বুধবার  ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৮ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

কম্বোডিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দমন-পীড়নের কারণে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ কম্বোডিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে তাদের ঘরে ফিরতে পারে সে জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের কাছেও আমি সহযোগিতা চাইছি, যাতে এ সংকটের একটি টেকসই সমাধানে আমরা পৌঁছাতে পারি। ’
গতকাল সোমবার কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের পিস প্যালেসে উষ্ণ সংবর্ধনা ও প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। আর কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন আশা করছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একসঙ্গে কাজ করে সহজেই রোহিঙ্গাদের তাদের আবাসভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারবে।

বৈঠক শেষে দুই দেশ ৯টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও একটি চুক্তি সই করে। বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, একমাত্র যে চুক্তিটি সই হয়েছে তা উভয় দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে। এ ছাড়া এমওইউগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের যৌথ বাণিজ্য কাউন্সিল গঠন সংক্রান্ত, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের সহযোগিতা সংক্রান্ত, শ্রম ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ খাত সংক্রান্ত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত, পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত, যুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতিস্তম্ভ এবং স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে সহযোগিতাবিষয়ক, মত্স্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ক, বাণিজ্য প্রসারে এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং রয়াল একাডেমি অব কম্বোডিয়ার মধ্যে একাডেমিক পর্যায়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের উপস্থিতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী, এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম এবং বিআইডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষে স্মারক ও চুক্তিতে সই করেন। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার পক্ষে সই করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। ওই ৯ এমওইউ এবং এক চুক্তির বাইরে দুই দেশের মধ্যে বেসরকারি বিমান চলাচল বিষয়ে আরো একটি চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়েছে কি না তা জানা যায়নি।

যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে সাম্প্রতিক কিছু আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। দুই পক্ষই সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথা বলেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেছি, যা আমাদের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বিনষ্টের হুমকি তৈরি করছে। ’

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে এখন ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বইতে হচ্ছে, যাদের মধ্যে প্রায় সাত লাখ মানুষ মিয়ানমারের সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়েও আলোচনা করেছেন, যারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশে ১৬ কোটি মানুষ থাকার পরও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করে এবং তাদের বিষয়টি নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়ায় আমরা বাংলাদেশের প্রশংসা করছি। ’

কম্বোডিয়ায় তাঁর সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর এবং প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আলোচনার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

কম্বোডিয়ার রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহামনির সঙ্গে রাজপ্রাসাদে সাক্ষাৎ করেছেন। ওই সময় কম্বোডিয়ার রাজা বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দেশের বিদ্যমান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাজা সিহামনি দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়ার রাজাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সম্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্রসচিব মো.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com