শিরোনাম
সোমবার  ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং  |  ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ  |  ১৯শে সফর, ১৪৪৩ হিজরী

অস্ট্রেলিয়ার পর নিউজিল্যান্ডও… সবাইকে কৃতিত্ব দিলেন মাহমুদ

২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া ম্যাচেও উদ্বেগ ছিল। তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয় ছড়িয়েছিল আশঙ্কা। কিন্তু গতকাল এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সব উদ্বেগ, আশঙ্কা মুছে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের পর এই জয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে দলের প্রতিটি সদস্যকে কৃতিত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ।

kalerkanthoতবে সাফল্যের পথ তো রচিত হয়েছে বোলিং ইউনিটের হাত ধরে। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ম্যাচসেরার পুরস্কারজয়ী নাসুম আহমেদকে দিয়ে শুরু, আর শেষ মুস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে। তাই কৃতিত্ব বণ্টনের বেলায় বোলারদের কথাই প্রথমে বলেছেন মাহমুদ, ‘অল্প রানে ওদের (নিউজিল্যান্ড) আটকে দিতে আমরা দুর্দান্ত বোলিং করেছি। সব বোলারই ভালো করেছে। বিশেষ করে নাসুমকে কৃতিত্ব দিতেই হচ্ছে। মেহেদী খুব ভালো বোলিং করেছে। মুস্তাফিজ অসাধারণ। সাকিব, সাইফউদ্দিনও ভালো বোলিং করেছে।’kalerkantho

৯৩ রানের বাধা টপকাতে ম্যাচের শেষ ওভারে নিয়ে যাওয়া দেখেই বোঝা যায় বোলিংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং। তবে কে না জানে মিরপুরের উইকেটে ব্যাটিং অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন। মাহমুদও জানেন, ‘ব্যাটসম্যানরা তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। এই লক্ষ্য (৯৪ রান) তাড়া করতে আমাদের একটা ভালো জুটি দরকার ছিল। আমি ও নাঈম চেষ্টা করেছি সেই জুটি গড়তে। নাঈম অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে। আফিফ দারুণভাবে শেষ করেছে। আমাদের জুটি গড়তে শুরুতে ১০, ২০, ৩০ করে এগিয়ে ম্যাচটা কাছে আনার লক্ষ্য ছিল, যেন ম্যাচটা বের করে আনতে পারি।’

কৃতিত্ব বিতরণে দলের কাউকে বাদ রাখেননি মাহমুদ, ‘এই জয়ের কৃতিত্ব টিম ম্যানেজমেন্ট ও খেলোয়াড়দের সবার, তারা যেভাবে খেলেছে এবং যেভাবে ফিরে এসে জয়ের ক্ষুধা দেখিয়েছে।’ জেতা সিরিজে আরেকটি ম্যাচ আছে বাংলাদেশের হাতে। তবে আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হওয়া আগামীকালের সেই ম্যাচটিও জিততে চান মাহমুদ, ‘আমাদের এখনো একটি ম্যাচ জয়ের সুযোগ আছে। আশা করছি, আমরা আরো উন্নতি করে আরো ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে ফিরতে পারব। সেই ম্যাচটি ভালোভাবে জিততে চাই।’

টানা দুটি ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ের পর দারুণ অনুপ্রাণিত দেখাচ্ছিল নিউজিল্যান্ডকে। কিন্তু গতকাল সেটির প্রতিফলন মাঠে না দেখে কিছুটা হতাশ সফরকারী দলের অধিনায়ক টম লাথাম, ‘আমার মনে হয় আমরা একটু পিছিয়ে। আমাদের চেষ্টা ছিল ১০০-১১০ রান করা। তবে বাংলাদেশ যেভাবে ব্যাটিং করেছে, ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। শুরুতে কয়েকটা উইকেট হারানোর পর ওরা খেলাটা আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। যেভাবে শেষ করেছে মাহমুদ উল্লাহ, বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিতে হবে।’

তবে সিরিজপূর্ব আলোচনায় যতটা পিছিয়ে রাখা হয়েছিল সফরকারীদের, মাঠের ক্রিকেটে কিন্তু ততটা দেখা যায়নি। এতে সন্তুষ্টিও আছে লাথামের মনে, বিশেষ করে গতকালের ম্যাচের পর, ‘ম্যাচটা শেষ ওভার পর্যন্ত নিতে পারাও কম নয়। (উইল) ইয়াং দারুণ ব্যাটিং করেছে। ওর ব্যাটেই আমরা লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছি। আসলে শুরুতেই বেশ কিছু উইকেট হারানোয় ছন্দ ধরে রাখা কঠিন ছিল। এর পরও আমি খুশি এটা দেখে যে ভিন্ন কন্ডিশনেও আমরা মানিয়ে নিতে পারছি। আমাদের দলটা তরুণ, খুব বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অভিজ্ঞতা নেই। আমাদের অনেকে এখানে (বাংলাদেশে) কখনো খেলিনি।’

এই ক্রমোন্নতির কারণেই শেষ ম্যাচে ভালো কিছুর আশা করছেন টম লাথাম, ‘আমরা আশা করছি, পঞ্চম ম্যাচে প্রায় নিখুঁত একটি নৈপুণ্য দেখাতে পারব।’

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com