বৃহস্পতিবার  ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং  |  ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ২২শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

এফবিসিসিআই সভাপতি বললেন ‘আর লকডাউন নয়’

দেশে আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এমন অবস্থায় মহামারির তৃতীয় ঢেউ প্রতিরোধে সরকার আরোপিত বিধি-নিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। আজ বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, মহামারি প্রতিরোধে লকডাউন কোনো সমাধান নয়, বরং এতে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি।

বর্তমানে দেশের রপ্তানিশিল্পে প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আবারও লকডাউনের সিদ্ধান্ত এলে শিল্প খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি ব্যাহত হবে। যা অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যেসব দেশ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেসব দেশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। তাই লকডাউন না দিয়ে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে চলাই এই মহামারি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এত দিন বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ছিল পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব। কিন্তু এখন পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রো রেল এবং ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে দেশে বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো তৈরি হয়েছে।

এ সময় ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে আরো বেশি ঋণ দেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখার বিধান করার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা জরুরি। বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই হয় ছয়টি ব্লকের মধ্যে। তাই রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি), ইউরোপীয় ইকোনমিক ইউনিয়ন, ইউএসএ, ইইউ, ইউকে ও আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট- এই ছয়টি ব্লকের সঙ্গে এফটিএ করা যেতে পারে।

এলডিসি-উত্তর সময়ে দরকষাকষির জন্য বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে এফবিসিসিআই ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন খাতের ১৮ জন বিশেষজ্ঞকে প্যানেল উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণ ও মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন নীতি প্রণয়নে এফবিসিসিআই আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ ও ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণ, গ্লোবাল মার্কেট অ্যাক্সেস ২০২১-২০২৬, টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগব্যবস্থা ও টেকসই রপ্তানি উন্নয়ন, ভর্তুকি ও প্রণোদনা শীর্ষক চারটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

সরকারের বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বেসরকারি খাতের। কিন্তু এসব নীতি প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট খাতের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না। তাই বাস্তবায়নের সময় ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয়। তাই নীতি প্রণয়নের আগে খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার ও নীতির প্রভাব মূল্যায়নের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাবীব ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com