বুধবার  ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং  |  ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ  |  ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

অশ্রুভেজা চোখে ক্রিকেটকে বিদায় বললেন উমর গুল

বিদায়টা এভাবে হবে, তা হয়তো কখনো কল্পনাও করেননি পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার উমর গুল। চোখের জলে সবধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

নিজের ক্যারিয়ারের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া হয়নি গুলের। শুক্রবার পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে সাউদার্ন পাঞ্জাবের কাছে নক আউট পর্বে হেরে গেছে উমর গুলের দল বেলুচিস্তান। এরপরই অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

ম্যাচশেষে কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছেড়েছেন গুল। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলার পর নিজের আবেগ সংবরণ করতে পারছিলেন না পেশোয়ারে জন্ম নেয়া এ পেসার। সতীর্থ-প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন। দুই দলের খেলোয়াড়রা মিলে দেন গার্ড অব অনার।

পরে বিদায়ী বক্তব্যে গুল বলেন, ‘প্রায় দুই দশক ধরে নিজের ক্লাব, শহর, প্রদেশ এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা অনেক বড় সম্মানের। আমি শুরু থেকে শেষপর্যন্ত ক্রিকেট উপভোগ করেছি। এটা আমাকে কঠোর পরিশ্রম, শ্রদ্ধা, আত্মনিবেদন ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা দিয়েছে। এ যাত্রায় আমি এমন অনেক মানুষের সঙ্গ পেয়েছি, যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে আমাকে। আমি তাদেরকে এবং আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

‘আমার পুরো ক্যারিয়ারে সমর্থন দিয়ে যাওয়া ভক্তদের আমি অনেক ধন্যবাদ জানাই। তারা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা ছিল, বিশেষ করে যখন কোনোকিছু আমার পক্ষে ছিল না। সবশেষ আমি আমার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যাদের সাহস-অনুপ্রেরণায় আমি ক্রিকেট খেলতে পেরেছি এবং আত্মত্যাগের কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করতে পেরেছি। আমি কিছুদিন ক্রিকেট থেকে বাইরে পরিবারের সঙ্গে থাকব। তবে একেবারে ক্রিকেটের বাইরে থাকা অনেক কঠিন। আবার ফিরব ক্রিকেটে।’

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দিয়ে পেশাদার ক্রিকেটে পা রাখা গুল ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন। এক ঠিক এক বছর পর জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যান তিনি। ওই সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসদের মতো তারকারা অবসরে চলে যাওয়ার পর একটা বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান দল।

২০০৩ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় গুলের। একই বছরের আগস্টে করাচিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকও হয়ে যায় তার। টেস্টে ৪৭ ম্যাচ খেলে ৩৪.০৬ গড়ে ১৬৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ১৩০ ওয়ানডেতে ২৯.৩৪ গড়ে তার ঝুলিতে আছে ১৭৯টি উইকেট।

বোলিংয়ে গুলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ইয়র্কার। তার পারফেক্ট ইয়র্কার ব্যাটসম্যানদের জন্য রীতিমত দুঃস্বপ্নের কারণ ছিল। এজন্য টি-টোয়েন্টিতে তার গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। এই ফরম্যাটে তার সাফল্যও বেশি। জাতীয় দলের জার্সিতে ৬০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৬.৯৭ গড়ে তার উইকেটসংখ্যা ৮৫টি। তার চেয়ে এগিয়ে আছেন মাত্র চারজন বোলার- লাসিথ মালিঙ্গা (১০৭), শহিদ আফ্রিদি (৯৮), সাকিব আল হাসান (৯২) এবং রশিদ খান (৮৯)।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসরে পাকিস্তানের সাফল্যের পেছনে অন্যতম অনুঘটক ছিলেন গুল। ২০০৭-এর আসরে রানার্সআপ হওয়া পাকিস্তান পরের আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২০০৭ সালের আসরে ১৩ উইকেট নিয়ে বোলারদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন গুল। দুই বছর পর সমান উইকেট নিয়ে একই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। ধারাবাহিকতার এমন উদাহরণ সত্যিই বিরল।

শুধু তাই না, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য ফাস্ট বোলিংয়ের স্মৃতি ক্রিকেটভক্তদের মনে বহুদিন টিকে থাকবে। ওই ম্যাচে ৩ ওভার বল করে মাত্র ৬ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এই ডানহাতি।

২০১৫ বিশ্বকাপে উপেক্ষিত হওয়ার পরও পাকিস্তান ওয়ানডে দলে ফেরার লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন গুল। সর্বশেষ ২০১৬ সালে সর্বশেষ পাকিস্তানের জার্সিতে খেলতে দেখা গেছে তাকে। এরপর জাতীয় দলে আর ডাক না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিতেন নিয়মিত। এবার খেলোয়াড়ি জীবনকেই বিদায় বলে দিলেন এই অভিজ্ঞ পেসার।

একটি প্রতি উত্তর ট্যাগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com