বুধবার  ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং  |  ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ২২শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

ওমিক্রনের কড়াকড়িতে বেনাপোলে কমেছে পাসপোর্টযাত্রী

ভারতে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে কমেছে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত। ভারত যেতে সড়ক পথে ভিসার আবেদন করলেও মিলছে আকাশ পথের ভিসা।

এদিকে, আকাশ পথে বিমান ভাড়া ৩ গুণেরও বেশি আবার এক সপ্তাহের আগে মিলছে না টিকিট। ডবল ডোজ টিকা নেওয়ার পরও একবার ভারতে যেতে দুবার করোনা পরীক্ষা করাতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে যাত্রীদের। নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে এলেও চেকপোস্টে নানা ভাবে অর্থ আদায়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ পাসপোর্টযাত্রীদের।

এতে জরুরি প্রয়োজনে সময় মতো যাতায়াত করতে না পেরে চিকিৎসা, ব্যবসা ও শিক্ষাখাত বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাসপোর্টযাত্রীরা। গত সপ্তাহে দিনে যাত্রী যাতায়াতের পরিমাণ তিন হাজারের কাছাকাছি থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে হাজারের মত। চলতি সপ্তাহের প্রথম ৫দিনে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়াত করেছেন ৫ হাজার ৬৮৭ জন। এর মধ্যে ভারতে গেছে ২ হাজার ২৬৭ জন ও ভারত থেকে এসেছে ৩ হাজার ৪২০ জন।

বছরের শুরুর দিন ভারতে গেছে ৩৭৫ জন এসেছেন ৭০৯ জন, পরদিন ভারতে গেছে ৪৭৮ জন এসেছেন ৮৬৪ জন, ৩ জানুয়ারি ভারতে গেছে ৪৯১ জন এবং এসেছেন ৬১১ জন। এছাড়া ৪ জানুয়ারি ভারতে গেছে ৪৪২ জন এসেছেন ৬৩৯ জন এবং পরদিন ভারতে গেছে ৪৮১ জন এসেছেন ৫৯৭ জন।

জানা গেছে, চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা আর ভ্রমণে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ১৮ লাখ পাসপোর্টযাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করতেন। ভারতে করোনা সংক্রমণ দেখা দিলে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত। এতে জরুরি প্রয়োজনে ভারতে যেতে না পেরে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যাত্রীরা। গত দুই বছরেও পিছু ছাড়েনি করোনা। এক এক সময়ে এক একটি নতুন রূপে সংক্রমণ ছড়িয়ে চলেছে।

এদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে সরকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দর বন্ধের কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন মোকাবিলায় বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণায় গত সোমবার সকাল থেকে বাংলাদেশের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। ভারত ফেরত ১২ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীদের র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। মেডিক্যাল ও বিজনেস ভিসা (আমদানি রপ্তানি ডকুমেন্ট) ছাড়া কাউকে ভারতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না সে দেশের ইমিগ্রেশন। ভরত থেকে আসা সকল যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের শরীরে করোনার উপসর্গ পাওয়া গেছে। তাদের যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চ মহলের প্রতিনিধিরাও বেনাপোল চেকপোস্ট পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য কর্মীদের ভারত ফেরত পাসপোসপোর্টযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার শুভঙ্কর কুমার মন্ডল বলেন, ওমিক্রন সংক্রমণ রোধে ভারত ফেরত সন্দেহভাজন যাত্রীদের করোনার র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত ১৫ দিনে ভারত ফেরত সন্দেহভাজন ৬৪ জন বাংলাদেশিকে পরীক্ষা করে চারজন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের রাখা হয়েছে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা রেড জোনে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল বলেন, বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্থলপথে যাত্রী সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত পাঁচদিনে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়াত করেছেন ৫ হাজার ৬৮৭ জন। ওমিক্রন সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করেছে বেনাপোল চেকপোস্টসহ বন্দর এলাকায়।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com