মঙ্গলবার  ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং  |  ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ  |  ১৭ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

ঈদের দিনও পাক-ভারত সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি

পাকিস্তান ও ভারতের বিতর্কিত জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনও চলে উভয় পক্ষের লড়াই। গোলাগুলিতে কয়েক বেসামরিক নাগরিক আহত হন। ভারতীয় অংশে ঈদুল ফিতর উদযাপনের দিন আহত হন ৫ বেসামরিক মানুষ। কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পাকিস্তান সীমান্তে কতোজন আহত হয়েছেন, সে ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে কোন তথ্য জানা যায়নি। ঈদের আনন্দের মধ্যে গোলাগুলির খবরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলসমূহে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলা শুরুর ব্যাপারে উভয় পক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এবিসি নিউজ। ভারতের প্রতিরক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনীষ মেহতা বলছিলেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী শেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ এলাকায় এ সময় মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছিলেন। এ সময় পাকিস্তানি সেনারা ভারতীয় সেনাদের সীমান্ত চৌকি ও বেসামরিক এলাকাসমূহ লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ আনেন ওই মুখপাত্র। ফলে, জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
এর আগে প্রতি বছরই ঈদুল ফিতর উদযাপনে পাক-ভারত সীমান্তে সৌহার্দ্যই পরিলক্ষিত হয়েছে। চলেছে মিষ্টি বিতরণ। কিন্তু, এবার ঘটলো ব্যতিক্রম। এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলছে, ভারতীয় সেনারা বন্দুক, রকেট, মর্টার ও ভারি মেশিন গানের সাহায্যে হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার এক বিবৃতিতে একে ‘উস্কানিমূলক কর্মকা-’ বলে অভিহিত করেছে। এতে বলা হয়, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি রাশিয়ায় যে বোঝাপড়ায় উপনীত হয়েছেন, তার সঙ্গে এ ঘটনা বিরোধপূর্ণ।
এ মাসের শুরুতে রাশিয়ায় একটি সম্মেলনে অংশ নেয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এক বৈঠকে মিলিত হন। দেশ দুটির শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আলোচনায় বসবেন বলে সম্মত হন তারা। পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশ রাষ্ট্র দুটির শীর্ষ দুই নেতা ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়েও সম্মত হন। নওয়াজের পক্ষ থেকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণও সানন্দে গ্রহণ করেন মোদি।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com