সোমবার  ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

উৎপাদনের সঙ্গে পণ্যের বাজারও বাড়াতে হবে

রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য চাহিদা দেখে নতুন নতুন পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তাঁর সরকার দেশের সব জেলা-উপজেলায় এসএমই পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করবে। যেগুলো এসএমইশিল্পের প্রসারে উদ্যোক্তাদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিসের সেবা প্রদান করবে।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ষষ্ঠ জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৮-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির লিখিত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তাঁর ভাষণ দেননি। এ কারণে অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা প্রধানমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যের অংশবিশেষ পড়ে শোনান।

লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিভিন্ন দেশের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির আত্মীকরণ এবং পণ্যের মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পণ্যের বাজার অনুসন্ধান এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেসব পণ্য উৎপাদন করতে হবে।

মুষ্টিমেয় কয়েকটি পণ্যের ওপর রপ্তানিনির্ভরশীলতা কমিয়ে আমাদের এখন রপ্তানি বহুমুখীকরণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’

উদ্যোক্তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন থেকে শুরু করে ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাবসায়িক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা, পরামর্শক সেবা ইত্যাদি ওয়ানস্টপ সেন্টার থেকে গ্রহণ করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে এসএমইর গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএমই সবচেয়ে শ্রমঘন ও স্বল্প পুঁজিনির্ভর খাত হওয়ায়, এই খাতের মাধ্যমে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ

শিল্পই ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অন্তর্ভুক্ত। তাই জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁর সরকার ‘জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬’-তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে শিল্প উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের গৃহীত কর্মসূচির ফলে দেশব্যাপী টেকসই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের দ্রুত প্রসার ঘটছে। উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির কারণে প্রতিনিয়ত নারীরা ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করছে। ফলে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির অনেক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশে কুটিরশিল্পের সুদীর্ঘ গৌরবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, নকশি কাঁথা এবং সিলেটের শীতল পাটি ইতিমধ্যে ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় স্থান পেয়েছে। উদ্যোক্তারা এসব পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে পারেন।

এসএমই ফাউন্ডেশন এবং এফবিসিসিআই যৌথভাবে গতকাল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজক। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, শিল্পসচিব মো. আব্দুল্লাহ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কে এম হাবিবুল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সফল এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে পুরস্কারও বিতরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সূত্র : বাসস।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com