শুক্রবার  ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ ইং  |  ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ২৬শে রবিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

উৎপাদনমূল্যে ভ্যাকসিন বিক্রি করে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, অন্যরা…

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা এক বিজ্ঞানী ‘লাভে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিক্রি’ করার সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে এসেছেন। ফিনান্সিয়াল টাইমসের নতুন এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানা গেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকাই একমাত্র ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান যারা উৎপাদনমূল্যে ভ্যাকসিন বিক্রি করে এসেছে। আর ফাইজার বা মডার্নার মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন বিক্রি করেছে- তাদের লাভের অংশ রেখে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এয়ারফিনিটির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে, অ্যাস্ট্রাজেনেকা এ পর্যন্ত ২ বিলিয়ন ডোজ কভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। এর উপরে আছে চীনের সিনোভ্যাক। তারা ২.১ বিলিয়ন ডোজ করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ফাইজার বায়োএনটেক, তাদের সরবরাহ ১.৯৬ বিলিয়ন ডোজ।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে ভ্যাকসিন উৎপাদন করেছে। গত সপ্তাহে তারা ঘোষণা করে, এখন থেকে ভ্যাকসিনের জন্য তারা আরো বেশি চার্জ নেওয়া শুরু করবে। মাঝে মাঝে লাভ-ও নেবে। যদিও এখনো এরা কম আয়ের দেশগুলোতে ভ্যাকসিন বিক্রি করবে। ওষুধ কম্পানিটি জানিয়েছে, তারা চতুর্থ ত্রৈমাসিকে সরবরাহ করবে এমন বেশির ভাগ ভ্যাকসিন কোনো ‘মার্কআপ’ ছাড়াই থাকবে।

গবেষক বিজ্ঞানী স্যান্ডি ডগলাস ফিনান্সিয়াল টাইসমকে বলেন, আমরা কেবল তখনই বলতে পারি যে মহামারিটি আসলে শেষ যখন বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিনগুলোর বণ্টন হবে বিস্তৃত, সমতাভিত্তিক এবং সকলের জন্য। আর এ কথা বলতে দ্বিধা নেই, অ্যাস্ট্রাজেনেকা করোনা মোকাবেলায় অন্য যেকোনো কম্পানির চেয়ে বেশি কাজ করেছে। তিনি আরো বলেন, অন্যরা মহামারির পিক-টাইমে ধনী বিশ্বকে ভ্যাকসিন বিক্রির টার্গেট করে বিপুল মুনাফা করেছে।

বিজনেস ইনসাইডার জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা ২০২১ সালের শেষ নাগাদ কভিড-১৯ ভ্যাকসিন থেকে প্রায় ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবে বলে আশা করছে।

যদিও কভিড-১৯-এর গুরুতর প্রভাবগুলো এখন টিকা দেওয়ার মাধ্যমে অনেকাংশে এড়ানো যায়; তবুও ধনী-দরিদ্র উভয় দেশেই এখনো বহু মানুষ প্রতিনিয়ত করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ আজ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩ হাজার ২৯২ জন নতুন কভিড রোগীর সন্ধান মিলেছে; যা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ দৈনিক সংক্রমণ বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশের বিশাল অংশে কভিড-১৯ টিকা দেওয়ার হারের সাথে লড়াই করছে। কভিড-১৯ টিকা দেওয়ার হারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে ৫৫তম। অনেক মার্কিনিই মনে করে হয় ভ্যাকসিনগুলো ক্ষতিকারক নয়তো পুরো মহামারিটিই একটি প্রতারণা। প্রায় ৩৮ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন যে তারা সম্ভবত বা অবশ্যই কভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাবেন না। ওদিকে ৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট একই কথা বলেছেন।

ধনী দেশগুলো এখন এটাকে সত্য হিসেবেই ধরে নিয়েছে যে- কভিড-১৯ নির্মূল হবে না এবং আগামী বছরে এটি নিয়মিত হয়ে উঠবে। এমন অনেক রোগের মধ্যে একটি যা সম্ভবত বার্ষিক টিকা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে ওঠার মতো। প্রকৃতপক্ষে, ফাইজারের পরীক্ষামূলক অ্যান্টিভাইরাল করোনার লক্ষণগুলো শুরু হওয়ার তিন দিনের মধ্যে নেওয়া হলে ৮৯ শতাংশ রোগীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস করে।

কভিড-১৯ থেকে গুরুতর অসুস্থ হওয়া এড়াতে সর্বোত্তম উপায় হলো টিকা নেওয়া বা যদি আপনি এ রোগে আক্রান্ত হন তবে নতুন অ্যান্টিভাইরালগুলোর একটি পান। এ কথা ঠিক যে ফাইজার এবং এখন অ্যাস্ট্রাজেনেকার মতো কম্পানিগুলো লাভ করতে চলেছে। কিন্তু আমরা এখন যে পৃথিবীতে বাস করি এখানে এটাই স্বাভাবিক। যদিও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন থেকে অর্থ উপার্জন শুরু করতে চলেছে। তবে ওরা অন্তত একটা কাজ করেছে- পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডোজ করোনার ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে।

ডগলাস ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আমি দেখতে চাই যে অন্য কোনো কম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার সামর্থ্য এবং ন্যায়সঙ্গত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে। আমি মনে করি না যে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর কোনো লোক যারা এখনো ভ্যাকসিন পায়নি তারা ধনী দেশগুলোতে অ্যাস্ট্রাজেনেকা কতটা মুনাফা করছে- তা নিয়ে চিন্তিত নয়।

এবং ডগলাস সম্ভবত এ বিষয়ে সঠিক।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com