রবিবার  ২৯শে মার্চ, ২০২০ ইং  |  ১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ৪ঠা শাবান, ১৪৪১ হিজরী

কাচের মতো ত্বক

ঝকঝকে ত্বক কার না পছন্দ! সেটা যদি হয় গ্লাসের মতো চকচকে, তবে তো কথাই নেই। রূপচর্চায় গ্লাস স্কিন শব্দটি এখন বেশ জনপ্রিয়। বিস্তারিত জানালেন রূপবিশেষজ্ঞরা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

ঢাকায় চলতে-ফিরতে কোরিয়ানদের দেখেছেন হয়তো। ধূলিদূষণের এই নগরেও কোরিয়ান নারীদের ত্বকের জেল্লা যেন ঝলকে ওঠে। এ রকম ত্বকের প্রেমে না পড়ে উপায় কী! কোরিয়ার প্রত্যেক নারীরই নাকি স্বপ্ন থাকে এমন কাচের মতোই ত্বকের অধিকারী হয়ে ওঠার। এটাই তাদের কাছে আসল সৌন্দর্যের মাপকাঠি। এই গ্লাস স্কিন নাকি কোরিয়ার লোকদের কাছে তারুণ্যের প্রতীকও। যে যত বেশি কাচের মতো উজ্জ্বল আর ঝকঝকে ত্বকের অধিকারী, সে নাকি ততই তরুণ। কিন্তু বাংলাদেশে বসে কোরিয়ানদের মতো ত্বক পাওয়া কী সম্ভব? চেষ্টায় কী না হয়। বিন্দিয়া বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ

শারমিন কচি জানান, চাইলে বাংলাদেশে বসেও ত্বকে কোরিয়ান জেল্লা আনা সম্ভব। ধৈর্য ধরে নিয়মমাফিক কিছু যত্ন আর খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে বাংলাদেশি নারীরাও পাবেন গ্লাস স্কিন।

গ্লাস স্কিন আসলে কী

গ্লাস স্কিনের রহস্য কিন্তু নামের মধ্যেই বলে দেওয়া। গ্লাস স্কিন মানে কাচের মতো ঝকঝকে, পরিষ্কার, দাগহীন ত্বক। এই ত্বক হবে কোমল, উজ্জ্বল। গ্লাস স্কিন পরিচর্যা ত্বক এমনভাবে আর্দ্র রাখে, দেখে মনে হয় দারুণ ময়েশ্চারাইজড আর কাচের মতো স্বচ্ছ। এটাকে বেবি লুক বলছেন কেউ কেউ। শিশুদের ত্বক যেমন দেখতে হয়, গ্লাস স্কিনে তেমন লুক আসে। মূলত ত্বকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার জেল্লা বা উজ্জ্বলতার ওপর জোর দেওয়া হয় এতে। মেকআপ ও কোরিয়ান প্রসাধনীর সাহায্যে বিশেষ যত্নে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা হয়।

কিভাবে পাবেন গ্লাস স্কিন

আসলে যতই যা কিছু করুন আর যত দামি প্রডাক্টই ব্যবহার করুন গ্লাস স্কিন আনা বেশ ঝক্কির। কাচের মতো ঝকঝকে ত্বক তো সহজে ধরা দেবে না। রাতারাতি হওয়াও সম্ভব নয়! এর জন্য দরকার কঠোর পরিচর্যা। এর জন্য আপনাকে নিয়ম করে একটা নির্দিষ্ট স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলতে হবে। আর একবার যদি আপনি আপনার ত্বকের জন্য সঠিক জিনিসগুলো বেছে ফেলতে পারেন যেগুলো আপনার ত্বকের যথার্থ বন্ধু হয়ে উঠতে পারবে।

