বুধবার  ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

কোরবানির আগেই খাতুনগঞ্জে দাম কমল পেঁয়াজের

কোরবানি ঈদ আসার আগেই চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ আড়তে পাইকারি দরে বিক্রি হয়েছে কেজি ২৭ টাকায়। গত ১২ দিন আগে উত্থান-পতনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছিল পেঁয়াজের কেজি। তখন ক্রেতাদের মধ্যে দাম বাড়া নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার থেকে বাজার কমতে শুরু করে গতকাল রবিবারও সেটি অব্যাহত ছিল। দাম আরো কমার শঙ্কায় বাজারে ক্রেতা নেই। কোরবানির অজুহাতে দাম বাড়ার যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল তা কেটে গেছে।

আড়তে দাম কমলেও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। দাম না কমার সুযোগ লুফে নিয়েছে ভ্যান গাড়ির ভ্রাম্যমাণ খুচরা ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জ থেকে ভ্রাম্যমাণ ভ্যান গাড়িতে করে বিপুল ব্যবসায়ী নগরজুড়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। সেখানে সবচেয়ে ভালো মানের পেঁয়াজ কেজি ৩০ টাকা। জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে পেঁয়াজের বাজার চাঙ্গা হওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল তা এখন আর নেই। বাজারে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পেঁয়াজ কিন্তু ক্রেতা নেই। তাই ঈদের আগেই একেবারে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করে আড়ত খালি করতে চাইছে আড়তদাররা।

তিনি বলেন, তিন দিন ধরে ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ কেজি ২৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা না থাকায় দাম আরো কমবে। কারণ খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম আরো কমার ভয়ে পেঁয়াজ কিনতে চাইছে না। জানা গেছে, দেশে পাইকারি পণ্যের বৃহত্তম বাজার খাতুনগঞ্জে এখন একচেটিয়া ব্যবসা ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজের। চট্টগ্রামের বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের খুব একটা কদর নেই, তাই আড়তদাররা সেগুলো বিক্রি করে না।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে সরাসরি পেঁয়াজ আমদানি করে না। দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আসা পেঁয়াজ কমিশনে চট্টগ্রামের আড়তে বিক্রি করে থাকে।

হিলি স্থলবন্দরে গত সপ্তাহ থেকে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। গত ১২ দিন আগে সেখানে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে সেটি কমে ২৭ টাকায় এবং গত শনিবার সেটি আরো কমে ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

পেঁয়াজ আমদানিকারক মনির হোসেন বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও ঈদকে কেন্দ্র করে ৮০ ট্রাক পেঁয়াজ আসছে। ফলে সরবরাহে কোনো সংকট নেই বলেই দাম কমছে। হিলি স্থলবন্দরের পাশাপাশি ভোমরা, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়েও প্রচুর পেঁয়াজ ঢুকছে দেশে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে সব পেঁয়াজই আসে ভারত থেকে এবং স্থলবন্দর দিয়ে ট্রাকে করে। তবে ভারতে পেঁয়াজ সরবরাহে সংকট তৈরি হলে চীন, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানি করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, কোরবানি ঈদের বাজার ধরতে মিসর থেকে ছয় কনটেইনার পেঁয়াজ আনা হয়েছে। ভারতের পেঁয়াজের দাম বাড়লেই সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড় দেওয়া হবে। কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় সেই আমদানিকারক বিপাকে পড়েছেন।

নগরীর কাজীর দেউড়ী বাজারে খুচরা দোকানি আল মদিনা স্টোরের কর্ণধার নাসির উদ্দিন বলেন, গতকাল রবিবার খাতুনগঞ্জ থেকে সাড়ে ২৭ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনেছি। এর সঙ্গে দেড় টাকা পরিবহন ও ধোলাই খরচ যোগ করলে খরচ দাঁড়ায় ২৯ টাকা। সেটি আমরা কেজি ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছি। কোরবানির আগে চাহিদা নেই বলে বাড়তি পেঁয়াজ আড়ত থেকে আনছি না।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com