সোমবার  ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

‘খাওয়ার বাগান’ গড়ে তুলতে ১২ পরামর্শ

বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা পড়ে রয়েছে? কিংবা বারান্দা বা ছাদে বেশ জায়গা আছে? এই অংশে টাটকা খাবার পাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। এমন একটি বাগান করতে পারেন যা হবে ভক্ষণযোগ্য। অর্থাৎ, মৌসুমী সবজি পেতে পারেন অনায়াসে। আর তা করতে গেলে কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. ছোট পরিসরে শুরু করুন : বড় জায়গা থাকা মানেই যে বড় সবজি বাগান করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ছোট করেই শুরু করুন। কেমন হচ্ছে তা দেখুন। এর পেছনে কতটা সময় ও শ্রম দিতে হয় তা বুঝে নিন। তারপর বড় করতে পারেন।

২. পরিকল্পনা করুন : এর পেছনে অর্থ খরচের আগে স্থান অনুযায়ী সঠিক পরিকল্পনা করুন। কোথায় কোন সবজি লাগাবেন বা কোথায় আলোর উৎস দেবেন ইত্যাদি। আপনি কি পরিমাণ খাদ্যপণ্য এখান থেকে পেতে চান তাও ঠিক করুন।

৩. খালি স্থান না থাকলে… : বড় স্থান খালি না থাকলে বড় বড় টবেও দারুণ বাগান হয়। বড় ডেকের মধ্যে দিব্যি সবজির বেড তৈরি করা যায়।

৪. ভালো মানের মাটি আনুন : বাগানের স্বাস্থ্যে ভালো মানের মাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নার্সারি থেকে উর্বর মাটি নিন। কিংবা মাটি এনে তাতে সার মিশিয়ে উর্বর করুন। কম্পোস্টসমৃদ্ধ অর্গানিক মাটি সবজি বাগানের জন্য সবচেয়ে ভালো।

৫. সবজি বাছাই করুন : এমন সব সবজি উৎপাদন করুন যা সহজে করা সম্ভব। প্রতিদিনের খাবারের জন্য সাধারণ সবজি বাছাই করুন। শীম, মূলা, পুদিনা ও ধনে পাতা, সালাদের সবজিগুলো অনায়াসেই উৎপাদন করতে পারেন। কপি, টমেটো এবং ধুন্দল পছন্দের তালিকার প্রথমদিকে থাকতে পারে।

৬. বীজ নাকি চারা? : আগেই ঠিক করে নিন, বীজ বপণ করবেন নাকি চারা রোপণ করবেন? চারা রোপণের কাজ অনেক সহজ হয়ে ওঠে। তবে বীজ বপণ করে সবজি উৎপাদনে খরচ বাঁচানো সম্ভব।

৭. যন্ত্রপাতিতে সামান্য বিনিয়োগ : বাগান করতে কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। অনেক ধরনের গার্ডেন টুলস মিলবে বাজারে। তবে এর পেছনে খুব বেশি পয়সা খরচের প্রয়োজন নেই। নিড়ানী বা কাস্তে দিয়ে শুরু করতে পারেন।

৮. বর্গাকৃতি বাগান করুন : লম্বা ও সরু লাইনে সবজি লাগানোর দিন আর এখন নেই। বর্গাকৃতি বেড তৈরি করুন। এ পদ্ধতিতে সহজেই সবজি উৎপাদন সম্ভব। কম জায়গায় অনেক সবজি লাগানো যায়।

৯. আগাছা কম : বর্গাকৃতি বাগানে খুব কম আগাছা হয়। আর যা হয়, তা ছোট থাকতেই তুলে ফেলুন। প্রতি সপ্তাহে আগাছা পরিষ্কার করলে ভালো হয়।

১০. মৌমাছি বা ছোট পাখিকে সাগতম : এসব প্রাণী সবজি বাগানের বন্ধু। গাছে ফল আসতে দারুণ সহায়তা করে তারা। বিশেষ করে শসা উৎপাদনে এদের গুরুত্ব অনেক।

১১. সবজি লেবেল করুন : যে সবজিই লাগান না কেন, এর নাম, প্রজাতি এবং রোপনের সময়ের তথ্য জুড়ে দিন। নয়তো পরে ঝামেলায় পড়তে হবে।

১২. এটা পরীক্ষা : মনে রাখবেন, বাগানটি পরীক্ষমূলকভাবে শুরু করছেন। এর জন্য কিছু গবেষণা করুন নিজ গরজে। কোথায় ভুল হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করুন। এতে করে পরবর্তিতে সমস্যায় পড়তে হবে না। ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করুন। পুরোটাই উপভোগ করুন। সূত্র : ফক্স নিউজ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com