বৃহস্পতিবার  ১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং  |  ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

কবি আরিফ মঈনুদ্দীনের ‘ভালোবাসার দিনে প্রেমের পঙক্তিমালা’

কবি আরিফ মঈনুদ্দীনের ‘ভালোবাসার দিনে প্রেমের পঙক্তিমালা
আলোচনা ★ মাইন সরকার

ভালোবাসার দিনে প্রেমের পঙক্তিমালা কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন অন্যপ্রকাশ। সবমিলিয়ে মোট ৩৭ টি কবিতা রয়েছে গ্রন্থটিতে।প্রচ্ছদে সাদাকালোর ভেতর রঙের মিশ্রণ ঘটিয়েছন প্রচ্ছদ শিল্পী মাসুম রহমান।গ্রন্থটিতে নান্দনিক শব্দপ্রয়োগে ফোটে ওঠে প্রকৃতি, দ্রোহ,প্রণয় ও প্রার্থনা। কবি সে তো সবসময়ই প্রেমিক আর কবিতায়ও তুলে ধরেছেন প্রণয়ের স্বারকলিপি।যাপিত জীবনে বিশুদ্ধ কবি উচ্চারণ করেছেন- ভালোবাসা চাই একবিন্দু ভালোবাসা শুধু। কারণ একমাত্র বিনয় ও ভালোবাসা দিয়েই সমগ্র পৃথিবীকে জয় করা সম্ভব। আর সেই বিনয় ও ভালোবাসার ভাষা দিয়েই বিশ্বজয় করতে চান কবি। কবি উচ্চারণ করেন।

‘আমি বাকহীন দাঁড়িয়ে আছি,অসহ্য।
ভালোলাগার পরম শান্তিতে আমার চোখে ফুটেছে একটির পর একটি গোলাপ
কিংবা দেহসৌষ্ঠবে।
তুখোড় মাদকতায় তুমুল চাষবাদ ঘর- গেরস্থালি
তোলপার করা পৌরষ্য কাপানো ঝর।’

এখানে কবিতাকে জটিল না করে বরং সরল ও সার্বজনীন করতে চেয়েছেন কবি।কারণ কবিতা সেতো সত্যের মতোই সুন্দর। যে কবিতা কবিতাপ্রেমি পাঠকের হৃদয়ে সহজেই বোধগম্য হয় সেটাইতো প্রকৃত কবিতা।এখানে কবি আরিফ মঈনুদ্দীনের ‘ ভালোবাসার দিনে প্রেমের প্রঙক্তিমালা’ একটি ভালোবাসার রক্তিম অধ্যায়। বইটি পাঠ করতে করতে আমিও গিয়েছিলাম
কবিতা আর প্রেমের শহরে।

আদি থেকে আজ অব্দি কবিতা নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন কবিরা বিভিন্ন রকম কথা বলেছেন। তবুও আজ পর্যন্ত কবিতার সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা পাওয়া যায়নি।আসলে একজন কবির অনুভূতি, উপলব্ধি ও চিন্তাকে উপমা-চিত্রকল্পের সাহায্যে উদ্ভাসিত করে এবং যথা উপযুক্ত শব্দের ব্যবহারে সুমধুর শ্রুতিযোগ্যতা থাকতে হয়। যুগে যুগে কালে কালে কবিতার কাঠামোগত কিংবা শরীরগত বদল হয় ঠিকই কিন্তু একটি চিরন্তন সত্য প্রকাশই প্রকৃত কবিতা হয়ে ওঠে।যা আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতায়ও বিদ্যমান।
কবিতার রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং কবিতাকে সংজ্ঞায়িত করার প্রাথমিক প্রচেষ্টা করেছিলেন এরিস্টটল। এরিস্টটল বীর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এর শিক্ষক ছিলেন।আবার বিখ্যাত দার্শনিক প্লেটোর ছাত্র ছিলেন। এরিস্টটল কবিতাকে বলেছেন ” কবিতা দর্শনের চেয়ে বেশি,ইতিহাসের চেয়ে বড়ো।এরিস্টটলকে সাহিত্য সমালোচনার জনক বলা হয়।এরিস্টটল হোমারকে বলেছেন কবিশ্রেষ্ঠ কারণ হোমার থেকে গ্রীক সাহিত্যের ইতিহাস শুরু। হোমার পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দুটি মহাকাব্য ইলিয়াড ও ওডিসির রচিয়তা। এরিস্টটল কবিতাকে ডিফাইন করতে যেয়ে কোথাও কোথাও প্লেটোকেও যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছিলেন, প্লেটোর কথায় কাব্যের বিরোধিতার আভাস পাওয়া যায়। প্লেটো মনে করতেন কাব্য সত্য থেকে তিনধাপ দূরে। সত্য হলো কতগুলো ভাব বা আইডিয়া। বস্তজগত তার অনুকরন। দ্বিতীয়ত কাব্যের আবেদন মনের দুর্বলতার কাছে,মনের শ্রেষ্ঠত্বের কাছে নয়। সে জন্যেই কাব্য আমাদের বুদ্ধি, যুক্তি ও চিন্তাকে বিনষ্ট করে। তৃতীয়ত কাব্য সমাজ জীবনের আদর্শের বিরোধিতা হতে পারে। এরিস্টটল প্লেটোর প্রতিটি বক্তব্য সম্পর্কে গভীরভাবে ভেবেছেন। প্লেটোর চিন্তাজগতকে আশ্রয় করেই তার কাব্য চিন্তার জগত গড়ে উঠেছিল। এরিস্টটলের কাছে এই প্রত্যক্ষ জগৎ সত্য,মায়া নয়।অতএব ,তাঁর মতে কাব্য মূল থেকে আদৌ তিনধাপ দূরে নয়। দ্বিতীয়ত কাব্য আমাদের আবেগকে জাগায়, চিন্তাকে উদ্বেলিত করে এবং উত্তেজিত করে এবং একথা সত্য। অর্থাৎ মানুষকে জানবার ও বুঝবার পক্ষে তার মূল্য অপরিসীম।
তৃতীয়ত কাব্য ও বাস্তব জীবনের ভালো মন্দ বিচারের মানদন্ড হবে স্বতন্ত আবার মধ্যযুগীয় কবিতার পার্টান ছিলো একরকম,গীতলতায় পরিপূর্ণ এবং অন্ধ ধ্যান ধারনায় পরিপূর্ণ। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাংলা কবিতা আজকের শতকে এসে বদল ঘটেছে যেমন বর্তমান কবিতায় ওঠে আসছে সামন্তবাদী জীবনদর্শন, পুঁজিবাদী চেতনা,ঔপনিবেশিক আর্থ- সামাজিক প্রেক্ষাপট, সাম্প্রদায়িকতা,বিভাগোত্তর কালের সমস্যা সংকট,স্বাধিকার সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও গনতান্ত্রিক আন্দোলন। এইসব বিষয়ে পরিপূর্ণ বর্তমান বাংলা কবিতায় বিষয় রুপে এসেছে বৈচিত্র্য
‘ভালোবাসার দিনে প্রেমের পঙক্তিমালা’একটি সমৃদ্ধ কাব্যগ্রন্থ।যার ভেতরে উঁকি দেয় নিসর্গের রহস্য,গাম্ভীর্যপূর্ণ ভাষা,অভিনব শব্দচয়ন ও বহুমাত্রিক বিষয়বৈচিত্র্যের গভীরতা এবং অন্তর রসে সিক্ত জীবন উপলব্ধির পাঠ।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত *

*

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com