শিরোনাম
মঙ্গলবার  ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ  |  ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ  |  ১৫ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

আফগানিস্তানে ফিরলো শরিয়া আইন

গত মাসে আফগানিস্তানের বিচার ব্যবস্থায় পূর্ণ শরিয়া আইন জারির নির্দেশ দেন তালেবানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। এরপর দেশটিতে শরিয়া আইন অনুযায়ী বিচার হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

২০০১ সালে তালেবান ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর আফগানিস্তানে নতুন বিচার ব্যবস্থা গঠনে কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। যা ছিল ইসলামি ও ধর্মনিরপেক্ষ আইনের মিশেল। যাতে থাকতে যোগ্য কৌঁসুলী এবং বাদীর আইনজীবী ও বিচারক।

বিচার ব্যবস্থায় অনেক নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তারা কট্টরপন্থী তালেবান জঙ্গিদের অনেক মামলা পরিচালনা করেছেন এই নারীরা। পারিবারিক আদালতে অনেক বেশি লিঙ্গ সমতা এসেছিল।

কিন্তু গত বছর ক্ষমতা নেওয়ার পর তালেবান এই পুরো ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। এখন রায় ও শাস্তি কার্যকরের দায়িত্ব পালন করছেন সব পুরুষ মাওলানা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিনিধিরা আফগানিস্তানের গাজনি প্রদেশের একটি শরিয়া আদালতের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান। এএফপির প্রতিনিধিরা যখন গাজনির সেই আদালতে যান তখন হত্যার দায়ে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিচার চলছিল। নভেম্বরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এখন তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

আদলতের ভেতরের চিত্রটা ছিল এরকম— মাথায় টারবাইন (পাগড়ি) পরিহিত মোহাম্মদ মুবিন নামে এক তরুণ বিচারক ছোট একটি ঘরে (আদালত) মাটিতে বসে আছেন। বিচারকের সামনে দণ্ডপ্রাপ্ত বৃদ্ধকে হাজির করা হয়েছে। বৃদ্ধ তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসেছেন। মাঝে তাদের মধ্যে কিছু কথোপকথন হয়।

এদিকে গজনি আদালতের প্রধান উমারির দাবি, আগের সরকারের বিচার প্রক্রিয়ার চেয়ে শরিয়াহ আইন অনেক ভালো। যদিও স্বীকার করছেন কর্মকর্তাদের আরও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন রয়েছে।

taliban

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের র‍্যাংকিং অনুসারে, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ১৮০টি দেশের মধ্যে আফগানিস্তানের অবস্থান ১৭৭তম। দেশটির আদালতগুলো ঘুষের জন্য কুখ্যাত এবং বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকে।

উমারির দাবি, ‘ইসলামি আমিরাত স্বচ্ছতা প্রদর্শন করছে।’ আফগানিস্তানকে ইসলামি আমিরাত নামেই অভিহিত করে

অনেক আফগান বলছেন, ফৌজদারি মামলা নিয়ে শরিয়াহ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পক্ষে তারা। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়া কম দুর্নীতিপ্রবণ।

আইনবিদরা যুক্তি তুলে ধরে বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় ফৌজদারি মামলাগুলোতে ভুল বিচার হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

নিরাপত্তা আশঙ্কায় উদ্বিগ্নতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বেকার প্রসিকিউটর বলেন, কিছু কিছু মামলার রায় দ্রুত হলে ভালো। কিন্তু বেশিরভাগ মামলায় তা হঠকারী রায়ের দিকে নিয়ে যায়।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com