলফিনের মরিচের গুঁড়া, ৪২. ডলফিনের হলুদের গুঁড়া, ৪৩. সূর্যের মরিচের গুঁড়া, ৪৪. জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, ৪৫. অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, ৪৭. দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৪৮. তিন তীরের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৪৯. মদিনা স্টারশিপ আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৫০. তাজ অয়োডিনযুক্ত লবণ, ৫১. নুরের আয়োডিনযুক্ত লবণ ও ৫২. মোল্লা সল্ট।

খাদ্যে ভেজালকারীদের কোনো ছাড় নেই -খাদ্যমন্ত্রী : খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সবাই মিলে একযোগে, এক হয়ে কাজ করে এটিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে ভেজাল প্রতিরোধে নিজেরা যদি আরও সোচ্চার হন তাহলে ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। পবিত্র রমজান মাসে ভেজালবিরোধী অভিযানে নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে। প্রচলিত আইনে শাস্তির যে বিধান রয়েছে দরকার হলে আইন সংশোধন করে শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি করা হবে। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-তে খাদ্যে ভেজালের সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা।

ইদানীং নিরাপদ খাদ্য আইন সংশোধনের একটা দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটুকু বলতে চাই, আইনটা প্রথম হয়েছে। আমরা প্রথমেই যদি যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড দিতাম তাহলে সমালোচনা হতো। আইনটা পাস হয়েছে অর্থাৎ বাচ্চাটার জন্ম হয়েছে। সংযোজন-বিয়োজন অনেক কিছুই করা যেতে পারে। যদি আইন সংশোধনের দরকারই হয়, তবে যাবজ্জীবন-মৃত্যুদণ্ড অবশ্যই করা যেতে পারে। জনগণের স্বার্থে অনেক কিছুই করা যেতে পারে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল রোধে আমাদের তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট, সিটি কর্পোরেশনের মোবাইল কোর্ট আছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিম আছে, জেলা প্রশাসনের আছে, র‌্যাবের আছে আমার মনে হয় ৩০টি টিম কাজ করছে। মানুষকে ভেজালের বিষয়ে সচেতন করতে আমরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা করছি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এমনকি মসজিদের ইমাম সাহেবদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজে লাগাচ্ছি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আইন উইং ছিল না। আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য আমরা সেই উইং চালু করেছি। আমরা সচেতন আছি।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com