বৃহস্পতিবার  ২৮শে মে, ২০২০ ইং  |  ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি

কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী চলমান আন্দোলন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস স্থিতিশীল রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক মতবিনিময়সভায় এই দাবি জানানো হয়। ‘ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক ওই মতবিনিময় ও আলোচনাসভার আয়োজন করে কোটা সংস্কার আন্দোলন পরিচালনাকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘কোটা সংস্কারের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সরকারের উচিত ছিল হামলার পূর্বেই এই সমস্যার সমাধান করা। হামলা-মামলা বিষয়টি আরো জটিল করেছে। বিষয়টি জটিল না করে সরকারিভাবেই সমাধান করা যেত। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তিসংগত। দ্রুত এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন চাই। আন্দোলনের সময় উপাচার্য বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তবে আমার মনে হয়, আন্দোলনকারীরা হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা যাবে না। ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো ঠিক হয়নি। এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত অরাজনৈতিক আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা সংবিধানের সাথে মিল রেখেই স্লোগান দিয়েছে। কোটা মানেই বৈষম্য। যার যোগ্যতা নেই সে কোটার মাধ্যমেই সুবিধা নেয়। কিন্তু সংবিধানে বলা আছে, যারা পিছিয়ে পড়ে আছে, যার যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ নেই তাদেরকে সাময়িকভাবে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। তবে সেই সুবিধা অল্পসংখ্যক লোকের জন্য এবং কম সময়ের জন্য।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোটা নিয়ে বাণিজ্য করা হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে কোটার কোনো দরকার নেই। আমরা মেধাবীদের দেশের প্রশাসনে দেখতে চাই। তাই সরকারকে এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবিনামা : আলোচনাসভায় আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো : আন্দোলনকারীদের ওপর যারা গুলি চালিয়েছে এবং ক্যাম্পাসে যারা অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা; শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার জন্য একটি স্বায়ত্তশাসিত নিরাপত্তা সেল গঠন করা, ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন করা, ক্যাম্পাসের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে অংশগ্রহণে বাধা না দেওয়া, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কিছু প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রাখা।

সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরের সঞ্চালনায় মতবিনিময় ও আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক খান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান ও সহকারী অধ্যাপক সায়মা আহমেদ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক সৈয়দ রাশিদুল হাসান, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার প্রমুখ।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com