শুরু করুন আজ থেকেই

এক্সফোলিয়েট আর হাইড্রেট কাচের মতো ঝকঝকে আর ফ্ল’লেস ত্বক পাওয়ার এই নাকি গোপন রহস্য! মূলত ত্বকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা উজ্জ্বলতার ওপর জোর দেওয়া হয় এতে। তাই মেকআপ নয়, গ্লাস স্কিন পেতে দরকার ত্বকের নিয়মিত পরিচর্যা। যার প্রথম ধাপে কোরিয়ানরা পরামর্শ দেন ডাবল ক্লিনজিংয়ের। অর্থাত্ ত্বকের ওপরের মরা কোষ দূর করে ভেতরের লেয়ারকে বাইরে তুলে ধরা। এই প্রক্রিয়ায় সকাল ও সন্ধ্যায় ত্বকের গভীর থেকে ময়লা, দূষণ ও মেকআপ দূর হয়ে যায়। এ ধরনের ক্লিনজিংয়ের ক্ষেত্রে ফোম বা সাবানের বদলে ব্যবহার করা হয় ক্লিনজিং বাম, তেল অথবা জেল। তারপর প্রয়োজন লাইট ওয়েট ময়েশ্চারাইজার। ময়েশ্চারাইজিং মাস্ক আর মিস্টও গ্লাস স্কিন পেতে সাহায্য করে। টোনিংয়ের জন্য অ্যান্টি-পলিউট্যান্ট ফেসিয়াল মিস্ট ব্যবহার করতে পারেন। আর নিয়ম করে ব্যবহার করা চাই ব্রাইটেনিং শিট মাস্ক।

তারপর ভালো কোনো একটি হাইড্রেটিং সিরাম নিয়ে মুখে ভালো করে লাগান, দেখবেন মুখ ময়েশ্চারাইজডও হচ্ছে, আবার কাচের মতো মোলায়েমও হয়ে উঠছে। তারপর সারা রাত মুখে ওটা লাগিয়ে রাখুন। ব্যস, এভাবে নিয়মিত পরিচর্যায় ধীরে ধীরে ত্বক হয়ে উঠবে তারুণ্যোজ্জ্বল এবং দাগমুক্ত চকচকে।

শোভন মেকওভার বিউটি ক্লিনিক অ্যান্ড মেকওভার স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা জানান, গ্লাস স্কিন লুকের জন্য দরকার নিয়মিত পরিচর্যা। এতে ত্বক পরিষ্কার রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়। এ জন্য প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ত্বকের যত্নে একটু বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয়। সকালের ত্বকচর্চায় যেমন রাতে জমে ওঠা ক্ষতিকর তেল অথবা শুষ্কতা দূর হয়, তেমনি সন্ধ্যায় খানিকটা সময় ত্বকের যত্ন করলে সারা দিনের ধূলিদূষণ ও ক্ষতিকর ময়লা দূর হয়ে যা। এ ছাড়া কোরিয়ান কিছু বিউটি প্রডাক্ট আছে, যেগুলো নিয়মিত ব্যবহারে গ্লাস স্কিন লুক আনা যায়। এগুলো বেশির ভাগ উপাদানই রাসায়নিক। এ জন্য একটু বুঝেশুনে ব্যবহার করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয় একজন বিউটিশিয়ানের পরামর্শ মেনে চলতে পারলে। তা ছাড়া গ্লাস স্কিন লুক এখন বাংলাদেশেও জনপ্রিয়। এটাকে পুঁজি করে বাজারে বিভিন্ন নকল পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো থেকে সচেতনভাবে দূরে থাকতে হবে।

তাঁর মতে, গ্লাস স্কিনের জন্য জীবনযাপনের ধরনেও পরিবর্তন আনতে হবে আপনাকে। রোদ পরিহার করতে হবে কঠোরভাবে। রোদে গেলে সব সময় ছাতা ব্যবহার করতে হবে। রোদে যাওয়ার আগে ত্বকে ভালো মানের সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। কারো ত্বকে যদি অ্যালার্জি থাকে, তবে খাবারদাবারের বেলায়ও তাকে বাড়তি সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। ত্বক যাতে ময়লার সংস্পর্শে যেতে না পারে সে জন্যও সচেষ্ট থাকতে হবে। আর সারা দিনে প্রচুর পানি পান করতে হবে।